জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। তারেক রহমানের দশম কারাবরণ দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমানকে ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আপনি বলছেন, আপনার সরকার দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটা প্রমাণ করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশের যেকোনো নির্বাচনী আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। আপনার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। কারণ, ইতোমধ্যে আপনি ও আপনার সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’[ad id=”28167″]
তিনি বলেন, ‘জনগণ জেগে উঠেছে। সুতরাং জোর করে বেশিদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা যাবে না। ২০১৬ সাল হবে পরিবর্তনের বছর।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহীতা। তাই প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক শিষ্টাচারমূলক বক্তব্য দিলেও আমরা তার প্রতিবাদ করতে পারবো না। আর প্রতিবাদ করলেই আমাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় মামলা তৈরি করে রাখা হয়।’
সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি কী ধরনের রুচির মানুষ। কী নীতি তিনি ধারন করেন। অথচ প্রধানমন্ত্রীর কুরুচি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন কুরুচি বক্তব্যে দেননি। এতে আরও প্রমাণ হয়, বিএনপি কী নীতিতে বিশ্বাস করে।’
তারেক রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘তারেক জিয়া জনগণের মনে আরেক জিয়া হিসাবে স্থান করে নিয়েছিল। তাই জাতীয় রাজনীতি ও জিয়াউর রহমানের চেতনা ধ্বংস করতেই খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশে ভয়ংকর অনাচার ও দুঃশাসন গড়ে তুলেছেন। তিনি ও তার সরকারের মন্ত্রীরা ছাড়া এখন কেউ কথা বলতে পারে না।
রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে যতোই কুরুচি ও কটুক্তিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হোক না কেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমরা অবিচল থাকবো, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবো।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেনের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-স্বেচ্ছাবিষয়ক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি বলে আায়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিএনপির সব ধরনের খবরের সর্বশেষ আপডেট পেতে লাইক দিয়ে সংঙ্গে থাকুন
























