১লা ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

নিউজ ডেস্ক

করোনা যেমন তার দাপট দেখাচ্ছে, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও করোনা-প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন

[dropcap]ম[/dropcap]হামারি করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ তার মারণ-আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, সুস্থও হয়ে উঠছেন অনেকে। তবে মানবজাতিকে এখন পেয়ে বসেছে মৃত্যুভীতি। অবরুদ্ধ পৃথিবী আবার কবে মুক্ত হবে, কবে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে, তা কেউ বলতে পারছে না। তবে কেউ কেউ ধারণা করছেন ২০২২ পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে করোনাঝড়। তারপর হয়তো আবার নতুন করে শুরু হবে সব কিছু। তখন কারা থাকবেন, কারা থাকবেন না, কেমন হবে করোনা-উত্তর বিশ্বের চেহারা- এসব নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে, চলবে। মানুষ আরো মানবিক হবে, রাষ্ট্রব্যবস্থা, সরকার পদ্ধতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক সম্পর্ক- সব কিছুতেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন চিন্তক-গবেষকরা।

কত মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমাদের এই ধরিত্রীতে সুস্থিতি আসবে তা অজানা থাকলেও, ধরে নেয়া যায়, সংখ্যাটা একেবারে কম হবে না। অনেক ঘরেই হয়তো নতুন করে আলো জ্বলবে, কিন্তু ঘরে আবার বেদনা-বিরহও স্থায়ী হবে। এমন অদৃশ্য অথচ ক্ষমতাবান মানব-শত্রু মানুষ আগে দেখেনি। শতবর্ষ পর পর প্রাণঘাতী রোগের কথা আমরা ইতিহাস থেকে জানছি। তাহলে কেন মানুষ শতবর্ষব্যাপী রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করল না? পৃথিবীতে শক্তিমত্তা দেখানোর জন্য, আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিষ্ঠার জন্য কত আয়োজন-উদ্যোগ হয়েছে। মারণাস্ত্র তৈরির জন্য কত সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়টি হয়েছে চরমভাবে উপেক্ষিত। আজ তার মাসুল গুনছে উন্নত সভ্য বলে দাবিদার দেশগুলো। সভ্যতার এত বড় সংকট আগে আর কখনো দেখা যায়নি।

করোনা আঘাত হেনেছে আমাদের দেশেও। আমরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য সময় পেয়েছি। তবে আমরা সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারিনি। আমরা করোনার ভয়াবহতার বিষয়টি আঁচ করতে পারিনি। ভেবেছিলাম, এ আর কী, কত বিপদ-দুর্যোগই তো আমরা মোকাবিলা করেছি। ঝড়-জলোচ্ছ¡াস আমাদের কাবু করতে পারেনি। সামান্য এক জীবাণু আমাদের বড় ক্ষতি করতে পারবে না। আমরা যুদ্ধজয়ী জাতি। তাই করোনাবিরোধী যুদ্ধে জেতাকেও আমরা সহজ মনে করেছিলাম। করোনা যে দুর্বল শত্রু নয়, এতদিনে তা সবারই বোঝা হয়েছে।

শুরুর দিকে সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে ‘সব ঠিক হ্যায়’ বলে স্বস্তির ঢেকুর তোলা হয়েছে, বাস্তবে কিছুই যে ঠিক নেই বা ছিল না- এখন দেশে করোনা আক্রান্ত মানুষের এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে করোনা যেমন তার দাপট দেখাচ্ছে, তার প্রবল তেজে ছড়িয়ে পড়ছে এক দেহ থেকে আরেক দেহে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অত্যন্ত সাহস নিয়ে, নির্ভয়তার সঙ্গে করোনা-প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এটাও স্বীকার করতে হবে যে, তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়নে ত্রুটি থাকে। সরকারি প্রশাসন, সরকারি দল আগেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দৌড়ে কুলাতে পারে না, করোনাকালেও পারছে না। যদি বিদেশ প্রত্যাগতদের দেশে ছড়িয়ে পড়ার আগে কঠোরভাবে আইসোলেন, কোয়ারেন্টিনে রাখা যেত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আনন্দ ভ্রমণের সুযোগ না দিয়ে ঘরে আটকে রাখা যেত, যদি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে উৎসব ভ্রমণ থেকে বিরত রাখা যেত, যদি পোশাককর্মীদের নিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বহীন আচরণ করা না হতো, যদি দেশের মানুষ সচেতন হতো, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলত, সাময়িক কষ্ট স্বীকার করে হলেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখত তাহলে আমরা করোনা মোকাবিলায় যে সফলতা পেতাম এখন তা পাব না।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সব নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়িত না হওয়ার অভিযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতার জন্য একটি মন্ত্রিপরিষদ আছে। কিন্তু এমন নিষ্প্রভ, উদ্যোগহীন, এমনকি যথাযথভাবে হুকুম তামিলেও অযোগ্য মন্ত্রীরা (ব্যতিক্রম হয়তো আছেন, তবে তা দৃশ্যমান নয়) বাস্তবে এখন প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়ে বোঝা হয়ে আছেন বলেই মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো কাজ করছেন তার প্রশাসনিক টিমের সহযোগিতায়। তবে আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র মূলত জনবান্ধব নয়। যেহেতু সাধারণ মানুষের কাছে তাদের সরাসরি কোনো জবাবদিহিতা নেই, তাই সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের সংবেদনশীলতাও কম। তারা মূলত প্রধান নিয়োগ কর্তার তুষ্টি বিধানেই তাদের সন্তুষ্টি। তাদের মধ্য সাহসের পরিবর্তে তোয়াজ করার মনোভাব থাকে। তারা সহজ কাজকেও অনেক সময় জটিল করে তোলেন। দেশে এখন সেই অবস্থাই চলছে।

আমাদের দেশের মানুষ একটু কম ধৈর্যশীল। তাড়াতাড়ি পাওয়ার আকাক্সক্ষা প্রবল। তাই দেখা যাচ্ছে, সংকট দেখা দেয়ার আগেই চারদিকে হাহাকার। দরিদ্র, অসহায়, কর্মহীন মানুষই যে কেবল জীবনধারণের তাড়নায় অস্থির হয়ে উঠছেন, তা নয়। গাড়িওয়ালা মানুষও দিন কয়েক ধৈর্য ধরতে পারছেন না। চারদিকে শোনা যাচ্ছে নাই নাই ধ্বনি। খাদ্যের জন্য আর্তনাদ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। হতে পারে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বণ্টন ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে। যাদের প্রকৃতই সাহায্য দরকার তাদের সঠিক তালিকা এখনো করা হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি কি দেশে সত্যি তৈরি হয়েছে? সরকারি উদ্যোগের বাইরেও কিছু রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তি, এমনকি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অভাবী মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে। অভাবের কথা যতটা জোর দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, অভাব মেটানোর বিভিন্ন উদ্যোগের খবরগুলো ততটা প্রচার পাচ্ছে না বলে আমার ধারণা।

মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, দুঃসময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংবিধান দায়িত্ব সরকারের। এক্ষেত্রে সরকারের গাফিলতি, উদ্যোগহীনতা, অব্যবস্থাপনা থাকলে তার সমালোচনা হবেই। সরকারকে দোষারোপ সব দেশেই করা হয়। হয়তো আমাদের দেশে একটু বেশি হয়। এ জন্য ক্ষুব্ধ হওয়ার কিছু নেই। মানুষ সরকার এবং সরকার প্রধানের সমালোচনা করে নিজেদের মনের ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ করে কিছুটা মানসিক তৃপ্তি অনুভব করে। এজন্য ঢালাওভাবে মানুষের সমালোচনা করা ঠিক না। মানুষের জন্যই তো সরকার। মানুষকে আস্থায় নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

দেশে সরকার কিংবা সরকার সমর্থিত গোষ্ঠীর বাইরে যারা তাদের সীমাবদ্ধ সাধ্য নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু এখন জাতির অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন সেহেতু তিনি যদি এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে অন্যদের এগিয়ে আসতে বলেন তাহলে সুফল পাওয়া যাবে। যারা এখন সরকারকে অনুদার ভাবছেন, তাদেরও মনোভাবে পরিবর্তন আসবে।

ত্রাণ বিতরণের সময় কে কোন দল করে, তা বিবেচনায় না নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দলমত-নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। যার অবস্থা খারাপ, দুস্থ, যার ঘরে খাবার নেই, তার ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। মানুষ এটাই চায়। যার প্রয়োজন তার হাতে ত্রাণ এবং ত্রাণ নিয়ে কোনো সামান্য দুর্নীতিও নয়। মনে রাখতে হবে অভাব মানুষকে দুর্বিনীত করে তোলে। করোনার দাপট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা তখনই দৃঢ় হবে যখন মানুষ দেখবে চোরেরা প্রশ্রয় পাচ্ছে না এবং মানুষ না খেয়ে থাকছে না।

সূত্র : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিভুরঞ্জন সরকার’এর একটি কলাম  দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় “করোনার দাপট এবং প্রধানমন্ত্রীর সাহস” শিরোনামে প্রকাশ করে। যা জতীর উদ্দ্যেশ্য বহুল প্রচারের লক্ষে প্রকাশ।যেহেতু এটি একটি কলাম তাই কোনপ্রকার শব্দগত, বাক্যগত পরিবর্তন করা হয়নি। শুধুমাত্র লেখার সৌন্দর্য্য বর্ধনে শিরোনামে সামন্য পরিবর্তন।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

নৌকার মনোনয়ন পেলেন বিএনপি নেতা শাহজাহান ওমর

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান ওমর নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় বাসে আগুনের ঘটনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরকে জামিন দেন আদালত। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফয়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালত শাহজাহান ওমরের জামিন মঞ্জুর করেন। বুধবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান।

ফের অবরোধ ডাকলো বিএনপি

সরকার পতনের একদফা দাবিতে ফের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডেকেছে বিএনপি।

 

আগামী রোববার ও মঙ্গলবার (৩ ও ৪ ডিসেম্বর) সারাদেশে সর্বাত্মক এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

সন্তান জন্মের মাস খানেকের মধ্যেই নেইমার-ব্রুনার বিচ্ছেদ

ক্যারিয়ারের শুরু ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে চলছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার। ইনজুরির কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। এমন অবস্থায় ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কা খেয়েছেন নেইমার। সন্তান জন্মের মাস খানেকের মধ্যেই দীর্ঘদিনের বান্ধবী ব্রুনা বিয়ানকার্দির সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে এই তারকা ফুটবলারের।

অক্টোবরের ৭ তারিখেই কন্যা মাভির পৃথিবীতে আসার খবর জানিয়েছিলেন নেইমার। এরপরেই বিতর্কিত তারকা এলিন ফারিয়াসের সঙ্গে তার কিছু কথোপকথনের কথা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও নেইমার দাবি করেছিলেন এসব কথোপকথন বেশ অনেক দিন আগের।

এরপরেই গুঞ্জন শুরু হয় নেইমার-বিয়ানকার্দি সম্পর্ক নিয়ে। অবশেষে তাদের সম্পর্ক শেষের কথা জানালেন বিয়ানকার্দি নিজেই। সন্তান মাভির জন্যই নাকি মাঝেমাঝে একত্র হন দুজন। এছাড়া তাদের মধ্যে আর কোনই তাদের সম্পর্ক টিকে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামেই বিয়ানকার্দি লিখেছেন, ‘যদিও এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু যেহেতু আমি প্রতিদিন সংবাদ, অনুমাননির্ভর কথা আর (লোকের) রসিকতার মুখোমুখি হই, তাই আমি আপনাকে জানাচ্ছি, আমি এখন কোনও সম্পর্কের মধ্যে নেই।

 

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা (নেইমার এবং বিয়ানকার্দি) মাভির বাবা-মা এবং এটাই আমাদের বন্ধনের কারণ। আমি আশা করি এইভাবে তারা ঘন ঘন সংবাদ উপস্থাপন বন্ধ করবে। ধন্যবাদ।’

হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ, যা বললেন আকরাম খান

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি করেছে বিসিবি। এই কমিটিতে আছেন তিন প্রভাবশালী বোর্ড পরিচালক এনায়েত হোসেন সিরাজ, মাহবুবুল আনাম ও আকরাম খান। বিশ্বকাপ চলাকালে একজন ক্রিকেটাররের গায়ে হাত তোলার মতো গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে হেড কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে।

 

আকরাম খান জানান, গণমাধ্যমে হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি সত্যি হলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যেগুলো নিউজ হয়েছে, সেগুলো সত্য কিনা দেখব। সত্য হলে কেন হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা তো হওয়ার কথা না। সবাইকে যাচাই করা হবে, আলাপ করা হবে। তার পর সিদ্ধান্ত নেব। যেই দোষী হবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ভারত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন আকরাম খান। ভালো প্রস্তুতি নিয়ে গেলেও মাঠের পারফরম্যান্স ভালো হয়নি টাইগারদের। কী কারণে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ব্যর্থ হয়েছে, সেটি খতিয়ে বের করা হবে বলে জানান বিসিবির এই পরিচালক।

 

আকরাম খান বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপে আমাদের ভালো করা উচিত ছিল। চার বছর ধরে আমরা এটির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসছি। আমরা তো ভালো করতে পারেনি, উল্টো খারাপ পারফরম্যান্স করেছি। কী কারণে দলের এমন পারফরম্যান্স হয়েছে, সেটি বের করতে হবে। আমাদের বোর্ড সভাপতি কিন্তু বলেছেন উনি কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে। আমার মনে হয় এটাই সঠিক সময়।’

মির্জা আব্বাসের দুর্নীতি মামলার রায় পেছালো

তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার রায় পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমামের আদালতে মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল।

এর আগে, ২২ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন একই আদালত। ওইদিন কারাগার থেকে মির্জা আব্বাসকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

গত ৩১ অক্টোবর মির্জা আব্বাসের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওইদিন এ মামলার সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মির্জা আব্বাস ও সাফাই সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে মির্জা আব্বাসের জামিন বাতিল করেন।

 

এরপর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমামের আদালতে দ্বিতীয় দিনের মতো সাফাই সাক্ষী দেন মির্জা আব্বাস। এরপর দুদক তাকে জেরা করে। পরে মামলার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় সাকিবকে তলব

নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে তলব করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।

 

নির্বাচনী এলাকা-৯১ ও মাগুরা-১ আসনের নির্বাচনী অনুসদ্ধানীর কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ সত্যব্রত শিকদার বৃহস্পতিবার এ তলব আদেশ দেন।

 

শুক্রবার অনসুন্ধান কমিটির কাছে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে সাকিবকে।

 

তলব আদেশে বলা হয়েছে, আপনি জনাব সাকিব আল হাসান, মাগুরা-১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী হিসিবে ঘোষণার পর গত ২৯/১১/১৫ ইং তারিখ বুধবার ঢাকা থেকে মাগুরা আগমনের সময় পথিমধ্যে কামারখালী এলাকা থেকে শোডাউন করে গাড়ীবহর নিয়ে মাগুরা শহরে প্রবেশ করেন এবং নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাতে জনগণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেন। যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, ইলেকট্রিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৬ (ঘ), ৮ (ক), ১০ (ক) এবং ১২ ধারার বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

 

তলবকৃত চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উক্ত আইন ভঙ্গের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তদমর্মে নিম্ন স্বাক্ষরকারী (সত্যব্রত শিকদার, নির্বাচনী অনুসদ্ধান কমিটি, নির্বাচনী এলাকা-৯১, মাগুরা-১ এবং জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত, মাগুরা) দপ্তরে আগামী ৩১/১২/২০২৩ ইং তারিখ শুক্রবার বিকাল ৩টায় স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

 

প্রসঙ্গত, বুধবার প্রথমবার নির্বাচনী এলাকায় যান সাকিব। মাগুরায় পৌঁছে একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে দুপুরে জেলার দলীয় কার্যালয়ে সবাইকে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন তিনি নিজে।

‘নির্বাচন বাধাগ্রস্তকারী বিএনপির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি প্রকাশ্যে নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চুপ ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত।

 

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার সকালে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে বাংলাদেশের এক দল ও তাদের দোসররা হরতাল, অবরোধ ডাকছে। পুলিশের ওপর হামলা করেছে, তারা আমাদের সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করছে, গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। এটাই কী আন্দোলন?

 

এসব করে বিএনপি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

আলিয়ার ‘আপত্তিকর ভিডিও’ ফাঁস, যা বললেন রাশমিকা

বলিউডে ডিপফেক ভিডিও আতঙ্ক! একের পর এক অভিনেত্রীর ভুয়া ‘অশ্লীল ভিডিও’ সামনে আসছে। প্রথমে রাশমিকা মান্দানা, তার পর কাজল। এর পর ডিপফেক ভিডিওর শিকার হয়েছেন আলিয়া ভাট।

 

প্রথম থেকেই এ ধরনের প্রযুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন তামিল অভিনেত্রী রাশমিকা। নিজের ডিপফেক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্পষ্টই জানিয়েছিলেন তার বিরক্তি ও হতাশার কথা। তাকে সমর্থন করেছিলেন অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকারা। আর এবার আলিয়ার কুরুচিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাশমিকা যেন ক্ষোভে ফেটে পড়লেন।

 

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী জানালেন, ‘এ রকম ঘটনা ঘটলে একেবারেই চুপ থাকা যাবে না।’

 

আগামী ১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে রাশমিকার নতুন ছবি ‘অ্য়ানিমেল’। এ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পাশে ছিলেন রণবীর কাপুরও। সেখানেই এক প্রশ্নে ডিপফেকের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন অভিনেত্রী। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

 

রাশমিকা বলেন, ‘যখন আমি ডিপফেক ভিডিওটি দেখি, খুব ভয় পেয়েছিলাম। নিজেকে অসহায় মনে হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে দেখি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবাই আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। বিশেষ করে অমিতজির (অমিত শাহ) সমর্থন আমাকে সাহজ জুগিয়েছিল। তাই আমার মনে হয় যার সঙ্গেই এসব ঘটুক না কেন, চুপ করে থাকবেন না। ভয় পাবেন না। প্রতিবাদ করুন।’

 

প্রসঙ্গত, নায়িকাদের ডিপফেক ভিডিও ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ডিপফেক এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি এমন ভিডিও নতুন করে সাইবার ক্রাইমের প্রতি মানুষের ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। একের পর এক অভিনেত্রী এই বিকৃত প্রযুক্তির শিকার হচ্ছেন।

তবে কী রিয়ালের কোচ হতে যাচ্ছেন স্কালোনি!

আর্জেন্টিনা ফুটবলের নতুন ইতিহাস লেখা কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভালো সময়ই যাচ্ছিল তার। তার অধীনে আলবিসেলেস্তেরা একের পর এক ফাইনাল জিতে দীর্ঘ দিনের শিরোপা জয়ের খরা কাটাচ্ছিল। সব কিছু ঠিক ঠাকই চলছিল তবে হুট করে গেল সপ্তাহে তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বসলেন তিনি ছাড়তে যাচ্ছেন এই দায়িত্ব।

 

তবে কেন, তা জানায়নি। এবার সামনে এলো এক নতুন খবর। স্কালোনিকে কোচ হিসেবে পেতে চায় স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম মুন্দো আলবিসেলেস্তে ‘দবলে আমারিয়া’র বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘কোচ হিসেবে পেতে এরই মধ্যে স্কালোনির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ।’

 

এদিকে আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল যে এই মৌসুম শেষেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি। নিশ্চিত না হলেও গুঞ্জন রয়েছে এই দায়িত্ব ছেড়ে ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন ইতালিয়ান এই কোচ। আর তাই মৌসুম শেষে আনচেলত্তির পরিবর্তে স্কালোনিতে দেখা যেতে পারে রিয়ালের ডাগ আউটে।

 

এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্কালোনি। এরপর যেন নতুন রূপে লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, আনহেল ডি মারিয়া, ডি পল, রোমেরোদের দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। তার অধীনেই আর্জেন্টিনা তিনটি মেজর শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে ২৮ বছর পর ২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। তারপর ২০২২ ফিনালিসিমাতে ইতালিকে হারিয়ে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ঐ বছরই ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা ঘুচে যায় আর্জেন্টিনার।

ফেসবুকে ‘সাবধান’ করলেন মাহি!

আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচন প্রসঙ্গে ফেসবুকে ‘সাবধান’ করলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। যারা আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান না মূলত তাদের ক্ষেত্রে এ সতর্কবার্তা দেন অভিনেত্রী।

 

সোমবার ( ২৭ নভেম্বর) এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেন মাহি। ভিডিওবার্তায় মাহি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের প্রতিযোগিতায় লড়বেন তিনি।

নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ কামনা করছেন অভিনেত্রী। তবে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েও করছেন না এবং আসন্ন নির্বাচনে যারা নাশকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের সাবধান করে নায়িকা বলেন, মানুষকে ভয় দেখাবেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হতে নাশকতা করার চেষ্টাও করবেন না।

এরপরই টিভি মিডিয়ার উদ্দেশে মাহি বলেন, `১২ বছর ধরে সিনেমায় কাজ করছি। আশা করি সব মিডিয়া আমার পাশে থাকবে। আমার নির্বাচনী এলাকায় নজর রাখবেন।’

অভিনেত্রীর বিশ্বাস, মানুষের জন্য কাজ করলে এবং যোগ্য প্রার্থী হলে অবশ্যই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায়। এ সময় মাহি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার জয় পেলে প্রতিটি মানুষের যোগ্য সম্মান নিশ্চিত করবেন তিনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাই সবার উদ্দেশে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের আহ্বান জানান চিত্রনায়িকা মাহি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে ভোটে লড়বেন মাহি। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ি) আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেবেন জনপ্রিয় এ চিত্রনায়িকা।

পাঠক প্রিয়