২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গিনেস বুকে যেভাবে রুনা লায়লা

কণ্ঠের জাদুতে দীর্ঘদিন ধরে সবাইকে মুগ্ধ করে রেখেছেন আন্তর্জাতিকখ্যাতিসম্পন্ন গায়িকা রুনা লায়লা। ষাটের দশকে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ অবধি ছড়িয়ে যাচ্ছেন কণ্ঠের মায়াজাল, মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন কোটি শ্রোতাকে।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই কণ্ঠশিল্পীর করাচিতে জুগনু চলচ্চিত্রে প্রথম গান করার মধ্য দিয়ে সিনেমার গানে যাত্রা শুরু করেন। পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে লোকজ, পপ, রক, গজল, আধুনিক—সব ধাঁচেই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন রুনা। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষায় তাঁর কণ্ঠে গান শোনা গেছে। এ পর্যন্ত গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।
নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে তিন দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান রুনা।
অবাক করা তথ্য হচ্ছে সংগীতশিল্পী নয়, তার হবার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। টানা চার বছর করাচির বুলবুল ললিতকলা একাডেমির ভরতনাট্যম, কত্থক, কত্থকলি শেখেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত গানের মাঝেই ডুবে থাকেন। গান গেয়েই বাংলাদেশের রুনা লায়লা ভারত, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন।
এদিকে আজ (১৭ নভেম্বর) এ গায়িকার জন্মদিন। এ দিন উপলক্ষে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘‘আমার প্রতি জন্মদিনে আপনারা অনেক অনেক শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান, ভালোবাসা দেন, গিফট দেন এবং দোয়া ও আশীর্বাদ তো থাকেই আপনাদের। আজকে আমি চিন্তা করেছি, আমি আমার এই জন্মদিনে আপনাদেরকে একটা গিফট দেব।’
কী সেটা? জানা যায়, বিশেষ এদিনে কিংবদন্তি এই শিল্পীর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে থাকছে তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ‘দ্য রুনা লায়লা’।
এক ভিডিওবার্তায় শ্রোতা-ভক্ত ও সংগীতানুরাগীদের ইউটিউব চ্যানেলটির সঙ্গে যুক্ত থাকার আহ্বানও জানান দেশবরেণ্য এই সংগীতশিল্পী।
রুনা লায়লার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা প্রথম ভিডিওটি হলো ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’। যা প্রচার হয়েছিল বিটিভিতে। গানটির কথা লিখেছেন মাসুদ করিম, সুর করেছেন সুবল দাস। আর দ্বিতীয় ভিডিও হিসেবে থাকছে তারই গান ‘হ্যালো হাই’। বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে গানটি ছিল ‘সুপারুনা’ অ্যালবামে। ১৯৮২ সালের ১ ডিসেম্বর ইএমআই মিউজিক কোম্পানি থেকে প্রকাশিত এই অ্যালবামটি প্রথম দিনেই ১ লাখ কপি বিক্রি হয়। এজন্য উপহার হিসেবে গোল্ডেন ডিস্ক অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন রুনা লায়লা। অ্যালবামটির কাজ হয়েছিল লন্ডনে, যেখানে একসময়ের বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলস গান রেকর্ডিং করত।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই কণ্ঠশিল্পী ক্যারিয়ারে মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। এরমধ্যে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলিউডের ‘ঘারোন্দা’ (১৯৭৭) সিনেমাতে জয়দেবের সুরে ‘তুমহে হো না হো’ ও ‘দো দিওয়ানে শেহার মে’ (সহশিল্পী: ভূপিন্দর সিং) গান দুটি আপলোড করেছেন তিনি। এছাড়া রয়েছে একটি করে বাংলা দেশাত্মবোধক ও ফোকগান এবং পাঞ্জাবি গান।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন রুনা লায়লা। ছয় দশকের সংগীত ক্যারিয়ারে তার প্রাপ্তি অসামান্য। কালজয়ী অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন তিনি। গেয়েছে বলিউডের খ্যাতিমান সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীদের সঙ্গেও। পেয়েছেন গোল্ড ডিস্ক অ্যাওয়ার্ড। গানের বাইরে সিনেমায় অভিনয়ও করেছেন রুনা লায়লা। হয়েছেন মডেলও। এছাড়াও সংগীতের বিভিন্ন রিয়েলিটি শো’র বিচারকের আসনে বসেছেন তিনি। রুনা লায়লা মোট আটবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ