২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এনড্রয়েড ব্যবহারকারীরা অপরিচিত এস এম এস থেকে সাবধান

এনড্রয়েড অপরিচিত এস এম এস থেকে সাবধান, ভয়ংকর বিপদে পড়তে পারেন। যে কোনও স্মার্টফোন হ্যাক করার কৌশল রপ্ত করেছে ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা। মাত্র একটি মেসেজ পাঠিয়েই অসম্ভবকে সম্ভব করার কায়দা আয়ত্ত করেছে জিসিএইচকিউ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোপন নথি ফাঁস করে আমেরিকার চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন প্রাক্তন এনএসএ কনট্র্যাক্টর এডওয়ার্ড স্নোডেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর নজরদারির আশ্চর্য নমুনা পেশ করে ফের সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। স্নোডেনের দাবি, ব্যবহারকারীর অজান্তে একটি টেক্সট পাঠিয়েই তাঁর স্মার্টফোনের দখল নিতে পারে ব্রিটিশ গুপ্তচরেরা। উদ্বেগের বিষয়, তাদের হানাদারি ঠেকানো নাকি এক রকম দুঃসাধ্য। স্নোডেনের মতে, বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে ফোন হ্যাক করার কায়দা হাতিয়েছে ব্রিটিশ চরেরা। স্নোডেন জানিয়েছেন, ওই প্রযুক্তির সাহায্যে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে ঘরের ভিতরের প্রতিটি শব্দ শুনতে পাওয়া সম্ভব। এছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর হেফাজতে থাকা যাবতীয় তথ্য, ছবি ও ভিডিও ক্লিপিংস-এ ওঁত পাততে পারে গোয়েন্দা বিভাগ। স্নোডেনের দাবি, এই প্রযুক্তির সাহায্যে লুকিয়ে স্মার্টফোন মালিকের ছবি তুলে ফেলা যায় এবং তিনি কখন কোথায় রয়েছেন আর কী করছেন, সে ব্যাপারেও আড়ি পাতা যায়। এক কথায়, তাঁর একান্ত গোপনীয় প্রতিটি মুহূর্তের উপর কড়া নজর রাখতে পারে গুপ্তচরেরা। স্নোডেনের মতে, অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তিকে 'স্মার্ফ স্যুট' বলা হয়। এর আঁওতায় রয়েছে বেশ কিছু পরিষেবা। যেমন, 'ড্রিমি স্মার্ফ'-এর সাহায্যে যে কোনও সময় বিশ্বের যে কোনও স্মার্টফোন চালু বা বন্ধ করা যায়। 'নোজি স্মার্ফ'-এর সাহায্যে স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন চালু করে দেওয়া যায় এবং ফোন সুইচ অফ থাকলেও ব্যবহারকারীর কথা শোনা ও রেকর্ড করা যায়। 'ট্র্যাকার স্মার্ফ'-এর সাহায্যে ফোন ব্যবহারকারীর গতিবিধির উপরে সহজেই নজর রাখা যায়। সাধারণ জিপিএস-এর চেয়ে এই প্রযুক্তি অনেক উন্নত। 'প্যারানয়েড স্মার্ফ'-এর সাহায্যে ফোনটি যে হ্যাক করা হয়েছে সে খবর তার মালিকের থেকে গোপন রাখা সম্ভব হয়। এমনকি সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে গেলেও তা কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে গুপ্তচর সংস্থা যে মেসেজটি পাঠিয়ে ফোনের দখল নিচ্ছে তা কখনও দেখা যাবে না। স্নোডেন জানিয়েছেন, ওই ফোনে যে আদৌ এমন কোনও মেসেজ ঢুকেছে তা টের পাওয়া অসম্ভব। স্নোডেনের দাবি, ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থাকে এই প্রযুক্তি জুগিয়েছে আমেরিকার ইউনাইটেড স্টেটস ন্যাশনাল এজেন্সি (এনএসএ)। বলা বাহুল্য, ব্রিটেনের পাশাপাশি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার হাতেও এই অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ