৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘অনেকের আপত্তি’, তাই কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হলো মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল

লালমনিরহাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চে স্থাপিত ম্যুরাল ঢেকে দেওয়া হয়েছে কাপড় দিয়ে। গতকাল মহান স্বাধীনতা দিবসের দিনের এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

আজ বৃহস্পতিবার টিআইবি এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. মোরশেদ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের ওই উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।

গতকাল বুধবার মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চের ওই দেয়াল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে জেলা প্রশাসন। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও একই রকম ঘটনা ঘটায় তারা।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চে দীর্ঘ ওই ম্যুরালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকার গঠন, চরমপত্র পাঠ, উদিত সূর্য, ৭১-এর গণহত্যা, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, বিজয়ে উল্লাসে মুক্তিযোদ্ধারা, পতাকা হাতে হাতে বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা, ৭ বীরশ্রেষ্ঠ ও পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।

জানা গেছে, ২৬ মার্চ বুধবার সকালে সনাকের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গেলে কাপড় দিয়ে ম্যুরাল ঢেকে রাখার বিষয়টি চোখে পড়ে তাদের। এর পর সদস্যরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনুষ্ঠান থেকে ফিরে যান। পরে লালমনিরহাট রেলওয়ে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন তারা।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) লালমনিরহাট শাখার সহ-সভাপতি ও লালমনিরহাট উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক সুপেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানে আমরা এ দেশ পেয়েছি। তাদের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন ঢেকে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে এ অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করা।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুফী মোহাম্মদ বলেন,‘স্মৃতিস্মারকটি চলমান সময়ের জন্য অনুপযুক্ত হলে ভেঙে দেওয়া হোক। সারা বছর ম্যুরালটি সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে বিশেষ বিশেষ দিনে কাপড় দিয়ে ঢেকে সার্কাস না করাই ভালো।’

সনাকের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম বীরপ্রতীক জানান, ওই ম্যুরালে বায়ান্ন থেকে ৭১ পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। কাপড় দিয়ে তা ঢেকে রাখার ঘটনা তাঁকে ব্যথিত করেছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, অনেকের আপত্তির কারণে ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ