মো. হোছাইন, (চট্টগ্রাম) ইপিজেড:
অধিক ব্যস্ত তম শহর আমাদের বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। যার মধ্যে রয়েছে লক্ষ্য লক্ষ্য জনসমাগমপূর্ণ এলাকা ইপিজেড। এখানে হাজার হাজার অভাব পরিবার থেকে উটে আসা লাখো মেহেনতি শ্রমিকের বাস। শুধু মাত্র তাদের পরিবার পরিজনদের মূখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্য তুলে দেবে সে আশা নিয়ে পরিবারের সকল সদস্যকে সুদূর তেপান্তরে রেখে এসে তারা অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আনাচে কানাচে। যার ফলে তারা নিজেদের সুখের কথা ভুলে গিয়ে অনাহারে, অর্ধাহারে, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু বাচ্ছার করুণ মুখের দিখে থাকিয়ে নিজেদের হাজারো কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে, অধিক পরিশ্রম হবে জেনেও শত বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে নারী পুরুষ সমানে কর্মস্হল হিসেবে বেছে নিয়েছে ইপিজেড কেন্দ্রিক গড়ে উটা বিভিন্ন কলখারখানা, মিল, ফ্যাক্টরি এবং গার্মেন্টস সেক্টরে।
এই বিশাল শ্রমিক এলাকায় (ইপিজেড) প্রবেশ করার জন্য রয়েছে কয়েকটি ছোট খাট জনপথ। যেখানে রিতীমত দুটি রিক্সা কিংবা দুটি অটোরিক্সা যেতে হিমসিম খেতে হয়। তার মধ্যে গুরত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে গড়ে উঠেছে বাসমান দোকান হাট-বাজার। যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং ফুটপাত দখলে নিয়ে দোকানের মালামাল বাহিরে, এমনকি কিছু কিছু জায়গায় দেখা যায় রাস্তায় পর্যন্ত নেমে গেছে তাদের দোকানপাট। সন্ধ্যা গনিয়ে আসলে এর ব্যাপকতা নিজ চোখে না দেখলে কেউ বিশ^াস করার মতো না। জনপথ তখন পণ্য বেচাকেনার বাজারে পরিণত হয়।
সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ইপিজেড এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেন সংস্কার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাত তৈরি করে করেছে। ফুটপাত পথচারীরা নির্বিঘেœ চলাচলের জন্য করা হলেও কিছুদিন পর পথচারী হাঁটতে হচ্ছে মূল সড়কে। এতে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটা দূর্ঘটনাও ঘটেছে। কারণ এলাকার কিছু অসাধু লোভী ব্যবসায়ী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী নেতার ক্ষমতায় ফুটপাতে বসিয়ে দেয় হকারদের।
এক পথচারী নাজমা আক্তার বলেন, বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব দুই কিলোমিটার। যানজট না থাকলে পাঁচ মিনিটে যাওয়া যায়। কিন্তু রাস্তায় তো প্রচুর যানজট।্ তাই হেঁটেই যাই কষ্ট করে। হেঁটে যাওয়ার সময়ও বিপত্তি ঘটে। ড্রেনের উপর ফুটপাত গুলোতে দোকানদাররা পণ্য রাখে। সবজি বিক্রেতেরা দাঁড়িয়ে সবজি রাখে। আবার কিছু কিছু হকারও বসে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে কোন কোন সময় যেতে পারিনা। ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে হাঁটতে হয়। এভাবে মূল সড়কে হাঁটতে গিয়ে গত বছর আমার এক বান্ধবী সড়ক দূর্ঘটনায় আমার সামনেই মারা গেছে। আমিও আহত হই।
তবে এটাই কি ধরে নেয়া যায়, যে মানুষ গুলো দিন রাত ভুলে গিয়ে শত পরিশ্রম করে, হাজারো লাঞ্চনা সহ্য করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক সহ ভিবিন্ন উন্নতির দ্বার প্রান্তে। সেই খেটে খাওয়া মানুষদের ভোগান্তির কথা গুলো শুনা এবং দেখার মতো আজ কেউ নেই। আবাসিক, নিরিবিলি, প্রাণবন্ত শহর ছেড়ে এরকম গলির ভিতর সৃষ্টি হওয়া ঘন বসতি পূর্ণ রাস্তা গুলোর উপর দিয়ে কোন এক দিন নেমে না হাটলে মনে হয় বুঝাই যেতনা যে, অর্থনীতি স্বনির্ভর আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারীগর সে মানবেতর মানুষ গুলো কিভাবে তাদের জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাজারো কষ্টকে পেছনে ফেলে তারা এগিয়ে যাচ্ছে বহমান নদীর ¯্রােত ধারার মত।























