Mon, May 23, 2022
রেজি নং- আবেদিত

কলকাতা পার্ক স্ট্রিটের মাষ্টার মশাই হল  বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ !

ডেক্স-রিপোর্টঃ রবিবার মধ্যেরাতে বঙ্গবন্ধুর কুখ্যাত খুনি মাজেদকে ফাসিঁতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হয়। এরেই মধ্যে বাঙ্গালীর কলঙ্কমোচনের আরেকটি ধাপ এগিয়ে গেল।

গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে মাজেদকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৪ বছর ৭ মাস ২১ দিন পর গ্রেপ্তার হয় মাজেদে।

গ্রেফতারের পর খুনি মাজেদ জানিয়েছিলেন ২৪-২৫ বছর ধরে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে সে নিজেই বাংলাদেশে এসেছেন। তবে কবে এসেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলেননি ।

রায় কার্যকরের পরও আম জনতার মাঝে ঘুরে ফিরে একটিই প্রশ্ন, এত নিকটে থেকেও ধরা ছোয়ার বাইরে ছিল মাজেদ। কিভাবে আত্মগোপনে ছিল এই কুখ্যাত খুনি। সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কলকাতার জনপ্রিয় পত্রিকা“বর্তমান”-এ সাংবাদিক সুজিত ভৌমিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা থেকে ষ্পষ্ট হয় মাজেদের আত্মগোপনের কৌশল। বর্তমান পত্রিকার রিপোর্টটি হুবুহু তুলে ধরা হল।

“মহল্লা তাঁকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি। হিংসা-বিবাদ তো দূর অস্ত! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই তাদের মাস্টারমশাই নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ।
গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মীরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা!
কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্ক স্ট্রিট তাঁকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টারমশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানত, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টারমশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।
২০১১ সালে তাঁর থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ছ’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্থ পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়।
দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।
এরপর পুলিস মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিসকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।
মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকত। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিসের। কী আছে সেই ফুটেজে?”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক ছয় আত্মস্বীকৃত খুনির মধ্যে সে ছিল অন্যতম। পলাতক বাকি পাঁচ খুনিরা হলো আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরীও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। এদের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ (বরখাস্ত) লিবিয়া ও বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন। বেশিরভাগ সময় লিবিয়াতে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম (বরখাস্ত) পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান থেকে হংকংয়ে তার যাতায়াত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে প্রকাশ। লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী (বরখাস্ত) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে, লে. কর্নেল (অব.) এন এইচ এমবি নূর চৌধুরী (বরখাস্ত) কানাডায় রয়েছেন। আরো একজন ভারতে কারাগারে আটক বলে অনেকে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম রিসালদার মোসলেম উদ্দিন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৩৪ বছর পর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর। খুব ধীরে দীর্ঘ বারো বছরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সঙ্গে অতিক্রম করে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্বঘোষিত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে কারাবন্দি পাঁচ আসামির ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফাঁসি কার্যকর হয়। তারা হলেন সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ।

বাঙ্গালীর প্রত্যাশা অতি দ্রুত বাকী আসামীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করে কলঙ্ক মুক্ত করা। পরের অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুনএখানে ক্লিক করুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email

এই সম্পর্কীত আরো সংবাদ পড়ুন

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৭০ ‘জাতীয়তাবাদী’ নিহত: রাশিয়া

রুশ বাহিনী ইউক্রেনে ২৭০ জনের বেশি জাতীয়তাবাদীকে হত্যা করেছে এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সম্পদ ধ্বংস

বিস্তারিত »

ফান্সের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নিলো রাশিয়া

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলো রাশিয়া। দেশটি ৩৪ জন ফরাসি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। রাশিয়া ত্যাগের জন্য

বিস্তারিত »

যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির রেকর্ড, ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ

যুক্তরাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৯৮২ সালের

বিস্তারিত »