সব শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নূরজাহান বেগমের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ৩ টা ২৫ মিনিটে মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ১ ঘণ্টা সময় দেয়া হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ মাগরিব গুলশান-১ জামে মসজিদ অনুষ্ঠিত হবে ২য় জানাজা। এরপর রাতেই তাকে মিরপুরস্থ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা রয়েছে।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার বাদ জোহর দুপুর আড়াইটায় তার নারিন্দার বাসভবনে প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সোমবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নূরজাহান বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
চাঁদপুরের চালিতা তলীতে ১৯২৫ সালের ৪ জুন নূরজাহান বেগম জন্মগ্রহণ করেন। নূরজাহান বেগমের মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। তিনি পিতামাতার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তার পরিবার ১৯২৯ সালে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় চলে আসে। ‘সওগাত’ পত্রিকার দপ্তর ১১ নম্বর ওয়েলসলি স্ট্রিটের দোতলা বাড়িতেই তারা থাকতেন। এই অফিসেই নিয়মিত সাহিত্য মজলিস বসত। যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম, খান মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, হবীবুল্লাহ বাহার, ইব্রাহীম খাঁ, কাজী মোতাহার হোসেনসহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব অংশ নিতেন। এই সাহিত্য মজলিসের নিয়মিত শ্রোতা হয়ে ওঠেন নূরজাহান বেগম নূরী। তারা তাকে নূরী বলেই ডাকতেন। এই ব্যক্তিবর্গ নূরীর মানস গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে পরিণত নূরজাহান বেগম বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করেন।
১৯৯৬ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠ চক্রের সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার থেকে রোকেয়া পদক পান। পেয়েছেন অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারও। তাকে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, লেখিকা সংঘ, ঢাকা লেডিজ ক্লাব, ঋষিজ শিল্প গোষ্ঠী, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র প্রভৃতি সংগঠন সংবর্ধনা প্রদান করে। ২০১০ সালে পত্রিকা শিল্পে তার অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮ সম্মাননা পান তিনি।























