২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সড়ক ঘিরে বাজার দুর্ভোগে এলাকাবাসি

সানি সূত্রধর, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

দুই সড়কের শহর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া। সড়ক দুটি সরু ও ভাঙাচোরা। বাজারও গড়ে উঠেছে সড়ক ঘিরেই। প্রতিদিন দেড় শতাধিক বাস, অসংখ্য ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি এ সড়ক দিয়ে ঢাকায় চলাচল করছে। বাজারের ভেতর দিয়ে ভারী যান চলাচল করায় স্থানীয় বাসিন্দারা পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবু বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একসময় ঢাকার সঙ্গে কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনার নান্দাইল উপজেলার বাস চলাচলের একমাত্র পথ ছিল কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়ক। ভৈরবের পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে হতো। এতে ঢাকার একপাশের যাত্রীরা সুবিধা পেলেও দুর্ভোগে পড়তে হতো কারওয়ান বাজার, মহাখালী, বিমানবন্দর ও উত্তরামুখী যাত্রীদের। তাই ১০ বছর আগে কিশোরগঞ্জ-মির্জাপুর-টোক আঞ্চলিক মহাসড়কটি চালু হয়। এতে ওই দুই জেলার মহাখালী বাসস্ট্যান্ডমুখী যাত্রীদের সময়, দূরত্ব ও ব্যয় কমে আসে। ১০৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অনেক সুবিধার আঞ্চলিক মহাসড়কটির সমস্যা বলতে এখন পাকুন্দিয়া বাজারের দেড় কিলোমিটার পথ। কারণ, এ পথটির কোনো বিকল্প নেই।

পৌরমেয়র জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বাজারের ভেতর দিয়ে বাস চলাচল আমাদের জন্য বিষফোঁড়ার মতো যন্ত্রণার। বাইপাস করার প্রস্তাব নিয়ে অনেক ছোটাছুটি করছি। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।’ পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নান্দাইল ও কিশোরগঞ্জ সদর থেকে মহাখালীতে আসা-যাওয়া করছে চারটি পরিবহনের ১৪০টি বাস। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ থেকে অনন্যা পরিবহনের ৪৬টি ও অনন্যা ক্লাসিকের চলছে ৩০টি বাস। নান্দাইল থেকে চলাচল করছে জলসিঁড়ির ৩৫টি ও বন্যা পরিবহনের ২৯টি বাস।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত পাকুন্দিয়া বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের সড়ক দুটির প্রস্থ গড়ে ১২ ফুট। গত ২১ আগস্ট বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হওয়ার পর পূর্ব পাশের সড়কটি দিয়ে এখন আর বাস চলতে দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে দুই সড়কের বাস এখন চলছে পশ্চিম পাশের সড়কটি দিয়ে। এতে সমস্যা আরও বেড়েছে। দেখা গেছে, পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের ব্যবধানে এ সরু পথ দিয়ে একটি করে বাস অতিক্রম করছে। ফাঁকে ফাঁকে চলাচল করছে ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি। একই সঙ্গে চলছে শহরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যম রিকশা ও ইজিবাইক। সড়কের পাশে রয়েছে টিকিট কাউন্টার। যাত্রী ওঠাতে ও নামাতে কাউন্টারের কাছে এসে বাসগুলো থামছে। এতে দুই দিকেই যান আটকে যাচ্ছে। পথচারীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বেশি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। কলেজ রোডের আকিব টেলিকমের মালিক আল আমিন বলেন, গ্রামে থেকে বড় শহরের মতো যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অসুবিধার কারণে অনেকে শহরমুখী হয় না। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে না। অনন্যা পরিবহনের চালক খোকন মিয়া বলেন, দেড় কিলোমিটার পথ দেড় মিনিটে পার হওয়ার কথা। কিন্তু, কোনো দিনও আধা ঘণ্টার আগে পার হতে পারলাম না। একই পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন জানান, কাউন্টারের সামনে বাস থামলে অন্য যানগুলো চলতে পারে না। এই দৃশ্য দেখতে তাঁদেরও খারাপ লাগে। তখন ওঠা ও নামার কাজটি দ্রুত সারতে হয়। এতে তাঁরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো পরিবহন ব্যবসায়ীরাও বিকল্প বাইপাস সড়কের দাবি করছেন। তবে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাইপাস করব না। বাজারের ভেতর দিয়েই যান চলবে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত সড়ক প্রশস্ত করে ১৮ ফুট করা হবে। তা করা গেলে সমস্যা থাকবে না।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ