১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাপ্তাই লেকে পর্যটকবাহী নৌকাডুবি

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত পাঁচ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহতদের লাশ পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুই বোটের প্রতিযোগিতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নৌকাডুবিতে নিহত পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনকে নিজেদের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম ইপিজেডস্থ প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। রিনা আক্তার (৩২), শিলা আক্তার (২৭) ও আসমা আক্তার (২২) প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের সুইং লাইনের অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন এইচআর বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার খসরুস জামান। বাকি দু’জনের মধ্যে একজ আফরোজা আক্তার (১৪), আরেকজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
প্রতক্ষদর্শী প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসের কর্মী হাসান ও সুমন জানান, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ছুটির দিন হওয়ায় বন্ধুরা মিলে সকালে তারা রাঙামাটি যান। পর্যটন ঘাট থেকে সুবলং যাওয়ার জন্য তারা বোটে ওঠেন। বোটটি ডিসি বাংলো এলাকায় যাওয়ার পর চালক তাদের পাশের বোটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করে। একপর্যায়ে বোট কাধ হয়ে যায়। তখন সবাই একপাশে চলে আসলে বোটটি ডুবে যায়। অনেকে সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত আফরোজার চাচা শহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুরে নামায শেষে বাসায় যাওয়ার পর টিভিতে খবর দেখে বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাঙামাটি চলে আসি। আফরোজার বাড়ি মোংলায়।
প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসের এইচআর বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার খসরুস জামান বলেন, দুর্ঘটনার খবর জানার পর কোম্পানি থেকে আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের লাশ বাড়ি পৌঁছানোর যাবতীয় খরচ এবং নিহতদের প্রত্যোক পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার এসআই লিমন ঘোষ বলেন, ‘শহিদুল নামে আফরোজা এক চাচা এসেছেন। তাকে আফরোজার লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিরা প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসে কাজ করতেন তাই ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
রাঙামাটি কোতয়ালি থানার ওসি তদন্ত নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ওই বোট চালকের কোনও ত্রুটি ছিল কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।’

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ