
লাশঘর
লাশঘরে হিম ঠান্ডা নিরবতা ভয়
লাশঘর খালি থাক, হোক শব্দময়
অপঘাতে মৃত্যু এলে লাশঘর ভরে
আমাদের যেন বন্ধু ভালো মৃত্যু হয়
লাশঘরে মনোরঞ্জন ডোম ময়না তদন্ত করে
কাটাকুটি সারা দেহে, করে কি অন্তরে?
ভুস করে ভুঁড়ি ফাঁক,গৃহ গন্ধময়
লাশঘরে আত্মারাম দেহখাঁচা ছাড়ে!
লাশঘরে আলো জ্বলে বত্রিশ পাওয়ার
সাজানো বিছানাজুড়ে ভুতুরে কারবার
কোথাওবা মরা রক্ত ঋণ শোধ করে
আমাদেরও দিন আসে লাশঘর যাওয়ার?
আমাকে কখনো যদি আনো লাশঘর
দেহটাকে শুইয়ে দিও ন্যাপথলিনের পর
আত্মা উড়ে বসতে যেন পারে জানালায়
সারারাত্র দৃষ্টি যাবে জ্যোৎস্নার উপর।
জলোচ্ছ্বাস
বসে আছি ভিজে বিড়ালের বেশে যুবুথুবু,
পাহাড়ের সাঙ্গু নদী নেমে আসে ধেয়ে
বহদ্দারহাট সড়কে কী বাদুরতলার ফুটপাতে।
আমিতো ভিজেছি আজ ব্যাপ্টাইজ হবো নাকি …
তোমার প্রসন্ন প্রেমে বেডরুমে জলোচ্ছ্বাস নেমে আসে
ডিসেকশন
ফরমালিন ঝাঁঝ থেকে চোখ মেলে দেখি
কাষ্ঠতুল্য শুয়ে আছে ক্যাডাভার বুক-উঁচু টুলের উপরে
মেডিকেল ছাত্রগণ ফরসেপে চামড়া টেনে ধরে, স্ক্যা
ল্পেলে পোঁচ দেয়, সে তবু অনড়…
চোখের কর্ণিয়া দুটি নিষ্পলক নিরবে শাঁসায়
বনবাস
বনবাস পেলে আমিওতো দুর্বাশা মুনি –
আমারও বাঘের সাথে খুনসুঁটি সখ।
সারাদিন জাগতিক হিসেব নিকেশ –
পাশার ঘুঁটিকে ঘিরে ঘুরপাক ঘুরপাক…
জড়ভরতের বেশে জেঁকে আছি আপন শৃঙ্খলে;
মন বড়ো বনবাস চায়, বনবাস …
পঞ্চাশে পড়েছে পা
পঞ্চাশে পড়েছে পা
ভুতের পাঁচ পা দেখে বেড়ে ওঠা আমার শৈশব,
বেড়েছে কি বয়স দু’মুঠো?
মাথার ভেতরে শুধু মালাপাতি, পুতুলের বিয়ে, ছি কুতকুত
আছারগুলার ফড্ডাসি গুলতি
সুতোয় মাঞ্জা মেরে বোঁ’কাট্টা ঘুড্ডির কাটাকাটি…
বেড়েছে কি বয়স দু’মুঠো?
কখনোবা ভাঙ্গা কঞ্চির ছাত্রের গায়ে বেত্রাঘাতের খোলামকুচি…
রুটিন করেই পাড়ার পুকুরগুলো হল্লা করে সাঁতরে ফেরা
ফুটবল খেলার ছলে কাদাজলে মাখামাখি প্রতিটা বর্ষায়…
কখনো সুগন্ধ ছড়িয়ে পাশ ঘেঁষে চলে যাওয়া রহস্য নারীর দিকে
চোখ পড়লে চনমন জেগেছে যৌবন…
আজও তোমাকে দেখে দক্ষিণের জানালায় চাঁদের প্লাবন।
পঞ্চাশে পড়েছে পা, বেড়েছে বয়স দু’মুঠো?
তারপর সেই কার্ল মার্ক্স, লেনিন, ট্রটস্কি, চে,
এম এন রায়, মনি সিংহের পদাবলী…
সময় পেরিয়ে চলে জীবনানন্দ, রবীন্দ্র ঠাকুর, শামসুর রাহমানে।
‘সোনালী কাবিন’ ছুঁয়ে দেখি কোথাওবা ‘রাজা যায় রাজা আসে’…
বাড়ে না বয়স তবু
যখন সুর্য তোমার আজ্ঞাবহ হলো, আমিও তো তার অনুগামী
ঊনিশ বছর তুমি সময়ের শাসন নিয়েছো…
আমাদের আঙিনায় শীতকাল নামে নি কখনো
প্রাত্যহিক আষ্ঠেপৃষ্ঠে থাকি
তবু কি বেড়েছে বয়স?
পঞ্চাশে রেখেছি দু’পা
সারেগামা তবুতো শিখিনি
মেয়েটা কলেজে যাচ্ছে দেখে আমাকে ডেকোনা বুড়ো
এখনো তোমার জন্য পাড়ি দিতে
কর্ণফুলী করি না কসুর
পঞ্চাশে পড়েছে পা
বেড়েছে কি বয়স দু’মুঠো?
সব নদী গঙ্গা নয়
সব নদী গঙ্গা নয় শিবের সান্নিধ্য পাবে
আমারও সান্নিধ্যে এসে ধন্য ছিল হালদা কর্ণফুলী
নদীরা সংকীর্ণ হলে চর জাগে, দেবতারা দূরে সরে যায়
নদীর বালুর চরে মাছের পিপাসা মিছে মরে
নদীর ঢেউয়ের কাছে আর কোনো প্রশ্ন রেখো না
সে কেবল ছলকে ছলকে যাবে
নদীকে দু’হাত তুলে ডাকো, ফিরেও সে তাকাবে না
সে তার আপন গতিতে ছোটে।
নদীকে মাছের গল্প বলি
মুখ বাঁকিয়ে বলে এ তো সেই মাসীর গল্প মায়েরই নিকট
নদীকে বুকের কাছে ডাকো
হৃদয়ের শব্দ শোনাবে সে ধুকপুক ধুকপুক
সব নদী গঙ্গা নয় হৃদয়ে বন্যা বইয়ে দেবে…
কেন?
সুধাংশু চলে গেছে, সাথে নিয়েছে বঞ্চনা গঞ্জনার স্মৃতি
মশালের লাল শিখা ধরিয়েছে প্রিয় সিঁথিতে আগুন
ঘরের দো’চালা পুড়ে ফ্যানাটিক সুরমা চোখে ঘুরছে আজরাইল
সুধাংশু চলে গেছে, নলিনী যাবে না ভেবে একমনে ধরেছে লাঙ্গল
সুশোভন চেম্বারের শাদা পর্দার পেছনে চিকিৎসার আয়োজন করে
সুশোভন চাকমা বুঝে না, সুশোভন বাঙালি বুঝে না
চিকিৎসার কোনো সম্প্রদায় নেই
কেন তবে লৌহ শিক গেলেছে সুশোভনের চোখ?
শাদা পর্দার রক্তের দাগ আর শুকাবে না
সুশোভন চোখে দেখবে না
প্রেসার মাপবে না, লিখবে না নতুন প্রেসক্রিপশন
কেন বা ভান্তের ঘরে পবিত্র মন্দিরে হু হু জ্বলে ভূতুরে আগুন?
কেন নলিনীর শস্যক্ষেত্র, ধানের গোলায় ছাই, আর
শিশুটির বুকের আগুনে ভস্ম হলো ভালোবাসা …
কথা থেমে গেলে
কথা থেমে গেলে নি:শ্বাসের চলা ফেরাগুলো
দীর্ঘ দীর্ঘতর কথা হয়ে যায়।
না বলা কথার অশান্ত শ্বাসের ভেতর কতো কবিতার
ডালপালা আর দেখে না সবুজ রোদ্দুর।
মনের আঙুল শুধু জানে নি:শব্দ বর্ণমালার প্রাণ।
আঙুলের কতো প্রাণ, কতো মনোরম ভাষা,
আঙুল হৃদয় নিয়ে খেলে মহাভারতের পাশা কুরুক্ষেত্রে।
























