২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আওয়ামী লীগে দূষিত রক্তের প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে দূষিত রক্তের প্রয়োজন নেই। যারা অন্তঃকলহ করবে, অপকর্ম করবে, দুর্নীতি করবে- তাদের এ দলে স্থান হবে না’। ‘দূষিত রক্ত ফেলে দিয়ে বিশুদ্ধ রক্তের সঞ্চালন করতে হবে। গুটিকয়েক খারাপ লোকের জন্য গোটা আওয়ামী লীগ বদনামের ভাগিদার হবে না। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন হচ্ছে। ১০টা উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে যদি একটা খারাপ আচরণ হয়। আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু সেই পরিবর্তন চাই না যে পরিবর্তন আওয়ামী লীগকে আদর্শের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শিকড়ের সঙ্গে আদর্শ বিস্তৃত। সরকারের ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে যারা কাজ করবে তাদের চরিত্র হারালে চলবে না। ট্র্যাডিশনের সঙ্গে টেকনোলজির সমন্বয়ে গুণগত পরবির্তন আনতে হবে।’ তিনি আজ ১৩ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টায় নগরের বাকলিয়াস্থ কে বি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত জননেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “শুধু ব্যবসা করলে তিনি দেশের এক নম্বর ধনী হতেন। কিন্তু রাজনীতিকে তিনি মানি মেকিং মেশিন করেননি। আজ অনেকে রাজনীতিকে কেনাবেচার পণ্য মনে করে। “জনগণকে তিনি ভালোবাসতেন বলেই তার প্রতি জনগণের ভালোবাসা আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। চট্টগ্রামের সমার্থক হয়ে গিয়েছিল দুই নাম- বাবু ভাই ও মহিউদ্দিন চৌধুরী।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিস, সহ-সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি এড: এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি এম আবু সাঈদ, উত্তর জেলা সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এড: জহির উদ্দিন, প্রদীপ দাশ, মোছলেহ উদ্দিন মনসুর, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, উপজেলা এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল প্রমুখ।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘রাজনীতিকে যারা অর্থ দিয়ে গিলতে চান তারা বাবু ভাইয়ের কাছে রাজনীতি শিখুন। অর্থ-বিত্তের মধ্যে থেকে তিনি কিভাবে সাধারণ জীবনযাপন করেছেন তা তার কাছে শেখা যায়।’ ৭৫’র ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যখন দল বিপর্যস্ত তখন আখতারুজ্জামান বাবু দলের হাল ধরেছিলেন। তৎকালীন সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, বাবু ভাই একজন ধর্নাঢ্য ব্যক্তি হলেও তার বাড়িতে সর্বসাধারণের অবাধ যাতায়াত ছিল। নেতৃত্বের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে তিনি সৌজন্যতা দেখাতেন। গণমানুষের নেতা ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভাই। তিনি ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তাদেরও নেতা ছিলেন। দলের ঐক্যের প্রতীক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সর্বক্ষেত্রে সফল মানুষ ছিলেন।
সভায় আখতারুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, “তিনি আপনাদের মাঝে বেঁচে আছেন। এটাই বড় পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জন্য। ব্যক্তি জীবনে সফল ব্যবসায়ী ছিলেন, ব্যবসার জন্য রাজনীতি করেননি। “পঁচাত্তরের পর আওয়ামী লীগ করার মানুষ পাওয়া যায়নি তখন। আজ অনেকে দল করতে চায়। দেশ আজ গর্ব করার মত জায়গায় পৌঁছেছে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র চায় আমাদের ধ্বংস করতে, তারা বসে নেই। আজকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টিকে আছে দলীয় নেতাকর্মীর কারণে।”
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “ওয়ান ইলেভেনের পর দুঃসময়ে যখন অনেক বড় বড় নেতা আস্থার সংকটে ভুগেছিলেন তখন তিনি (আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু) আস্থা হারাননি। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে অনেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের লোভে পড়েছিলেন তখন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দল ছেড়ে যাননি বরং নিজের সর্বস্ব ঢেলে দিয়ে দলের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। “তাদের সেই ত্যাগে আজ দল টানা তৃতীয় বারের মত ক্ষমতায়। তিনি অসময়ে চলে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে আজ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখি তা দেখতে হত না। যেভাবে শুধু নিজের দল ভারির রাজনীতি আজকে হয়, এ সময়ে তিনি বেঁচে থাকলে তার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের অনেক সংকট থেকে মুক্তি দিত।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, “বাবু ভাই বিত্তশালী ছিলেন কিন্তু সাধারণ মানুষকে আপন করে টেনে নিতেন, আজ বিত্তবানরা দলকে নিজের বাবার সম্পত্তিতে পরিণত করতে চান। উনার সান্নিধ্য পেয়েছি। উনার আদর্শ ধারণ করতে হবে।”

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ