৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘কে হবে আমাদের পরবর্তী টার্গেট’ আনসার আল ইসলাম

আজ শনিবার রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে গণমাধ্যমের কাছে আনসার আল ইসলামের (আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ) নাম ব্যবহার করে প্রকাশকদের ওপর হামলার দায় স্বীকার এবং পরবর্তী ‘টার্গেট’ কারা হবে সে ব্যাপারে দুটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, এই দুই প্রকাশকের প্রকাশিত বইয়ে রাসুল (সা.) ও ইসলামকে কটাক্ষ করা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের ওপর ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। 

এর আগে ব্লগার নিলয় হত্যার পরও একইভাবে দায় স্বীকার করে বার্তা পাঠিয়েছিল আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা। 

‘কে হবে আমাদের পরবর্তী টার্গেট’
এ শিরোনামে আট ধরনের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী সময়ে ‘টার্গেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ। তাদের মধ্যে রয়েছে— আল্লাহ, রাসুল ও দ্বীন ইসলামকে হেয়কারী ও কটূক্তিকারী ব্যক্তি, কটূক্তিকারীদের বুদ্ধি-পরামর্শ ও অর্থ দিয়ে সাহায্যকারী ও রক্ষাকারী ব্যক্তি, ইসলামী শরীয়তের নিয়ম-কানুনে বাধা প্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। কারো নাম উল্লেখ না করে তারা বলেছে হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা; কোনো এলাকার মেয়র, মোড়ল ও মাতব্বর; কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান; কোনো বিচারক, আইনজীবী ও চিকিৎসক; কোনো গল্পকার, ঔপন্যাসিক, কবি, বুদ্ধিজীবী, কোনো পত্রিকার সাংবাদিক ও সম্পাদক; নাট্যকার, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পী ইত্যাদি।

যারা নিজেদের বক্তৃতা বা বিবৃতির মাধ্যমে ইসলামী শরীয়তের বিরোধিতা করছে, ইসলামী শরীয়তকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে, যারা এই মুসলিম সমাজে বিভিন্ন প্রকার নগ্নতা-বেহায়াপনার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যারা এদেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি-অর্থনীতিতে থেকে ইসলামী শরীয়তের ‘অবশিষ্টাংশটুকুও’ ছেটে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত এবং যারা দ্বীন ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত—তাদেরও পরবর্তী টার্গেট বলে উল্লেখ করেছে আনসার আল ইসলাম।

আনসার আল ইসলাম জানায়, যারাই লেখনী, কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও দ্বীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে— এমন সব ‘মুরতাদ’ ও ‘ইসলামের শত্রু’ই টার্গেট হবে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

আনসার আল ইসলাম আরো জানায়, কোনো সাধারণ মুসলমান কখনোই তাদের টার্গেট নয়। কোনো সাধারণ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কিংবা আল্লাহর দ্বীনের সঙ্গে শত্রুতা করছে না তাঁরাও তাদের টার্গেট নয়। পাশাপাশি বলা হয়েছে, ব্যক্তিজীবনে কেউ নাস্তিক হলেই তারা তাকে টার্গেট হিসেবে নিচ্ছে না বরং টার্গেট শুধু তারাই যারা ‘নাস্তিকতা’ ও ‘মুক্তচিন্তার’ চর্চার আড়ালে রাসুল (সা.) ও দ্বীন ইসলামকে নিয়ে কটূক্তি করছে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর লালমাটিয়ার সি ব্লকে প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক ও ব্লগার রণদীপম বসু ও তারেক রহিমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। এদের মধ্যে তারেক রহিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এর ঘণ্টা খানেকের মধ্যে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে। 

প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল ও ফয়সাল আরেফিন দীপন উভয়ের প্রকাশনা সংস্থা থেকেই নিহত ব্লগার অভিজিত রায়ের বই প্রকাশিত হয়েছিল। অভিজিত রায়কে গত ফেব্রুয়ারি মাসে অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ