২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্রমশই মারাত্মক থেকে অতি ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ক্রমশই মারাত্মক থেকে অতি ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি। আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাসে জানিয়েছেন যে, ২০ মে আম্ফান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যে দিয়ে খুবই মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় আকারে বয়ে যাবে।

তবে যে গতিতে ওই ঝড় এগিয়ে আসছে তা উপকূলে আছড়ে পড়ার আগে, এর তীব্রতা কিছুটা কম হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আপাতত ওই ঝড়ের গতি প্রতি ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার। এটিআরও শক্তি বাড়িয়ে প্রতি ঘন্টায় ১৮০ কিলোমিটারও হতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গীয় অঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় ২৪০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার বেগে আম্ফানের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি যা তাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ এই গতি ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২১০ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে। আবার প্রতি ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

ক্ষতি করতে পারে কোথায় কোথায়

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এই ঝড়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িশ্যা । সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলী, নদিয়া জেলার। কাঁচা ঘর, পুরনো পাকা বাড়ি, উড়ন্ত জিনিস, রেল ও সড়ক যোগোযোগ, ফসল, বাগান,  নারকেল গাছ সহ সবধরণের বড় গাছ, বড় জাহাজ, নৌকা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে এই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়।

উড়িশ্যায় এই ঝড় মূলত জগৎসিংহপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভদ্রক, বালাসোর, জাজপুর, ময়ূরভঞ্জ এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাবে।

কত গতিতে বইবে ঝড়ো হাওয়া?

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ  থেকে পশ্চিমবঙ্গকে সতর্ক করে ’কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে এই বলে যে, আম্ফানের ফলে কলকাতা, হুগলি, হাওড়া, দক্ষিণ এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল এবং আশেপাশের অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার থাকতে পারে এবং পরে সেই গতি বেড়ে ৬৫ কিলোমিটারও হতে পারে। ২০ মে সকালে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি জেলায় ৭৫ থেকে ৮৫ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

এই ঝড়ের গতিই ধীরে ধীরে পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, কলকাতায় গতি বাড়িয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিমি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাগুলিতে ১৬৫ থেকে ১৭৫ কিমিতে পৌঁছে যাবে।

ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন আম্ফান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছে।

এটি মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ২০ মে বিকাল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।আরো পড়ুন : সিডর ও ৯১ ঘুর্নিঝড়ের চেয়ে ভয়ংকর হতে পারে আম্পান, ঝুকিতে খুলনা ও চট্টগ্রাম

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ