নীলফামারীর ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী জারিন সাদাফকে ক্লাস চলাকালীন পেটালেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী।
বুধবার দুপুরে ডোমার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান হাফিজের স্ত্রী সুহেলী বেগম ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। এ নিয়ে এলাকায় তোলপার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী অর্পি, সুহি, রোকেয়া ও তিথি বলে, ‘আগামী ১৮ এপ্রিল নীলফামারী সদরে বিজ্ঞান ভিত্তিক একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমাদের বিদ্যালয়ের তিনজন প্রতিযোগীর অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের নাম নিয়ে গত মঙ্গলবার আমাদের দুই সহপাঠী জান্নাতুল মাওয়া ও হুরায়রা স্মৃতির মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। ওইদিনেই তা সমাধানও হয়ে যায়। কিন্তু বুধবার দুপুরে স্মৃতির মা টিফিন দিতে এসে ক্লাসের ভিতরে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং জান্নাতুল মাওয়াকে না পেয়ে জারিন সাদাফকে কিলঘুষি মারে। আমরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি আমাদেরও মারধর করেন।’
হুরায়রা স্মৃতি জানায়, গত ২৮ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের পক্ষে আমিসহ চার জন ছিলাম। সেখানে তিনজন প্রতিযোগী নির্ধারণ করায় আমাকে বাদ দেয়া হয়। আগামী ১৮ এপ্রিল নীলফামারী সদরে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও আমাকে বাদ দেয় জারিন এবং জান্নাতুল মাওয়া আমাকে থাপ্পর মারে। বুধবার আমার মা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তা জানান।
ডোমার সদর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী ও নবম শ্রেণির ছাত্রী হুরায়রা স্মৃতির মা সুহেলী বেগম জানান, জারিন আমার মেয়েকে মারধর করছিল আমি শুধু তাদের সরিয়ে দিয়েছিলাম।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহাকরী শিক্ষিকা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানা বিলকিস বানু বলেন, ‘আমি বাংলা ক্লাস নেয়ার সময় হুরায়রা স্মৃতির মা ক্লাসের ভিতরে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমি তাকে ক্লাসের বাইরে নিয়ে আসি। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার ক্লাসে প্রবেশ করে। ছাত্রীরা বলছে- তিনি জারিন সাদাফকে মারধর করেছে।’
তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক ছুটিতে আছেন। তিনি আসলে অভিভাবক ও ছাত্রীদের নিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা জানান, ‘জারিন সাদাফ নামে এক ছাত্রী ও তার অভিভাবক মৌখিক অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
























