২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাবেক ওসি ইউনুচের বিরুদ্ধে তদন্তে সিআইডি।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুচ আলীর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তলব করা হয়েছে ৭৫ জন সাক্ষিকে। ইতিমধ্যে সাক্ষিরা যশোর সিআইডি অফিসে গিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ওসি ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্য, জিডি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও নিরীহ মানুষদের আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়াসহ ৪৫টি অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর তাকে হঠাৎ করেই খুলনা পুলিশ লাইনের আর আর এফে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছে, সাবেক এই ওসির বিরুদ্ধে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে অভিযোগ দিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী। তার বিরুদ্ধে ৪৫টি অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। ৭৫ জন স্বাক্ষীকে যশোর সিআইডি অফিসে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালীগঞ্জ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কালীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি ইউনুচ আলীর বিরুদ্ধে ৪৫টি অভিযোগ ওঠার কারণে আমিও একটি ঘটনার স্বাক্ষী দিয়েছি যশোর সিআইডি অফিসে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সাবেক এই ওসির আটক বাণিজ্যের বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, থানার হাজতি রেজিস্ট্রারে আটককৃতদের নাম লিপিবব্ধ করা থাকে। যারা টাকা দিয়ে ছাড়া পান তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়। গত জুলাই মাসের হাজতি রেজিস্টারের বিভিন্ন তারিখের ৬টি পাতা পর্যবেক্ষন করে দেখা গেছে সেখানে ২৮ জনের নাম লেখা আছে। এরমধ্যে ১২ জনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন ওসি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার এক ভুক্তভোগী বলেন, গত অক্টোবর মাসে মারামারির ঘটনায় আমাদের তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রায় তিনদিন থানার হাজতেই আটকে রেখে ১২ হাজার টাকা দিয়ে আমরা ছাড়া পায়। কালীগঞ্জ থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর জন্য আবেদনকারী মোঃ শান্তি বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে আবেদন করলে থানার ওসি আমার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেন। তবে কালীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি মোঃ ইউনুচ আলী তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে আমি কোন টাকা গ্রহন করেনি। যুগান্তরের ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, গত সংসদ নির্বাচনের সময় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানীমুলক মামলা নেয় ওসি ইউনুস আলী। তিনি মামলা রেকর্ডের সময় নাম কেটে দেওয়া হবে বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশাস বলেন, সাবেক ওসি ইউনুচ আলীর বিষয়ে জেলা পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। পুলিশের অন্য দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গেলেও যেতে পারে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ