১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট

সরকার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে । এটি হয়ে গেলে অনেক ভোগান্তি কমবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দু-এক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে এটি।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সোমবার বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট কার্যকর হলে সবাই উপকৃত হবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করব।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে এমআরপির পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট প্রবর্তন করা হয়েছে। ই-পাসপোর্টে এমআরপির চেয়ে আরও নিরাপদে বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে ইতিমধ্যে এ পাসপোর্ট প্রবর্তন করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশ পাসপোর্ট’-এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ানোর জন্য অন্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে যুগোপযোগী ভ্রমণ তথ্য প্রচলনের প্রয়োজনে বাংলাদেশেও ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বেশির ভাগ দেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করার কারণেই পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন উপযোগী অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এ-সংক্রান্ত কাজ সহজে করতে পারছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বয়সভেদে পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়া হবে। যাঁদের এখন এমআরপি পাসপোর্ট আছে, মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। ই-পাসপোর্টে পাতায় থাকা চিপসে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে চোখের মণির ছবি ও আঙুলের ছাপসহ সিকিউরিটি চিহ্ন থাকবে। এ কারণে পরিচয় গোপন করা কঠিন হবে। যেসব দেশে ই-পাসপোর্টের সুবিধা রয়েছে, সেখানে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ প্রায় ১১৮টি দেশে এই ধরনের পাসপোর্ট চালু আছে।

 

তবে পাশাপাশি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ব্যবহার করা যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের সব সুবিধা-অসুবিধা যাচাইয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি বলেছে, ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে যে অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন, এমআরপি বাস্তবায়নে তা রয়েছে। তবে ই-বুকলেট, পারসোনালাইজেশন মেশিন ক্রয়, এমআরপি সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ, সব ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টে ই-পাসপোর্ট পাঠযোগ্য করার ব্যবস্থা এবং ই-গেট করতে হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ