১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা, হতাশ রিয়াল

উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকে গ্রানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লা লিগার সেরার মুকুট অক্ষুণ্ন রেখেছে বার্সেলোনা। গ্রানাডার ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে হতাশায় ডুবিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন লুইস এনরিকের শীষ্যরা।

রিয়ালও কিন্তু হারেনি। জিতেছে তারাও। গ্রানাডাকে হারিয়ে বার্সার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিনে দেপোর্তিভোকে জিনেদিন জিদানের ছেলেরা দিয়েছে জোড়া গোল। দুটি গোলই করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বার্সার থেকে ১ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকায় মেসিদের সেরা মেনে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রোনালদো, বেলদের। বার্সার ৯১ এর জায়গায় রিয়ালের পয়েন্ট ৯০।ফলে নিজেদের কাজটা ঠিকই করেছে রিয়াল মাদ্রিদ, কিন্তু গ্রানাদার মাঠে হোঁচট খায়নি বার্সেলোনা। লুইস সুয়ারেসের হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে গ্রানাদাকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা ধরে রেখেছে দলটি।

অন্য ম্যাচে দেপোর্তিভো লা করুনাকে ২-০ গোলে হারিয়েও তাই হতাশায় পুড়তে হয়েছে রিয়ালকে। বার্সেলোনার ১ পয়েন্ট পেছনে থেকে রানার্সআপ হয়েছে জিনেদিন জিদানের দল।

বার্সেলোনা জিতলেই চ্যাম্পিয়ন, তবে পয়েন্ট হারালে দেপোর্তিভো লা করুনার মাঠে জিতলে রিয়ালের শিরোপা। শনিবার এই হিসাব মাথায় রেখে একই সঙ্গে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্রথম গোলটি করেছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের ওই অবস্থায় রিয়াল এগিয়ে যাওয়ায় কিছুটা শঙ্কা পেয়ে বসেছিল বার্সেলোনা সমর্থকদের। তবে প্রথমার্ধেই তা দূর করে দেন সুয়ারেস।সপ্তম মিনিটে অবশ্য এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনাও। কর্নার থেকে মাসচেরানোর মাথা হয়ে জেরার্দ পিকের হেড গোললাইন থেকে কোনোমতে ঠেকান গোলরক্ষক ফের্নান্দেস।দশম মিনিটে মেসির দূরপাল্লার শট লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর ওপর দিয়ে মেসির দুর্দান্ত পাসে ডি-বক্সে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়েও গোল করতে পারেননি নেইমার।২২তম মিনিটে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান সুয়ারেস। নেইমারের বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ধরে জরদি আলবা আড়াআড়ি বাড়ান সুয়ারেসকে। ছয় গজ দূর থেকে বলটা কেবল ফাঁকা জালে ঠেলে দিতে হয় উরুগুয়ের এই তারকা ফরোয়ার্ডকে।

৩৮তম মিনিটে বার্সেলোনার শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি। মাসচেরানোর বাড়ানো বল ডান দিকে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে একেবারে লাইন থেকে ক্রস করেন দানি আলভেস। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন সুয়ারেস।বিরতির পর অনেকটা নির্ভার বার্সেলোনা কিন্তু আক্রমণের ধার কমায়নি। ৫২তম মিনিটে দানি আলভেসের ক্রসে একটুর জন্য পা লাগাতে পারেননি সুয়ারেস।

৫৮তম মিনিটে বার্সেলোনার গোলে নেওয়া গ্রানাদার প্রথম শটটি আস্থার সঙ্গেই ঠেকান গোলরক্ষক মার্ক আন্ড্রে টের স্টেগেন।৬০তম মিনিটে নেইমারের শটে কোনোমতে হাত লাগিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। গোল না পেলেও অবশ্য দুর্দান্ত খেলে সুয়ারেসকে হ্যাটট্রিক করিয়েছেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। ৮৬তম মিনিটে এক ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে তিনি বল বাড়ান ডি-বক্সে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সুয়ারেসও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তা জালে পাঠান।

লা লিগার এবারের আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা সুয়ারেসের এটি ৪০ নম্বর গোল। পিচিচি ট্রফি জয়ে রোনালদোকে (৩৫টি গোল) হারিয়ে দিলেন তিনি।কয়েক রাউন্ড আগে নিজেদের হারিয়ে আবার দুর্দান্ত রূপে ফিরে পাওয়া লুইস এনরিকের দল ম্যাচ শেষেই মেতে ওঠে ২৪তম শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে। শেষ আটটি লা লিগার ছয়টিতেই শিরোপা জিতল কাতালান দলটি।লা লিগায় বার্সেলোনার মোট শিরোপার এক তৃতীয়াংশই এসেছে মেসি-ইনিয়েস্তা দলের আসার পর। প্রথম ৭৫ বছরে ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন হয় বার্সেলোনা। আর ২০০৪ সালে মেসি মূল দলে খেলা শুরু করার পর আসে ৮টি লিগ শিরোপা।

এর আগে মেসিদের রোমাঞ্চকর একটি লা লিগার মৌসুমের সাফল্য উদযাপন করে নেওয়ার পালা। রোববারই বার্সেলোনার রাস্তায় হবে বিজয় মিছিল।

দুর্দান্ত এই মৌসুমে বার্সেলোনার এখন পর্যন্ত অপ্রাপ্তি কেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনাল থেকে বাদ পড়া। গত মৌসুমে ‘ট্রেবল’ জেতা দলটির এবার রয়েছে ঘরোয়া ‘ডাবল’জেতার সুযোগ। মৌসুমে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী ২২ মে স্প্যানিশ কাপের ফাইনালে মেসি, নেইমাররা খেলবে সেভিয়ার বিপক্ষে। তার আগে রোমাঞ্চকর একটি লা লিগার মৌসুমের সাফল্য উদযাপন করে নেওয়ার পালা লুইস এনরিকের ছেলেদের।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ