১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে টিউশনি নিয়েও ব্যবসা চলে

চট্টগ্রামে টিউশনি নিয়েও ব্যবসা চলে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া। জীবনের নানা ঘটনা নিয়মিত ডায়েরির পাতায় লিখে রাখতেন এই তরুণ। হৃদয়ের এক বন্ধুর কাছে পাওয়া গেল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে লেখা তেমনই একটি লেখা।

আমি হৃদয় চন্দ্র তরুয়া। পিতা রতন তরুয়া। মাতা অর্চনা রানী। আমার বাবা একজন নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষ। তিনিই আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। আমার বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। অন্যের দোকানে দৈনিক বেতনে কাজ করেন। সেখান থেকে যা পান, তা দিয়েই আমাদের পরিবারের ভরণপোষণ চলে।

আমার বাবার মাসিক আয় গড়ে ১২ হাজার টাকার মতো। এই টাকায় পটুয়াখালীর মতো একটা জেলা শহরে ভাড়া থাকা, খাওয়াদাওয়া, আমার লেখাপড়ার খরচ ইত্যাদি চলে। আমি এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়ি। অনেকের কাছে এটা সামান্য কিছু হলেও আমার কাছে, আমার পরিবারের কাছে অনেক।

জীবনের নানা ঘটনা নিয়মিত ডায়েরির পাতায় লিখে রাখতেন হৃদয়

বিদ্যালয়ে বা কলেজে পড়াকালীন সময়ে আমার পড়ালেখার খরচ বাবা মোটামুটি কষ্ট হলেও চালিয়ে নিতে পারতেন, কারণ তখন বাসায় থেকে পড়াশোনা করতাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর থেকে আমার থাকা, খাওয়াদাওয়া, পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তাই আমার এই খরচের টাকার জোগাতে আমার বাবার বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে। তা ছাড়া আমার বাবার বয়সও বেড়েছে। যার কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। তার ওপর বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সব মিলিয়ে আমার বাবার পক্ষে পরিবারের সকল ভরণপোষণ, পাশাপাশি আমার লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার বাবার পৈতৃক সম্পত্তিও নেই বা কোনো স্থায়ী সম্পদ বাড়ি, কৃষিজমি বা কোনো অর্থও জমা নেই, যা দিয়ে এই প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আমি নিজ থেকে কিছু আয়ের চেষ্টা চালাচ্ছি, যেমন টিউশনি। কিন্তু চট্টগ্রাম আমার জন্য নতুন শহর। এখানকার কোনো মানুষও আমার পরিচিত না। যার কারণে টিউশনি পাওয়াটা আমার পক্ষে দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম থেকে ২৩-২৫ কিলোমিটার দূরে। শাটল ট্রেনে শহরে যেতে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট লাগে। শহর অনেক দূরে হওয়ায় টিউশনি খোঁজাটাও সময় ও কষ্টসাধ্য। তার ওপরে চট্টগ্রামে টিউশনি নিয়েও ব্যবসা চলে। কারও বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে টিউশনি পেতে হলে একটা বড় পরিমাণের টাকা তাদের দিতে হয়। যেটা আমার মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের স্টুডেন্টের জন্য একটু বেশিই কষ্টের। তাই এমন অবস্থায় আমি যদি কোনো প্রকার বৃত্তি পেতে পারি, সেটা আমার পরিবার ও আমার লেখাপড়ার জন্য সুবিধার হবে। (ঈষৎ সংক্ষেপিত)

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ