১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইকুয়েডরে মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে,আহত ২৫০০ এর ও অধিক

ইকুয়েডরে শক্তিশালী ৭.৮ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৩ জন । গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ২৫০০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প বিধ্বস্ত দেশটির উপকূলীয় শহরগুলোতে ত্রাণ এবং উদ্ধারকর্মীরা মরিয়া হয়ে উদ্ধার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উদ্ধারের জন্য প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে

উদ্ধারের জন্য প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাস পরিস্থিতিকে কঠিন মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বিভিন্ন জেলায় আহত মানুষরা ধ্বংসস্তুপে আটকা পড়েছেন। আমরা তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছি।’কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকা থেকে নিহতের খবর আসা শুরু হয়েছে। ফলে নিহতের আরও বাড়তে পারে। ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার ও বাসে করে সেনা সদস্যদের দেশটির উত্তরাঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় মানুষ হাত দিয়ে মাটি খুঁড়ে বেঁচে থাকা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

শনিবার স্থানীয় সময় ১১টা ৫৮ মিনিটে ইকুয়েডরে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। রাজধানী কিয়োটো থেকে ১০০ মাইলের বেশি দূরে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বা ইউএসজিএস। ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় ১৩৫টি দফা আফটার শক অনুভূত হয়েছে।ভূমিকম্পের কারণে এক মিটার বা ৩.২ ফুট উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেয়া হলেও সৌভাগ্যক্রমে তা হয় নি। এরইমধ্যে সুনামি সতর্কতা তুলে নেয়া হয়েছে তবে লোকজনকে উঁচু স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেরা ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল মেরামতে শতকোটি ডলার খরচ হবে। তিনি আরো বলেন, গত সাত দশকের মধ্যে এটিই ইকুয়েডরে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকৃতিক দুর্যোগ।

জানা গেছে, শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরদিন রোববার কয়েকটি ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। বর্তমানে ১৩ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। গত সোমবার দিনের শেষ ভাগে একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুসহ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পোর্টোভিয়েজো ও পেডারনার্ল শহরে গতকাল সোমবার অনেক মৃতের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট কোরেরা এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, এখনো ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপে আরো মৃতদেহ পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের পরিচালনা সচিব লুইস আলম্যাগরো বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইকুয়েডরে জরুরি সহযোগিতা পাঠানো হবে। ইকুয়েডরের অর্থমন্ত্রী গতকাল সোমবার বলেন, চীনের উন্নয়ন ব্যাংকের কাছ থেকে তারা ২০০ কোটি মার্কিন ডলার সহযোগিতা পাচ্ছেন।

 ১৯৭৯ সালে দেশটিতে ভূমিকম্পে ৬০০ মানুষ নিহত এবং ২০ হাজার আহত হয়েছিল।বিশ্বের বড় ভূমিকম্পগুলোর একটি ঘটেছে এই ইকুয়েডরেই। ১৯০৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূকম্পন হয় এখানে। ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার সমুদ্র উপকূলে সৃষ্ট এই সুনামিতে মারা যান পাঁচ শতাধিক মানুষ। আহত হন আরও দেড় হাজার। মধ্য আমেরিকা ও সানফ্রান্সিসকোতেও অনুভূত হয় এই ভূমিকম্প। যার প্রভাবে হাওয়াইয়ের নদীগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ