জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭ নং নলডাঙ্গা ইউনিয়নে জমে উঠেছে ভোটের আমেজ । আগামী ৭ ই মে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই ইউনিয়ে আড়মুখী, আড়পাড়া , বাগুটীয়া, সোনাইখালী, ভীটশ্বর, খেদাপাড়া ,চেউনিয়া, খড়াশুনী, দঃ দুর্গাপুর, কিসমত, গড়িয়ালা, খুরশী, যাত্রাপুর, মীরের হুদা , জনকাজুলী, নলডাঙ্গা, করাতীপাড়া, নারায়নপুর, ডাকাতীয়া, শ্রীমন্তপুর, নৈহাটী তেতুলবাড়ীয়া নিয়ে মোট ২২ টা গ্রাম নিয়ে এই ইউনিয়ন গঠিত, প্রায় ২৭ হাজার লোকের বসবাস।
এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছে ৩ প্রার্থী তার মধ্যে আওয়ামিগের সমর্থন নিয়ে কবির হোসেন নৌকা, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসবে আনারস প্রতীক নিয়ে রবিউল ইসলাম রবি এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর আব্দুল হাই । ২০১১ সালের নির্বাচনে রুহল নামে এক ব্যাক্তি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তারপর রুহল সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হলে উপনির্বাচনে জয়ী হয় রবিউল ইসালাম রবি। ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হলেও প্রায় গ্রামের যোগাযগের জন্য রয়েছে রাস্তাপাকা। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন সন্তোষ জনক।
তারপরে ও ইউনিয়ন বাসীর অভিযোগের অন্ত নেই আড়মুখী, ভীটশ্বর , বাগুটীয়া এই ৩ গ্রামের মানুষের জন্মনিবন্ধন ও নাগরিকতার সনদপত্র নিয়ে রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। তারা বলেন জন্ম নিন্ধনের জন্য তাদের নিকট থেকে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। কাউকে কাউকে জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিকতার সনদপত্র না দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁহাছাড়া ইউনিয়ন বাসীর নিকট থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিএফ কার্ড, ভিজিডি, কাজের বিনিময়ে খাদ্র কর্মসূচীর ব্যাপারে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
সমস্ত ইউনিয়ন ঘুরে এক মাত্র নৌকা প্রতীকের প্রচার লক্ষ করা গেছে।প্রথম দিকে ধানের শীষ এবং আনারসের প্রচার তেমন নেই বলেই চলে। ইউনিয়ের কয়েকটি জাইগায় আনারস প্রতীক চোখে পড়লে ও কোথায় ধানের শীষ প্রতীক ছিল না। কিন্তু গত কয়েক দিন সমস্ত প্রতীকের জম জমাট প্রচার লক্ষ করা যাচ্ছে।
কারন হিসাবে রবিউল ইসলাম রবির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে, আমাকে নির্বাচনের মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত আমার এবং আমার কর্মীদের ভঁয়ভৃতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। মাঠে আমার প্রচার মাইক ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। পোষ্টার টাংলে তাঁহা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। আমার কর্মীদের জাইগায় জাইগাই হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি চাই অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন। আমি এই কয়েক বছরে যে উন্নয়ন করেছি তাহাতে যদি ভোটাররা কেন্দ্রে যেয়ে ভোট দিতে পারে তাহলে আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমার জনপ্রিয়তায় ভীতু হয়ে একটি পক্ষ ইউনিয়নে বিভিন্ন জাইগাই ত্রাসের সৃষ্টি করে জনসাধারণকে তার পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কবির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কোন কর্মী সমর্থক কাহার নির্বাচনী প্রচারে বাধা প্রদান করছে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীকের পক্ষে এই ইউনিয়নে গন জোয়ার তৈরি হয়ে হয়েছে, সেই গন জোয়ারের ভয়ে ভীতু হয়ে আমার প্রতিপক্ষ বড়ভাই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালাছে। সে দুই দিক থেকে দুইটা মাইক বের করে একটা ভাল আর অন্যাটা ভঙ্গা। ভাঙ্গা মাইক থানা ও নির্বাচন অফিসে নিয়ে যেয়ে আমার নামে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করছে। প্রতিনিয়ত আমার কর্মীদের ভঁয়ভৃতি দেখান হচ্ছে।আমাকে বি এন পির কর্মী হিসাবে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কখন ও বি এন পির সাথে জড়িত ছিলাম না।
বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর আব্দুল হাইয়ের সাথে বার বার বার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টার করে তাকে পাওয়া যায় নাই।
সমস্ত ইউনিয়ন ব্যাপী গ্রামে গঞ্জে, চায়ের দোকানে আলোচনার ঝড় উঠেছে কে হবে এই ইউনিয়ের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সেটা জানার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৭ মার্চের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময় প্রযুন্ত।
























