১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরিয়ে নেয়া হচ্ছে জিয়াউর রহমানের কবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেয়া হচ্ছে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সেক্টর কমান্ডারদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায়। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় কবরস্থানের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি- এই যুক্তিতে জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়াও সরিয়ে নেয়া হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় অবস্থিত জাতীয় কবরস্থানের সাতটি কবরও।[ad id=”28167″]

 তবে সেখান থেকে সব কবর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে যাবে না। বিতর্কিত ব্যক্তিদের কবর অন্যত্র সরানো হবে। এদের কবর নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে বা কোনো সরকারি কবরস্থানে সরিয়ে নেয়া হবে।

এর আগে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল লুই আই কানের নকশা আনতে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র যাবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

 এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কবরস্থানের জায়গায় কবর হবে এটাই নিয়ম। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় কবর হবে কেন? তাছাড়া লুই আই কানের নকশার কোথাও শেরেবাংলা নগরে কবরস্থানের জন্য জায়গা নির্ধারিত ছিল না।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মনে করি সংসদ এলাকা থেকে কবর ছাড়াও নকশাবহির্ভূত সব স্থাপনা সরানো উচিত। জাতীয় প্রয়োজনে মসজিদ-মাদ্রাসাও তো সরানো হয়।’ তিনি বলেন, ‘আইয়ুব খান সংসদ ভবনকে ঘিরে শেরেবাংলা নগরজুড়ে সেকেন্ড ক্যাপিটাল গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সেভাবেই লুই আই কানের ডিটেইল নকশা প্রণীত হয়েছে। আমরা সে নকশাটাই কেবল প্রতিস্থাপন করতে চাইছি।’ মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে মূল নকশা আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নকশা আনার পর সে অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার উত্তর পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর ছাড়াও সংসদ ভবনের দক্ষিণ চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় প্রায় পাঁচ বিঘার জায়গার ওপর অবস্থিত জাতীয় কবরস্থানে আরও সাতজনের কবর রয়েছে। তারা হলেন- সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খান। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময় থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে এই সাতজনকে এখানে কবর দেয়া হয়।

 জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় জিয়াউর রহমানের কবর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরেরই ৭ জুলাই একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংসদ ভবনের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি লুই আই কানের নকশা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কবরগুলো যদি সরানোর দরকার হয়, তাহলে সরকার তা করবে। এরপর এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে ১৪ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে স্থপতি লুই আই কানের নকশায় শেরেবাংলা নগর এলাকায় কবরস্থানের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের কবরসহ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সব ক’টি কবর সরানোর পক্ষে মত দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

 সূত্র জানায়, এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট মহলে এ পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে তার জন্মস্থান বগুড়া জেলার বাগবাড়ীর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে নানা দিক বিবেচনা করে সরকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সেক্টর কমান্ডারদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমানের কবর সেখানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অবশিষ্ট সাতজনের কবরও সুবিধাজনক জায়গায় সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে তারা বিতর্ক এড়াতে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার আর্কাইভসে সংরক্ষিত লুই আই কানের মূল নকশার অনুলিপি আনার জন্য অপেক্ষায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

সর্বশেষ আপডেট জানতে নিচের বক্সে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ