২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এক নজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনের অনেক অজানা নানা তথ্য

১। বঙ্গবন্ধু উপাধি> ২৩ফেব্রু ১৯৬৯সালে। তোফায়েল আহমেদ। রেসকোর্স ময়দানে।
২। জাতির জনক> ৩মার্চ ১৯৭১। আ, স, আব্দুর রব। পল্টন ময়দানে
৩। রাজনীতির কবি (Poet of politics) > ৫ এপ্রিল ১৯৭২ সালে মার্কিন সাময়িকী> ‘নিউজ উইক‘ ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধুর উপর একটি কভার স্টোরি করে।
৪। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি >> ২৬শে মার্চ ২০০৪ বিবিসির শ্রোতা জরিপে ২০তম সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় স্থান। ১৪এপ্রিল ২০০৮ সর্বকালের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
৫। পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি>৮জানু, ১৯৭২।
৬। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন >>> ১০জানুয়ারি ১৯৭২।
৭। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার > ২২ ফেব্রু ১৯৬৯।
৮। বাঙালির মুক্তিসনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা ৬দফা দাবি পেশ।> ৫-৬ফেব্রু ১৯৬৬।
৯। ছয় দফা দিবস> ৭জুন । কারণ ১৯৬৬ এইদিনে সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় ও কারফিউ জারী করা হয়।
১০। বাংলাদেশ -এর নামকরণ করেন> ৫ডি: ১৯৬৯।
১১। আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন >> ২৩জুন ১৯৪৯।শেখ মুজিব যুগ্ন সম্পাদক।।মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয় ২২-২৩সেপ্টম্বর,১৯৫৫। । সম্পাদক হন ১৬নভে:১৯৫৩।
১২। শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি হন> ১৯৬৬।
১৩। বিশেষ ক্ষমতা তথা অস্থায়ী সংবিধান জারি করেন ১২ জানু, ১৯৭২।

বঙ্গবন্ধু কত তারিখে শহীদ হন?
ইংরেজি ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫
বাংলা ২৯ শ্রাবণ ১৩৮২
আরবি ৮ শাবান ১৩৯৫
সেদিন শুক্রবার ছিল।

বঙ্গবন্ধু ৬ দফা /বাঙালির মুক্তি সনদ / বিট্রিশ শাসনতন্ত্রের বাইবেল খ্যাত ম্যাগনাকার্টার সাথে তুলনা করা হয় একে । ভাইভাতে অনেক সময় ৬দফা গুলো বলতে বলে ।

দফা – ১ :
শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি:
দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো এমনি হতে হবে যেখানে পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেশনভিত্তিক রাষ্ট্রসংঘ এবং তার ভিত্তি হবে লাহোর প্রস্তাব। সরকার হবে পার্লামেন্টারী ধরনের। আইন পরিষদের (Legislatures) ক্ষমতা হবে সার্বভৌম। এবং এই পরিষদও নির্বাচিত হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনসাধারনের সরাসরি ভোটে।

দফা – ২ :
কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা:
কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দু’টি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে- যথা,
দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা থাকবে নিরঙ্কুশ।

দফা – – ৩ :
মুদ্রা বা অর্থ-সমন্ধীয় ক্ষমতা: মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত দু’টির যে কোন একটি প্রস্তাব গ্রহন করা চলতে পারেঃ-
(ক) সমগ্র দেশের জন্যে দু’টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে।
অথবা
(খ)বর্তমান নিয়মে সমগ্র দেশের জন্যে কেবল মাত্র একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে। তবে
সেক্ষেত্রে শাসনতন্ত্রে এমন ফলপ্রসু ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মুল্ধন পাচারের পথ বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভেরও পত্তন করতে হবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক আর্থিক বা
অর্থবিষয়ক নীতি প্রবর্তন করতে হবে।

দফা — ৪ :
রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা: ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলির কর বা শুল্ক
ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনরূপ কর ধার্যের
ক্ষমতা থাকবে না। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে। অঙ্গরাষ্ট্রগুলি র সবরকমের করের শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল গঠিত হবে।

দফা – – ৫ :
বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:
(ক) ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক পৃথক হিসাব রক্ষা করতে
হবে।
(খ) বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলির এখতিয়ারাধীন থাকবে।
(গ) কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোন হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলি ই মিটাবে।
(ঘ) অঙ্গ-রাষ্ট্রগুল ির মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক বা করজাতীয় কোন
বাধা-নিষেধ থাকবে না।
(ঙ) শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলি কে বিদেশে নিজ নিজ বানিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্ব-স্বার্থে বানিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে হবে।

দফা – – ৬ :
আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা:
আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয়
কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা ফিতে হবে।

মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
———————————-ভাইভাতে ঘোষণা বলতে বলে —————————

” This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon
the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”

মূল ঘোষণার অনুবাদ নিম্নরূপ: “এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক”।

সংবাদ মাধ্যমে ১৯৭৫সালের হত্যা কান্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেণ্ট্রাল ইণ্টেলিজেন্স এজেন্সি সিআইএ-কে দায়ী করা হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত তৎকালীন রাষ্ট্রদুত ইউজিন দিয়ে লরেন্স লিফসুল্জ সিআইএ-কে অভ্যুত্থান ও গণহত্যার জন্য দোষারোপ করেন।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মুজিব জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের অনুমোদনের মাধ্যমে সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তদুপরি ৪টি বাদে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়। মুজিবকে আজীবন রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় এবং চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামের রাজনৈতিক দল গঠন করে। সংক্ষেপে বাকশাল নামে পরিচিত এ দলটি তখন একমাত্র বৈধ দল ছিল।

বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ দুই জনের কাছ থেকে তার জীবনের অজানা নানা কথা জানা যায়

বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প’ শিরোনামে এ অনন্য আয়োজনে তাঁর জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী ড. মসিউর রহমান, অন্যজন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সঞ্চালক তার কথার শুরুতেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন কিছু বলার অনুরোধ জানান যা অনেকেরই অজানা।

ড. মসিউর রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসেবে আমি চাকরি করেছি তিন বছর। শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর দেয়া একটি আদেশনামার কথা দিয়ে শুরু করতে চাই। বঙ্গবন্ধু একদিন বললেন এই আদেশনামা লিখে নিয়ে আসো। সেখানে লেখা ছিল ‘পাবলিক সেক্টরে যে সকল নিয়োগ হবে তাতে ১০ শতাংশ মেয়েদের নিয়োগ থাকবে।’ এর মানে নারীদের ক্ষমতায়নে বঙ্গবন্ধু কাজ করেছেন অনেক আগে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মিশতেন একেবারেই অন্যভাবে। একবার এক সফরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যারা যাবেন তাদের একটি নথি দেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কফিলউদ্দিন সাহেব বললেন, এত লোক না গেলে চলে না। বঙ্গবন্ধু তাকে কিছু বললেন না। মাহমুদ সাহেব নামের তালিকা কাটতে শুরু করলেন। অর্থাত্ ভয় পেয়ে কাউকে দায়িত্ব পালন করতে হতো না। জহুরুল হক নামে একজন কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসার দেখা করতে আসলেই বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে যেতেন। এটা নিয়ে সবার কৌতূহল ছিল। একদিন বঙ্গবন্ধু নিজেই আমাদের জিজ্ঞেস করলেন তোমরা জহুর ভাইকে চেন? পরে আমরা জানতে পারি জহুর ভাই হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইংরেজিতে কিছু লিখলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও কখনো কাটতেন না। বঙ্গবন্ধু এভাবেই গুণীদের সম্মান জানাতেন।”

মানবতার গল্প শোনাতে গিয়ে ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘রাজিয়া ফয়েজ দীর্ঘদিন ধরে জেলে ছিলেন। আমরা জানতাম তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু রাজিয়া ফয়েজকে জেল থেকে ছাড়ানোর আদেশপত্র তৈরি করতে বললেন। আমরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বললেন, রাজিয়ার একটা সন্তান হয়েছে। রজিয়া ফয়েজের দোষ আছে, কিন্তু ঐ শিশুর কী দোষ? তাকেও কি তোমরা জেলে রাখতে চাও?’

শেখ কামালের সুপারিশ অনুমোদন না করার কাহিনী বলতে গিয়ে ড. মসিউর বলেন, ‘শেখ কামাল আমার কাছে এসেছিলেন একবারই। আবাহনী ক্রীড়া চক্র কলকাতায় ম্যাচ খেলতে যাবে। শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রী ইউসুফ সাহেব মাথাপিছু ১৫ ডলার সুপারিশ করেছেন। শেখ কামাল নিজে বঙ্গবন্ধুকে না বলে আমাকে দিয়ে বলালেন যেন এ সুপারিশটা বদলানো না হয়। আমি নথি নিয়ে গেলাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধু অনুমোদন করলেন না।’

ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৪৪ সালে। তখন আমি স্কুলের ছাত্র। কুষ্টিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন। এরপর ঢাকা, কলকাতা, লন্ডনে নানা জায়গায় তার সঙ্গে রাজনৈতিক নানা আয়োজনে, সংগ্রামে একসঙ্গে ছিলাম আমরা।

১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেয়ার পর সারাদেশে একের পর এক জায়গায় যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। মিটিং করছেন, বক্তব্য রাখছেন আর গ্রেফতার হচ্ছেন। জেল থেকে ফিরছেন তো আবার মাঠে ময়দানে যাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু কখনো কেনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পিছপা হতেন না। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনেও সেই চর্চা করে গেছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর বিষয়টি একরকম গুরু-শিষ্যের মতো। কিন্তু তিনি সেখানেও কোনো অন্যায় কিছু থাকলে তা তুলে ধরতেন। আমাদেরকেও বলতেন সেই একই চর্চা করতে।

বাংলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশসেরা অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে নিয়ে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন যাতে কৃষিপ্রধান এই দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়। ব্যাপকভিত্তিক কৃষিসমবায়, ব্যাংক-বীমা জাতীয়করণ ইত্যাদি নানা প্রকল্পের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বীজ বপন করেন ।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ