১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিউজ ডেস্ক

রাজশাহী জামায়াত-বিএনপির দুর্গ, স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগ

জামায়াত-বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর উপদলীয় বিরোধে বিপর্যস্ত দলটির নেতাকর্মীরা। জেলার ছটি আসনেই বর্তমান এমপিদের বিরুদ্ধে সক্রিয় কয়েকজন করে নেতা। ফলে এক একটি আসনে তৈরি হয়েছে কয়েকটি গ্রুপ। এতে অবস্থা দাঁড়িয়েছে যেন ঘরের শত্রু বিভীষণ!

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও কড়া সমালোচনা করছেন একে অপরের। ভোটের আগে এসব বিরোধ মেটাতে না পারলে এ জেলায় দলটির ভরাডুবি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও আদালতে সুরাহা না হলে জামায়াত নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাবে না। সেক্ষেত্রে আর দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনও করতে পারবে না। সেখানে তারা স্বতন্ত্র হিসেবে অন্য প্রতীক নিয়ে অথবা অন্য কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী জেলার আয়তন ২,৪৮৩.৮৪ বর্গ কিলোমিটার। জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ের হালনাগাদ হিসাবে, এ জেলায় ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৮। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৭ হাজার ৯০০ জন এবং নারী ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের আছে ১৮ জন।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী)
কৃষিনির্ভর বরেন্দ্র অঞ্চল তানোর-গোদাগাড়ী নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন রাজশাহী-১। এটি জাতীয় সংসদের ৫২তম আসন। আয়তনে তানোর ২৯৫.৪০ বর্গকিলোমিটার এবং গোদাগাড়ী ৪৭৫.২৬ বর্গকিলোমিটার। তানোরে পুরুষ ভোটার ৯০ হাজার ১৪৩ জন এবং নারী ভোটার ৯০ হাজার ৮৭০ জন। গোদাগাড়ী উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৪ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৭০ জন।

জামায়াত-বিএনপির এ দুর্গে একক আধিপত্য ছিল বিএনপির। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ওমর ফারুক চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলটি পরপর তিনবার বিজয়ী হলেও এবার অবশ্য চলছে প্রকাশ্য কোন্দল। বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন অনেক নেতা। এ আসনে এর আগে বিএনপির একাধিকবার জয়ী ব্যারিস্টার আমিনুল হক সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেন। আসনটিতে নির্বাচন করতে মুখিয়ে আছেন এ দলের বেশ কয়েকজন নেতা। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিএনপির ভালো ইমেজের প্রার্থী সংকটে, সুযোগের অপেক্ষায় আছে জাতীয় পার্টি।

 

নির্বাচিত সংসদ সদস্য
রাজশাহী-১ আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগের মইন উদ্দীন আহমদ। ১৯৭৯ সালে দখলে নেয় বিএনপির শাহজাহান মিয়া। সীমানা পরিবর্তনের পর ১৯৮৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান জয়ী হন। ১৯৮৮ সালে দুরুল হুদা পরে পরপর ৩ বার ১৯৯১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬, ১৯৯৬, ও ২০০১ সালে জয়ী হন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আমিনুল হক। ২০০৮ সালে বিএনপির ই দুর্গে হানা দেয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনবার জয়ী হন।

ওমর ফারুক চৌধুরী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জঙ্গিবাদের মদদ দাতা হিসেবে অভিযুক্ত বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আমিনুল হককে পরাজিত করেন। ২০১৯ সালে তিনি মারা যান। আমিনুল হকের মৃত্যু পর তার ভাই সেনা কর্মকর্তা ও স্থানীয় এক শিল্পপতি দ্বাদশ নির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী হতে প্রচারণা শুরু করেছেন।

রাজশাহী-২ (সদর আসন)
বিভাগীয় এ শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদর আসন রাজশাহী-২। এ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তবে এবার আওয়ামী লীগ নেতারাও মনোনয়ন চাইতে পারে এমন গুঞ্জন আছে রাজনীতির মাঠে। এছাড়া রয়েছে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপিতে প্রার্থী নিয়ে রয়েছে বড় রকমের দ্বন্দ্ব।

রাজশাহী-২ আসনটি বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, মতিহার ও শাহমখদুম থানা এলাকা নিয়ে। এটি জাতীয় সংসদের ৫৩তম আসন। এর আয়তন ১০৪.০৬ বর্গকিলোমিটার। আসনটি মূলত রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত। বোয়ালিয়া এলাকায় মোট ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৬ হাজার ৩২৭ ও নারী ১ লাখ ৩৯৮ জন। রাজপাড়া এলাকায় মোট ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ১৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৮ হাজার ২৭৪ ও নারী ৫৯ হাজার ৮৫৮ জন। মতিহার এলাকায় মোট ভোটার ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ হাজার ৩৯১ ও নারী ২৪,০৬৮ জন। শাহমখদুম এলাকায় মোট ভোটার ২৩ হাজার ৪৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১,৪৭৭ ও নারী ১১, ৯৬১ জন।

 

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনটি ছিল বিএনপির। ২০০৮ সালে মহাজোটের হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির জয়লাভে ক্ষমতাসীনরা আসনটি দখলে নেয়। পরপর তিনবার জয়ী হন ফজলে হোসেন বাদশা। জোটের প্রার্থী হিসেবে আবারো আলোচনায় আছেন তিনি। এ আসনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মুখিয়ে আছেন মনোনয়ন পাওয়ার জন্য। বিএনপি আন্দোলনের কথা বললেও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ দলের অনেক নেতা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জনগণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। তবে বিএনপিতে প্রার্থিতা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের অন্তঃকলহ।

নির্বাচিত সংসদ সদস্য
রাজশাহী-২ আসনে (বোয়ালিয়া-পবা) ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খালেদ আলী মিঞা জয়ী হন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন জয়লাভ করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে আসনটি দখলে নেয় জাতীয় পার্টি। সংসদ সদস্য হন মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। ১৯৯১ সালে আবারো জয় ছিনিয়ে নেয় বিএনপি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে পর পর দুই নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপির কবির হোসেন। ২০০১ সালে জয়ী হন বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। ২০০৮ সালে ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা এ আসনের সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৩ সাল থেকে (বোয়ালিয়া-পবা) নামে রাজশাহীর সংসদীয় এ আসনটি ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সীমানা পুনর্বিন্যাসে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে একটি আসন হওয়ায় পবা উপজেলা বাদ পড়ে।

 

রাজশাহী -৩ আসন (পবা-মোহনপুর)
রাজশাহী মহানগর ঘেঁষা পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন রাজশাহী-৩। গেল তিন মেয়াদে এ আসনটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের টিকিট নিতে এ আসনে বহিরাগত হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী জনসংযোগ এবং মিছিল-মিটিং করছেন।

রাজশাহী-৩ মূলত জাতীয় সংসদের ৫৪তম আসন। আয়তনে পবা ৩৪০.০৩ বর্গকিলোমিটার এবং মোহনপুর ১৬২.৬৫ বর্গকিলোমিটার। পবা উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫৬ এবং নারী ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৪ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের তিন জন। মোহনপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৯ হাজার ০৫৭ এবং নারী ৮৭ হাজার ০৭২ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের একজন।

১৯৭৩ সাল থেকে এ আসনে সমান সংখ্যক ৪ বার করে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। দুবার জয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। একবার জিতেছে ন্যাপ। ২০০৮ সালের পর থেকে এ আসন আওয়ামী লীগের। পরপর ৩ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন আয়েন উদ্দিন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির রুহুল কবীর রিজভী থেকে শুরু করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানের নাম আলোচনায়। অন্তঃকলহে দুদলের ডজন খানেক প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। দল গোছাচ্ছে জাতীয় পার্টিও।

নির্বাচিত সংসদ সদস্য
এ আসনে (মোহনপুর-বাগমারা ) ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেসবাহুল হক জয়ী হন। এরপর ১৯৭৯ সালে বিএনপির এহসান আলী খান এমপি হন। ১৯৮৬ সালে ন্যাপের প্রার্থী সরদার আমজাদ হোসেন জয়ী হন। পরে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) থেকে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। পরের দুই নির্বাচনে আসনটি হয় জাতীয় পার্টির। ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আমজাদ হোসেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে বিএনপির মুহম্মদ আবদুল গফুর জয়ী হলেও ওই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবু হেনা এমপি হন।

২০০১ সালের নির্বাচনেও এ আসন থাকে বিএনপির আবু হেনার দখলে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি ফিরে পায় আওয়ামী লীগ। সংসদ সদস্য হন মেরাজ উদ্দিন মোল্লাহ। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরপর দুবার জয়ী হয়ে আয়েন উদ্দিন এ আসন রাখেন আওয়ামী লীগের দখলে।

 

২০১৮ সালের নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের আয়েন উদ্দিন।

১৯৭৩ সাল থেকে (বোয়ালিয়-পবা) নামে রাজশাহী সংসদীয় আসন ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সীমানা পুনর্বিন্যাসে পবা মোহনপুরের সঙ্গে যুক্ত হয়।

রাজশাহী-৪ আসন (বাগমারা)
রাজশাহী-৪ আসনটি বাগমারা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ৫৫তম আসন। এর মোট আয়তন ৩৬৬.২৬ বর্গকিলোমিটার। মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৩ এবং নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ১২৯ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের আছে ৩ জন।

জঙ্গি ও চরমপন্থি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত বাগমারা। একসময় বাংলা ভাই ছাড়াও সর্বহারার অভয়ারণ্য ছিল এলাকাটি। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে চিত্র আর নেই।

১৯৭৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগ জিতেছে ৫ বার, বিএনপি চারবার। ২০০৮ সাল থেকে একাধারে তিনবারের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন পেতে প্রচারণার মাঠে এনামুল হকসহ আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে জোট বেঁধে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন ফাইভ স্টার গ্রুপ খ্যাত আওয়ামী লীগের নেতারা। বসে নেই বিএনপির প্রার্থীরাও। সরকার বিরোধী আন্দোলনের ফাঁকে একাধিক নেতা রয়েছেন মনোনয়নের প্রত্যাশায়। চালাচ্ছেন কৌশলী প্রচারণা।

নির্বাচিত সংসদ সদস্য
এ আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হন। ১৯৭৯ সালে সাংসদ হন বিএনপির এমএ সালাম চৌধুরী। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আয়েন উদ্দিন সংসদ সদস্য হন। এর আগে এ মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার সাথে যুক্ত হয়ে সংসদীয় আসনের নাম ছিল (মোহনপুর-বাগমারা)। ২০০৮ সালে এ আসনটি দখলে আসে আওয়ামী লীগের। সংসদ সদস্য হন এনামুল হক। সেই থেকে পর পর তিনবার ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হন তিনি।

 

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাবেক সাংসদ আবু হেনাকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের এনামুল হক। ২০২০ সালে করোনায় আবু হেনা মারা যাওয়ার পর একাধিক বিএনপি নেতা মনোনয়ন পেতে মরিয়া।

১৯৭৩ সাল থেকে (মোহনপুর- বাগমারা) রাজশাহী-৪ সংসদীয় আসন ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সীমানা পুনর্বিন্যাসে বাগমারা একটি উপজেলা একটি সংসদীয় আসন হয়।

রাজশাহী-৫ আসন (পুঠিয়া-দুর্গাপুর)
রাজশাহী-৫ আসনটি পুঠিয়া-দুর্গাপুর নিয়ে। এটি জাতীয় সংসদের ৫৬তম আসন। আয়তনে পুঠিয়া ১৯২.৬৩ বর্গকিলোমিটার এবং দুর্গাপুর ১৯৭.৮৯ বর্গকিলোমিটার। পুঠিয়া উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৯ হাজার ৪৬৩ এবং নারী ৯৫ হাজার ৭০৩ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের তিনজন। দুর্গাপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৭ হাজার ৬৪৪ এবং নারী ৮৫ হাজার ৭৬৪ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের একজন।

এ আসনে ৬ বার জয়ী হয়েছে বিএনপি। আর ২০০৮ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা দুদফায় এমপি থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন ডা. মনসুর রহমান। বর্তমানে রাজশাহীর এ আসনে সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুভাগে বিভক্ত। বিএনপিতেও রয়েছে প্রকাশ্য কোন্দল। জাতীয় পার্টি সক্রিয় হচ্ছে রাজনৈতিক মাঠে। দ্বাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন রাজনৈতিক দলগুলো।

নির্বাচিত সংসদ সদস্য
এ আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সরদার মো. জাহাঙ্গীর সংসদ সদস্য হন। ১৯৭৯ সালে বিএনপির মোখলেছুর রহমান চৌধুরী জয়ী হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন জয়ী হন। ১৯৯১ সালে এ আসনটি ফিরে পায় আওয়ামী লীগ। সংসদ সদস্য হন তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির আবদুস সাত্তার মণ্ডল জয়ী হলেও একই বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন বিএনপির নাদিম মোস্তফা। তিনি পর পর দুবার অর্থাৎ ২০০১ সালেও জয়ী হন। ২০০৮ সালে আসনটির দখল নেয় আওয়ামী লীগ।

২০০৮ ও ২০১৪ সালে এমপি হন আব্দুল ওয়াদুদ। ২০১৮ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মনসুর রহমান বিজয়ী হন।

রাজশাহী-৬ আসন (বাঘা-চারঘাট)
পদ্মার তীর ঘেঁষা বাঘা ও চারঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৬ আসন। বড় দুই দলের একচ্ছত্র আধিপত্য নেই এখানে। ১৯৯১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দুটি উপ-নির্বাচনসহ ছটি সংসদীয় নির্বাচনে তিনবার আওয়ামী লীগ ও তিনবার বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

এটি জাতীয় সংসদের ৫৭তম আসন। আয়তনে চারঘাট ১৬৪.৫০ বর্গকিলোমিটার এবং বাঘা ১৮৫.১৬ বর্গকিলোমিটার। চারঘাট উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১৬৯ এবং নারী ৯৬ হাজার ৯৪৮ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের একজন। বাঘা উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯১ হাজার ৯২ এবং নারী ৮৮ হাজার ৬৪৫ জন।

 

বর্তমান সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার প্রার্থিতার ব্যাপারে অনেকটা নির্ভার হলেও নিজ দলেই রয়েছে চরম গ্রুপিং। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুপক্ষে বিভক্ত। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে কারাগারে থাকা জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদও শক্ত প্রার্থী। তবে একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দুই বড় রাজনৈতিক দলের কর্মীরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্য
১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আতোয়ার রহমান তালুকদার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে জয়ী হন বিএনপির মোহাম্মদ মকবুল হোসেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির নুরুন নবী চাঁদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি আসনটি ফিরে পান। এমপি হন বিএনপির আজিজুর রহমান। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি।

একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির আলাউদ্দিন সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৮ সালে আলাউদ্দিন প্রতিমন্ত্রী হন। এতে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং নির্বাচন কমিশন তার আসন খালি ঘোষণা করে। ১৯৯৯ সালে এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আলাউদ্দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। পরের বছর ২০০০ সালে উপ-নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের রায়হানুল হক সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে এ আসনে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী কবির হোসেন।

আর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহরিয়ার আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি জয়ী হন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে শাহরিয়ার আলম জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন। বর্তমানে চাঁদ জেলে থাকায় তার অনুসারীরা দলীয় কর্মসূচি পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। থেমে নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও।

Please follow and like us:
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

ভেঙে যাচ্ছে জেনিফার লোপেজের চতুর্থ সংসার

ভেঙে যাওয়ার পথে হলিউড অভিনেত্রী ও গায়িকা জেনিফার লোপেজের চতুর্থ সংসার। জেনিফার এখন আর তার স্বামী অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে বসবাস করেন না।

শুক্রবার খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেলিব্রিটি গসিপ ম্যাগাজিন ইন টাচ উইকলি।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন তারকা দম্পতি বেন অ্যাফ্লেক ও জেনিফার লোপেজ। গত ১৬ মে সকালে এ বাড়ি থেকে চলে যান বেন।

শোনা যাচ্ছে, দাম্পত্য জীবনে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কারণে বাড়ি থেকে চলে যান তিনি।

সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ‘বেন এরই মধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। সম্ভবত তারা তাদের স্বপ্নের বাড়িটি বিক্রি করে দেবেন। এজন্য গত দুই বছর ধরে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন।’

বেন-জেনিফার ডিভোর্সের দিকে যাচ্ছেন। এ তথ্য উল্লেখ করে সূত্রটি বলেন, ‘তারা বিবাহবিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছে। তারা পরস্পরকে সবসময়ই ভালোবাসবে। কিন্তু জেনিফার তাকে (বেন) নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং বেনও জেনিফারকে পরিবর্তন করতে পারবে না। সুতরাং এ সংসার স্থায়ী হওয়ার আর কোনো উপায় নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড জানিয়েছে, অস্কার জয়ী বেন এখন ব্রেন্টউডের বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে আসা-যাওয়া করছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে গিগলি সিনেমার শুটিংয়ের সময় সাক্ষাৎ হয় বেন-জেনিফারের। ২০০৩ সালে তাদের বাগদান হয়। তবে এর পরের বছর তাদের বাগদান ভেঙে যায়। প্রথম বাগদান ভাঙার ১৯ বছর পর অর্থাৎ ২০২২ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন তারা।

এর আগে, ২০০৪ সালে গায়ক মার্ক অ্যান্থনিকে বিয়ে করেন লোপেজ। ২০১৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে এটি লোপেজের চতুর্থ বিয়ে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে অভিনেত্রী জেনিফার গার্নারকে বিয়ে করেছিলেন বেন। ২০১৮ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বেন ও গার্নার জুটির তিনটি সন্তান রয়েছে।

Please follow and like us:

ধোলাইখালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইখালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন লেগেছে। শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এ আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রাপুর থেকে দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সিদ্দিক বাজার থেকে আরো দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, ১০টা ৪০ মিনিটে ধোলাইখালে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন লাগে। আগুনের কারণ জানা যায়নি।

Please follow and like us:

বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের নোয়াবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- আফজাল হোসেন ও মো. আমির হোসেন। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই।

বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন জানান, সকালে কয়েকজন শ্রমিক হযরত আলীর খেতে ধান কাটতে যান। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সঙ্গে বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু ও আহত হন আরও চারজন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

Please follow and like us:

অস্তিত্ব জানান দিতেই বিএনপির লিটলেট বিতরণ: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আছে এটি জানান দিতেই লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি। বিএনপির উপজেলা নির্বাচনবিরোধী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে অনেকটা উপহাস করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান থেকে তারা লিটলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নেমে এসেছে। এবার বুঝুন তাদের অবস্থা।

বিস্তারিত আসছে….।

Please follow and like us:

গাজায় হামাসের হামলায় ৫ ইসরাইলি সেনা নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই চলছে। হামাসের সঙ্গে লড়াইয়ে অন্তত পাঁচ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ওই পাঁচ সেনার প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর এএফপির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। ওই এলাকায় হামাসের বিরুদ্ধে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার হামাস সদস্যদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় ওই পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে তারা মারা গেছেন সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি ইসরাইলি বাহিনী।

 

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ঢুকে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেন গাজার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাসের সদস্যরা। পরে ওই দিন গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এরপর গত ২৭ অক্টোবর থেকে গাজায় একযোগে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। তখন থেকে এই পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় হামাসের সঙ্গে লড়াইয়ে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর অন্তত ২৭৮ সেনা নিহত হয়েছেন।

গত কয়েক দিন ধরে গাজার উত্তরাঞ্চলে হামাসের সদস্যদের সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনীর লড়াই ব্যাপক তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরাইলের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে সম্প্রতি আবারও সংগঠিত হচ্ছে। যে কারণে সেখানে হামাসের বিরুদ্ধে আবারও জোরালো আক্রমণ শুরু করা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর এই আক্রমণের ফলে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং আরও প্রায় ৮০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

Please follow and like us:

গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ কলোনির শতাধিক বসতঘর-দোকান

গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া এলাকায় বুধবার দিবাগত রাতে এক অগ্নিকাণ্ডে তিনটি কলোনির শতাধিক বসতঘর, দোকান ও মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ৯৯৯ থেকে ওই অগ্নিকাণ্ডের খবর পান তারা। পরে ভোগড়া মডার্ন ফায়ার স্টেশনের ৩টি ও কোনাবাড়ী মডার্ন ফার্সেশনের দুটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে তিনটি কলোনির অর্ধশতাধিক বসতঘর ও দোকানপাট পুড়ে গেলেও কেউ হতাহত হননি।

তবে এক কলোনির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান,  অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকানসহ তার ৩১টি বসতঘর ও টিভি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, মোহর আলীর ভাড়া দেওয়া হোটেল ও চায়ের দোকান থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। পরে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে আশেপাশের কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি ৯৯৯ নম্বরে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানানো হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসতে দেরি করেছে।

ঘটনাস্থলে বিলম্বে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে ভোগড়া মর্ডান ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, এলাকায় পানি সংকটের কারণে আগুন নেভাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

Please follow and like us:

ঢাকা কবে বিনিয়োগের অর্থ দেবে জানতে চায় ওয়াশিংটন

ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের লভ্যাংশ নিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ অর্থ ঢাকা কত দিনে পরিশোধ করবে, তা জানতে চেয়েছেন সফররত দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বাসভবনে নৈশভোজে এ বিষয়ে জানতে চান তিনি।

নৈশভোজ শেষে নিজ বাসভবনে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সালমান এফ রহমান। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, ডলার সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছেন, মার্কিন যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে, অর্থছাড়ে দেরি হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। তারা এও বলেছেন, আমরা বুঝি বাংলাদেশের রিজার্ভের ওপর চাপ রয়েছে। আলোচনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশ কত দিনে এ অর্থ দিতে পারবে, তা জানতে চান ডোনাল্ড লু।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আমাদের রিজার্ভ, রপ্তানি, সঙ্গে রেমিট্যান্সও বাড়বে। তাদের জানিয়েছি, আমাদের অর্থ পরিশোধে একটু সমস্যা হচ্ছে, দেরি হচ্ছে। তবে ক্রমাগত অর্থছাড় হচ্ছে, একেবারে বন্ধ হয়নি।

ফিলিস্তিন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। মার্কিনিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায়। এটি স্থায়ী সমাধানের দিকে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। যদিও সমাধানের বিস্তারিত জানাননি তিনি।

আলোচনার অগ্রাধিকার নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভালো করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশও তাদের এ চাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। নির্বাচনের আগে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সে বিষয়ে আলোচনা তোলেননি মার্কিনিরা, আমরাও তুলিনি। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বাস পুনরায় স্থাপন করতে চান।

বিশ্বাস পুনরায় স্থাপনের প্রসঙ্গ কেন এলো– প্রশ্নে সালমান এফ রহমান বলেন, ডোনাল্ড লু একটি কথা বলেছেন; আমরাও বলেছি, বাংলাদেশও চায়। আমি তো আর জিজ্ঞেস করব না যে কেন আপনি মনে করেন, বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে? তবে আমরা সবাই জানি, নির্বাচনের পরেও তাদের একটি রিজার্ভেশন ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম নিয়ে যে পথনকশা রয়েছে, সেটি মেনে শ্রমনীতি ও আইন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি থাকবে না।

র‍্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জানতে চাইলে সালমান এফ রহমান বলেন, র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়টি বলেছি। তারা বলেছে, এ দুটি বিষয় আইন দপ্তরে রয়েছে। ডোনাল্ড লু আগেরবার এসে জানিয়েছিলেন, র‍্যাব বিষয়ে উন্নতি হয়েছে। ফলে পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। র‍্যাব বিষয়ে উন্নতি হয়েছে, তা আইন দপ্তরকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

উপ-আঞ্চলিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে যুক্ত হবে– প্রশ্নে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে নেপালের সঙ্গে কাজ করছে। সেখানে মার্কিন বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করছে। তারা আঞ্চলিক এ ব্যবস্থায় থাকতে চায়।

এ সময় বিএনপি ইস্যুতে আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, বিএনপি, বিরোধী দল, রাজনীতি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নির্বাচন– এসব নিয়ে তারা কোনো আলাপ তোলেনি।

Please follow and like us:

ইসরাইলকে ফের ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিতে চান বাইডেন

বোমা সরবরাহ স্থগিত রাখলেও ইসরাইলকে ১০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র সরবরাহ করতে চাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ ব্যাপারে তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন চেয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্র যেসব অস্ত্র দিতে চাচ্ছে তার মধ্যে ট্যাংক খাতে রয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার, আরও ৫০০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে কৌশলগত যানবাহনে এবং ৬০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে মর্টার শেলে। গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শেষ হয়ে আসা ইসরাইলি অস্ত্রভাণ্ডার পূর্ণ করতে এসব অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য, সবকিছু ইসরাইলে পৌঁছাতে কয়েক বছর লেগে যাবে।

ইসরাইলে বড় আকারের বোমা সরবরাহ স্থগিত রাখার ফলে বাইডেনের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। গাজার রাফায় এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হতে পারে এমন আশঙ্কায় ওইসব বোমা সরবরাহ স্থগিত রাখা হয়েছিল।

রাফাতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান হামাসের সঙ্গে আলোচনায় ‘আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে’ এই কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবার মধ্যস্থতাকারী কাতার বলেছে, আলোচনায় ‘প্রায় অচলাবস্থায়’ দেখা দিয়েছে।

কাতার ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত বিষয়গুলো সঠিক পথে এগোয়নি এবং এখন আমরা প্রায় অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছি। অবশ্যই, রাফা নিয়ে যা ঘটেছে তা আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে।’

কাতার ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি এই কথা বলেছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল ও এএফপি

Please follow and like us:

রিয়ালে যাচ্ছেন এমবাপ্পে!

পিএসজি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের এই অধিনায়কের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় তা অবশ্য জানাননি। কিন্তু লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস জানিয়েছেন, খুব শিগগির রিয়ালে যোগ দিতে যাচ্ছেন এমবাপ্পে।

পিএসজিতে দীর্ঘ ৮ মৌসুম কাটানোর পর এবার সেই ক্লাব ছাড়তে যাচ্ছেন এমবাপ্পে। মোনাকো ছেড়ে ২০১৮ সালে পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সি এ তারকা। গত সপ্তাহে এক ভিডিওবার্তায় এমবাপ্পে নিজেই তার ক্লাব ছাড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এমবাপ্পের পরবর্তী ক্লাব কোনটি হবে তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। বেশ কয়েক বছর ধরেই তাকে দলে টানতে চাচ্ছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। অনেকের ধারণা, স্প্যানিশ ক্লাবটিতেই যোগ দেবেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। এমনকি লা লিগার সভাপতি তো জানিয়েই দিয়েছেন, রিয়ালের সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি করছেন এমবাপ্পে।

আর্জেন্টিনা সফরকালে ওলে পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তেবাস বলেন, ‘আগামী মৌসুম থেকে এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের। সে পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তারা পাঁচ বছরের চুক্তি করলে সে পাঁচ মৌসুম সুযোগ পাবে (চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের)। তবে হ্যাঁ, রিয়ালে ভিনিসুস ও বেলিংহ্যামও রয়েছেন। মাদ্রিদ দারুণ একটা দল হতে যাচ্ছে। তবে সেটা শিরোপা জেতার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।’

চলতি মৌসুমেও লিগ ওয়ানের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের পর লিগ ওয়ানের সেরা হলেন তিনি।

Please follow and like us:

ইসরাইলের সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন

ইসরাইলের একটি সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী তেলআবিবে অবস্থিত ‘হাসোমের’ নামে একটি ঘাঁটিতে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওই ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আগুন নেভাতে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি দল কাজ করে।

তবে কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হলো সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

ক্রাইসিস২৪ নামের অপর এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগুনের রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে আগুনের কারণে সেখানকার স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে আশপাশের অবকাঠামো থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

Please follow and like us:

পাঠক প্রিয়