২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ থেকেই শুরু হয়েছে সারাদেশে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন)।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে আজ শুক্রবার ১০ জানুয়ারি। যার নেতৃত্বে, যার সংগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম, সেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন আজকের এই দিনে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে যান বঙ্গবন্ধু। সেখান থেকে ভারতে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি দিয়ে ১০ জানুয়ারি দুপুরে তিনি তৎকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে নানা প্রস্তুতি চলছে সারাদেশে। আর জাতির পিতার দেশে ফেরার ঐতিহাসিক ঘটনাকে আরও স্মরণীয় করতে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আজ ১০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে সারাদেশে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন)।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও জনপরিসরে ক্ষণগণনা শুরু হয়। দেশের ৫৩ জেলা, ২টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু এলাকা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবন, হাতিরঝিল, মেহেরপুরের মুজিবনগর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া।

জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানটি হবে এ বছরের ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে, সেদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মগ্রহণের শতবর্ষ পূর্ণ হবে। ওই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ কয়েকজন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ জায়েদ আল নাহিয়ান, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ।

এ ছাড়া কেনেডি পরিবারের কোনো সদস্য এবং জোসেফ স্টিগলিজ বা জেফরি স্যাকসের মতো ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল মানুষের কল্যাণের জন্য- মুক্তির জন্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল সংগঠন জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সফল করে তুলবে।

এ বছরের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে শুরু হবে বছরব্যাপী এ উদযাপন। এ ছাড়া গত বছরের ২৫ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ কার্যক্রম উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। ওইদিন প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ