Sat, January 28, 2023
রেজি নং- আবেদিত

জানা মোদির অজানা বিষয়

শনিবার সকালে দুদিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বছর তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ভারতের চালক হিসেবে কেন্দ্রিয় সরকারের মসনদে আসীন হন তিনি। মসনদে আসীন হওয়ার আগ থেকে এবং পরে পর্যন্ত তাকে নিয়ে গোটা বিশ্বে আলোচনা সমালোচনা কম হয়নি। এমনকি মোদির এক বছর মেয়াদে কি কি ইতিবাচক-নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বিস্তর। নিজ দেশের ইস্যুতে মোদি বেশকিছু পরিবর্তন আনলেও পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে মোদির তেমন কোনো সফলতা এখনও দেখা যায়নি। কিন্তু এই সফলতা অর্জনের জন্য মোদি যে মরিয়া তা বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ সফলকে কেন্দ্র করে মোদির বক্তব্য। তাই মোদির কিছু অনুল্লেখ্য বিষয় নিয়ে এই আয়োজন।
১. মোদির জন্ম ভারতের আড়াই হাজার বছরের পুরনো শহর ভাদনগরে। অন্যান্য ভারতীয়দের মত মোদিও তার জন্মভূমিকে ভালোবাসেন। ভাদনগর হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। একসময় এটি গুজরাট রাজ্যের রাজধানী ছিল। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ১৭ বছর বয়সে এ শহরে সফর করেছিলেন। তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীতে ভাদনগরের উল্লেখ রয়েছে।

২. ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই শহরে জন্মগ্রহণ করেন মোদি। তার মায়ের নাম হীরাবেন। মোদির আরো চার ভাই এবং এক বোন রয়েছেন। তবে তাদের কখনো জনসম্মুখে দেখা যায়নি। তার স্ত্রীর নাম যশোদা। তবে বিয়ের পরপরই তাকে ত্যাগ করেন মোদি।

৩. সবসময় টিপটপ থাকতে পছন্দ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাই তাকে সবসময় ফিটফাট পোশাকেই দেখা যায়। কখনো এলোমেলো বা ইস্ত্রি ছাড়া পোশাকে তাকে দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এতে অভ্যস্ত। কিশোর বয়সে যখন তার আয়রন কেনার সামর্থ্য ছিল না, তখন লোটায় গরম পানি ভরে তা দিয়ে পোশাক ইস্ত্রি করতেন। তার সংগ্রহে কয়েকশ কোর্তা রয়েছে। তার পোশাক তৈরি করে থাকেন আহমদাবাদের সিজি রোডের এক ব্যক্তিগত দর্জি। তার হাতঘড়ি এবং বিভিন্ন ডিজাইনের স্যান্ডেলের প্রতি তার দুর্বলতার কথা সবারই জানা।

৪. পরিচ্ছন্ন এবং ছিমছাম থাকতে পছন্দ করেন মোদি। এজন্য তার ঘর-বাড়ি, এর আশপাশের এলাকা এমনকি নিজের টেবিলটা পর্যন্ত গোছানো থাকে। নিজের চার্টার্ড বিমানটিও বেশ পছন্দ তার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণে তিনি এখন এটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

৬.রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতেও তিনি মিডিয়ার উপস্থিতি পছন্দ করেন। প্রযুক্তিতে তার আগ্রহ এবং দক্ষতা উল্লেখ করার মত। এছাড়া রসিকতা করতেও বেশ পছন্দ করেন। যদিও মাঝে মধ্যে এই রসিকতা হজম করতে কষ্ট হয়।

৭. অর্থ সংক্রান্ত বিষয়াদিতে তিনি খুব সচেতন। এ কারণে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রাণায়ের চুক্তিসমূহ নিজে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুব মিতব্যয়ী। তাই বলে তাকে কিছুতেই কৃপণ বলা যাবে না।

৮. মোদির ওজন প্রায় ৮৪ কেজি। মাঝে মধ্যে মেরুদণ্ডের ব্যাথায় ভোগেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে তার পা ফুলে যায়। তবে তার কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যা নেই।

৯. প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে জীবনের অধিকাংশ সময় রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের সঙ্গে ব্যয় করেছেন। তাই তার আচার আচরণ, কথাবার্তা চলাফেরা সবকিছুতেই তিনি একজন খাঁটি ভারতীয়। যদিও পশ্চিমা ঘড়ি তার বেশ পছন্দ। চিন্তা চেতনা বিশেষ করে নারী এবং পরিবারের ব্যাপারে তাকে রক্ষণশীল কিংবা প্রাচীণপন্থীও বলা যায়। তবে নিজের এসব চিন্তা তিনি কখনো প্রকাশ করেননি। ইংরেজিতে তার দক্ষতা চলনসই হলেও তিনি এই বিদেশি ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওপর সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘে কাজ করতে করতে তিনি গোটা ভারত এবং হিন্দুত্ববাদের ওপর ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেন।

১০. যারা জ্যোতিষশাস্ত্র বিশ্বাস করেন তারা জেনে খুশি হবেন মোদি কন্যা রাশির জাতক। তবে তার ওপর বৃশ্চিকেরও প্রভাব রয়েছে।

১১. প্রতিবছর নবরাত্রির নয় দিনই উপোস থাকেন মোদি। তখন দিনে কেবল একটি ফল আহার করে থাকেন।

১২. প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ইন্টারনেটে বসেন। তখন নিজের ওপর প্রকাশিত প্রতিটি নিবন্ধ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন। বিদেশ সফরের সময়ও এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে না।

১৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সিদ্ধহস্ত। এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো মন্ত্রীদের ওপর নির্ভর করেন না।

১৪. তার কোনো প্রিয় বন্ধু নেই। এজন্য তাকে নি:সঙ্গই বলা যায়।

১৫. ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত। তবে তিনি কখনো স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করেননি। তিনি তার ব্যক্তিজীবনের গোপনীয়তা রক্ষায় বেশ পটু।

১৬.সকাল ৭টা বা তারও আগে অনলাইনে বসে যান মোদি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে অনলাইনে তিনি গোটা রাজ্যের লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। এখন কথা বলেন গোটা ভারতের লোকজনের সঙ্গে। এরপর সকাল সকালই নিজ দপ্তরে চলে যান। সেখানে কোনো কোনো দিন রাত দশটা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

১৭. আয়না দেখা এবং ছবি তোলার প্রতিও তার দুর্বলতা রয়েছে। তিনি প্রায়ই মডেলদের মত পোজ দিয়ে ছবি তোলেন। কয়েক বছর আগে কালো রংয়ের স্যুট তার বিশেষ পছন্দ ছিল। এখন তিনি বিভিন্ন রং নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করছেন। তার পকেটে সবসময় চিরুনি থাকে।

১৮. তিনি রাতে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকেন। কখনো কখনো আরো কম। তবে যখনই বিছানায় যান না কেন সকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে উঠে পড়েন।

১৯. তিনি কিছু কবিতাও লিখেছেন তবে সেগুলোর সাহিত্য মান তেমন সন্তোষজনক নয়।

২০. তার আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ। এছাড়া ইন্দিরা গান্ধীর ভক্ত তিনি।

২১. ১৭-১৮ বছর বয়সে মোদি বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে যান। প্রথমে কিছুদিন রাজকোটের রামকৃষ্ণ মিশন এবং পরে পশ্চিমবঙ্গের বেলুর মঠে কাটান। শেষে পাড়ি জমান হিমালয়ে। এভাবে গোটা ভারত চষে বেড়ান মোদি।

২২. তার প্রিয় খাবার বাখরি (এক ধরনের রুটি) আর খিচুড়ি। তিনি নিজে রান্না করতে পারেন।

২৩. তিনি অগণিত সাধুর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদে কাজ করার সময় গুজরাটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।

২৪. গুজরাটের মুসলিমদের সঙ্গেও তার বেশ মেলামেশা ছিল বলে জানা যায়। যদিও এটি তার ইমেজের সঙ্গে যায় না।

২৫. যে কোনো কঠিন কাজ সম্পাদনে তিনি সিদ্ধহস্ত। নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে সরকারি কর্মকর্তাদের তিনি ব্যবহার করে থাকেন।

২৬. এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই যে গুজরাটের গত তিনটি নির্বাচনের সময় তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছেন। তবে তার এই নেতিবাচক দিকটি তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ কারণেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন।

২৭. তার রাজনীতিতে সফল হওয়ার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে, তিনি তার আশপাশের প্রতিটি মানুষের কার্যকারিতা এবং অকার্যকারিতা সম্পর্কে জানতেন। পাশাপাশি তিনি সময় এবং এর মূল্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। যার কারণে তিনি সময় বুঝে গুটিতে চাল দিয়েছেন এবং রাজনীতিতে এতটা সফল হয়েছেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

এই সম্পর্কীত আরো সংবাদ পড়ুন

টানা দ্বিতীয়বারে ওয়ানডে বর্ষসেরা ক্রিকেটার বাবর

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ২০২২ সালের বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম।

বিস্তারিত »