২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাত বছর পর গ্রেফতার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির

২০১৫ সালে করা খুনের মামলায় ২০২২ সালে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। নিজেকে বাঁচাতে সাত বছর ধরে পালিয়ে ছদ্মবেশে চালাতেন আটোরিকশা। শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেন পুলিশের হাতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি হত্যা মামলায় মত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক এ আসামি জাকির খাঁকে (৪৫) আটক করেছে আখাউড়া থানা পুলিশ।

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক জাকির খাঁ উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আমানত খাঁর ছেলে। ঘটনার পর সাত বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি।

পুলিশ জানায়, ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন শরীফ খাঁ (৫০)। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাজেদা বেগম বাদী হয়ে আমানত খাঁ ও তার তিন ছেলে জাকির খাঁ, গাজি খাঁ, মাহবুব খাঁ এবং আমান খাঁর ভাতিজা আমীর খাঁকে আসামি করে আখাউড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলা পর থেকে জাকির খাঁ ও তার দুই ভাই পলাতক ছিল। বিগত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ হত্যা মামলায় জাকির খাঁ সহ তার দুই ভাইয়ের মত্যুদণ্ড এবং তাদের বাবা আমানত খাঁকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। আমানত খাঁ বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। এ মামলার আরেক আসামি আমীর খাঁ ২০১৮ সালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

এ ব্যাপারে নিহত শরীফ খাঁর ছেলে মো রাসেল খাঁ বলেন, ‘আসামি আটক হওয়ায় আমরা খুশি। এজন্য প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সরকারের কাছে আবেদন দ্রুত যেন আমার পিতার হত্যাকারীদর বিচারের রায় কার্যকর করা হয়। তাহলেই আমরা শান্তি পাবো।’

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালে উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে একটি হত্যাকাণ্ড হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে আখাউড়া থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির খাঁ ৭ বছর পলাতক থাকা অবস্থায় ঢাকা থেকে আটক করা হয়। সে ছদ্মবেশে অজ্ঞাত স্থানে অটোরিকশা চালাত।

শনিবার দুপুর তাকে আদালত সোপর্দ করা হয়েছে। মত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে। এলাকায় চাউর আছে তারা বিদেশে অবস্থান করছেন বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ