১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পরচুলায় হাসি ফোটাচ্ছে ক্যান্সার রোগীদের

ক্যান্সার রোগীরা সমাজের চোখে একটু নিগৃহীত। কিন্তু এবার তাঁদেরকে আল দেখাচ্ছেন একজন, নাম রিশেট্টি কুমার, পরচুলা তৈরির কারিগর হিসেবেই যার পরিচিতি।কৃষক পরিবারে জন্ম নেন মি: কুমার।ব্যাঙ্গালোরে তাঁর দোকান থেকে তৈরি শত শত পরচুলা পড়ে ক্যান্সার রোগীদের জীবনে যেন নতুন প্রাণের সূচনা করছে।বিবিসিকে তিনি বলেছেন, “কোনও কাজই ছোট বা বড় নয়। কেউ হয়তো ভাবতে পারে যে তারা যেটা করছে সেটা ক্ষুদ্র বা অর্থহীন। কিন্তু আমি আমার ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি হাসিমুখে-পরচুলা তৈরি করাই আমার কাজ।যেসব মানুষ রোগে ভুগে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, তারা এই পরচুলা পড়ে খুশী হচ্ছে-তাদের মনে আশার সঞ্চার জাগছে-তাদের জন্য এতুটুক করতে পারাটা ভাগ্যের ব্যাপার। সেসব রোগীদের জন্য আমি সামান্য কিছু করতে পারছি”কান্নাডা ভাষার চলচ্চিত্র তৈরিতে যে দল কাজ করছে তাদের সাথে কাজ করবেন তিনি এমন লক্ষে  তরুণ বয়সেই ঘর ছেড়ে পালান তিনি।সেই দলের সাথে দীর্ঘকাল কাজও করে অভিজ্ঞতায়  শিখেছেন কিভাবে মানুষের ফেলে দেয়া চুল দিয়ে বিভিন্নভাবে পরচুলা তৈরি করা যায়।

পরচুলা তৈরির কাজটি অনেক কঠিন। কারণ সাধারণ চুলগুলো প্রতিটিই হাতে বুনতে হয়।কিন্তু মজার বিষয় তিনি যখন এ কাজটি শেখেন তখন ক্যান্সার বা কেমোথেরাপি এবং এ কারণে রোগীদের চুল পড়ে যেতে পারে সে সম্পর্কে কিছুই জানতেননা।মি: কুমারের কাছে একদিন একজন কাস্টমার এলেন যিনি ক্যান্সারের কারণে তার সব চুল পড়ে যাওয়া আক্ষেপ করছিলেন। আর সে সময়েই এই রোগ আর রোগের প্রভাবে চুল পড়ে যাবার বিষয়ে জানলেন মি: কুমার।

মরিশেট্টি কুমার বলেন,  “আমার ওই কাস্টমারের মাথায় পরচুলা পড়িয়ে দেবার পর তার চোখের যে উজ্জ্বল দৃষ্টি দেখতে পেরেছিলাম সেটাই আমার জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসলো”মি: কাপুর বলেন,আমি খুব বেশি দাম পাইনা, কিন্তু এই কাজ করে আমি যে মানসিক শান্তি পাই তা ব্যাপক-এককথায় বুঝানোর মতো নয়”মি: কুমার এখন  শুধুমাত্র ক্যান্সার রোগীদের জন্য পরচুলা তৈরি শুরু করছেন।এই পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি পরচুলা তৈরি করেছেন শুধুমাত্র ক্যান্সার রোগীদের জন্য। এই পরচুলাগুলোর দামও খুব কম নির্ধারণ করেছেন মি: কুমার।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ