[english_date]

মিসকলের অপরাধে মারধর এবং জুতার মালা

প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রতন মিয়া (১১) নিজের বড় ভাইকে ফোন দিয়েছিল। ভুল করে তা চলে যায় ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আরজ আলীর কাছে। ভুল বুঝতে পেরে ফোন কেটে দেয় রতন। আর ওই মিসডকলই বড় ‘অপরাধ’ হয়ে গেল।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইচ্ছেমতো মারধর করেছে রতনকে। আর এতেই শেষ হয়ে যায়নি ‘বিচার’। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিলের করা বিচারে শিশু রতনকে জুতার মালা পরিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ঘোরানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার উপজেলার দোহালিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে দোহালিয়া হাসপাতাল পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিশু রতন মিয়া তার বাসার মুঠোফোন থেকে নিজের বড় ভাইকে ফোন দেয়। ভুল নম্বরে গেছে বুঝতে পেরে সে কলটি কেটে দেয়। বড় ভাইয়ের মুঠোফোনে না গিয়ে কল চলে যায় প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়েরই ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আরজ আলীর কাছে। মিসডকল পেয়ে আরজ আলী পরে কয়েকবার ফোন করলেও শিশু রতন ফোনটি আর ধরেনি। এতেই ক্ষিপ্ত হন আরজ আলী। পরে তিনি জানতে পারেন ফোনটি এ বিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী রতন মিয়ার বাসার। পরে আরজ আলী বিষয়টি বিদ্যালয় পর্যন্ত নিয়ে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে রতন মিয়ার ব্যাপারে নালিশ করেন।

অভিযোগ পেয়ে গতকাল বুধবার রতনকে মারধর করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিষয়টি জানার পর দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল জলিল বিচার করার দায়িত্ব নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিচারে চেয়ারম্যান জলিল শিশু রতনের গলায় জুতার মালা পরিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে ঘোরানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশমতো গলায় জুতার মালা নিয়ে মাঠে ঘুরতে হয় শিশু রতনকে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিল  শিশু রতনও। রতন বলে, ‘মিসডকল যাওয়ার কারণে মারধর করে আমাকে।’

জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও আটক করা হবে।’

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আজ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল গনি। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, গতকাল ঘটনার দিন অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে আবদুল গনিকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনিও ফোন ধরেননি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ