২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিউজ ডেস্ক

মানব সম্পদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিপুল পরিসর সৃষ্টি করেছে রাজধানী : নিয়াজুল হক

মো. নিয়াজুল হক। হেড অব এইচ.আর ও অ্যাডমিন। বর্তমানে কাজ করছেন সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। ২০১০-এ আইইউবি হতে বিবিএ সম্পন্ন করে ২/৩ বছর বিভিন্ন কোম্পানিতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছেন সাইডারে। এর আগে বাংলা লায়ন, পেনিনসুলা হোটেল ও পুবালী ব্যাংকে কাজ করেছেন তিনি। গত ৫ বছর ধরে একজন প্রফেশনাল ট্রেইনার হিসেবে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানিতে লিডারশীপ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন। এইসব প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তরুণদের সঠিক দিক নির্দেশনাও দিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষ ও যোগ্য কর্মী নিয়োগ দেয়া যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। কর্মী বাছাইয়ের এ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব পালন করেন একজন হিউম্যান রিসোর্স অফিসার বা এইচআর ম্যানেজার। বর্তমান চাকুরির বাজারে এইচ.আর কেন গুরুত্বপূর্ণ, কোথায় এর অবস্থান, চাকুরির বিধি-বিধান সব বিষয় নিয়ে আর্থনিউজ অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন তিনি। চলুন দেখা যাক-

আর্থনিউজ : কি কি যোগ্যতা থাকলে একজন হিউম্যান রিসোর্স অফিসার হওয়া যায়?
নিয়াজুল হক : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। এইচ.আর ম্যানেজার পোস্টে কাজ করার জন্য অবশ্যই কিছু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সনদ দরকার। মেজর এইচ.আর সহ বি.বি.এ যদি করা থাকে অথবা এম.বি.এ ইন এইচ.আর বা ডিপ্লোমা ইন এইচ.আর, তাহলে ভালো। শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে যে বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তা হল মানবিক মূল্যবোধের সংরক্ষণ। নৈতিকভাবে প্রবুদ্ধ, বিশ্বজনীন সাতত্য, ইনসাফ, অপরের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সংবেদনশীল এবং সর্ব অবস্থায় অপরের চাহিদার প্রায়োর বিবেচনার বোধ যার মধ্যে বিদ্যমান তার পক্ষে একজন ভালোএইচ.আর ম্যানেজার হবার সম্ভাবনা সর্বাধিক।সেবাব্রতসহ নিজেকে প্রতিপক্ষের স্থানে রেখে পরিস্থিতির বিচার, সহমর্মিতা প্রদর্শন,সময়নিষ্ঠা ইত্যাদি গুণাবলী তার স্কিল হিসেবে পরিগণিত হতে পারবে। উপর্যুক্ত মূল্যবোধ এবং স্কিলের সমবায় হলেন একজন ভালো এইচ.আর ম্যানেজার।

আর্থনিউজ : বর্তমান বিশ্বের সাথে মিলিয়ে আমাদের দেশে এর ব্যাপ্তি, পরিধি কতটুকু?
নিয়াজুল হক : রাজধানী ঢাকা এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিপুল পরিসর সৃষ্টি করতে পেরেছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। মানব সম্পদ উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা ও এর অনুসরণে ঢাকা যতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছে, চট্টগ্রামে এর তত বিকাশ ঘটেনি।। হ্যাঁ, চট্টগ্রামের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেকটিতে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে এবং তারা নিজ নিজ সামর্থ্য বা সুবিধা অনুযায়ী কাজ করছে। তবে, যে ব্যাপারটি বলা প্রয়োজন তা হল, এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বলতে যে বিপুলায়তন কাজের পরিসর উন্মুক্ত হবার কথা তা এখনও যথাযথ ভাবে হচ্ছে না। আপনি যদি, উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রামের এডুকেশন ইন্ডাস্ট্রির দিকে দৃষ্টি দেন দেখবেন, খুব কম স্কুল এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগকে গুরুত্ব দিয়েছে। দুঃখজনকভাবে, অধিকাংশ স্কুলই এই আধুনিক কর্মপদ্ধতি এবং এ বিভাগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন অথবা একে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেন না। এর মধ্যে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম রয়েছে সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। সাইডার কর্তৃপক্ষ এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং যে কোনো উন্নত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সমমান এইচ.আর সার্ভিস প্রদান নিশ্চিত করেছেন।এতে প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতে পারছে। যা হোক আমরা কাজ করে চলেছি, যথার্থ এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন কাজের প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ হতে আমাদের যে ঊনতা রয়েছে তা কাটাবার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আর্থনিউজ : একজন তরুণ কেনো এইচআরে নিজের ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করবে?
নিয়াজুল হক : একজন তরুণ কেন এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগে তার ক্যারিয়ার সন্ধান করবেন- প্রথমত এই জগতটাতে আত্মসন্তুষ্টির ব্যাপার আছে। একজন এইচ.আর অফিসারের কাজের ক্ষেত্র বিশাল,ফলে ব্যাপকভাবে এতে অবদান রাখা যাবে। পক্ষান্তরে অন্য কোনো চাকুরি যেমন বিপণন ইত্যাদি চরম একঘেয়ে এবং ক্লান্তিকর জব। ওখানে অবাধ পরিসর নেই, মনে হয় একটা রোবোটিক জব রাতদিন শুধু অর্থের হিসাব আর যোগান দেয়া। কিন্তু একজন এইচ.আর অফিসার বা ম্যানেজার শত শত মানুষের জীবন বা জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করেন। গবেষণা করেন। অপরের সুবিধা ও স্বার্থের বিষয়ে যথার্থ মানবিক দৃষ্টি দেন। এ কাজ গুলো মানবিক সংবেদনার উচ্চ স্তর থেকে করতে জানলে তা আর অফিস জব থাকেনা, বরং মহৎ কর্ম হয়ে ওঠে। অপরের সুবিধা ও স্বার্থকে যখন প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ভেতর দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায় তখন তার তৃপ্তি ও কল্যাণবোধের অভিপ্রকাশ ভাষায় অসম্ভব। একজন এইচ.আর অফিসার বা ম্যানেজার একটি প্রতিষ্ঠানের অকল্পনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। এটা এমনকি সমাজকেও প্রভাবিত করতে পারে। এটি ব্যক্তিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করে। যখন অনেক মানুষের অনেক ধরনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে বিবেচনার পর্যায় উপস্থিত হয় তখন আসলে একটা সোশ্যাল স্কিল অর্জন সম্পন্ন হয়ে যায়! অন্য অনেক জব-এ এধরনের কিছুই তেমন নেই। তারুণ্যের চরম অবক্ষয়ের সময়ে আমি মনে করি মেধাবীদের এইচ. আর-এ কাজের সুযোগ নেয়া উচিত। কেননা এখানে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মানুষরূপে গড়ে ওঠার সুযোগ আছে।

আর্থনিউজ : একজন হিউম্যান রিসোর্স অফিসারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?
নিয়াজুল হক : এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন অফিসার যখন কোনো একটি প্রোগ্রাম যেমন পিকনিক বা গেট টুগেদার আয়োজন করবেন তখন তাকে একজন দক্ষ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে হয়। যখন তিনি কোনো এমপ্লয়ির বিপদ বা অসুস্থতাজনিত বিষয় দেখভাল করেন তখন তার কাজের ধরন ও পরিধি দাপ্তরিক সীমাকে অতিক্রম করে যায়। এখানেই এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের অনন্যতা। এখানে একজনের পক্ষে দক্ষ প্রফেশনাল হবার পাশাপাশি মহৎ মানুষ হবার অমিত সম্ভাবনা বিদ্যমান।

আর্থনিউজ : যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচ আরে ডিগ্রী নিয়েও অনেকে অন্য সেক্টরে কাজ করে সেটাকে আপনি কিভাবে দেখবেন বা তাদের জন্য করণীয়?
নিয়াজুল হক : এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয় নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছেন পরবর্তীতে একই ফিল্ডে জব শুরু করেছেন এবং তা ছেড়ে অন্য কোনো ফিল্ডে ক্যারিয়ার সন্ধান করছেন, আমি দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, তারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দৈন্যদশায় ভুগছেন। তারা জানতেন না কেন তারা একটি বিষয় বেছে নিচ্ছেন আবার কেনই বা তা ত্যাগ করছেন। এটা বাস্তবে আমাদের দুর্বল ও প্রায় উদ্দেশ্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার পরিণাম। কেননা, আমাদের শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যে কোনো প্রকার একটা চাকুরির সংস্থান! ফলে শিক্ষার বহুমাত্রিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের কোনো আয়োজন এখানে উপস্থিত নেই। এ প্রজন্মের প্রায় বোধহীন তরুণেরা জানেন না শিক্ষার লক্ষ্য একমাত্রিক জীবিকা সন্ধান নয়। জীবনমান উন্নয়ন এবং ব্যক্তি ও সমাজের বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করাই এর আসল লক্ষ্য। আমাদের এ দৈন্য দশার অবলোপ করতে হলে শিক্ষার গোড়ায় হাত দিতে হবে। প্রতিদিনের রুটিন ক্লাসে যেসব বিষয়গুলোর পাঠ দান হচ্ছে সেসব বিষয়ের পাঠ দান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাত্রদের বোঝাতে হবে। কেন সে ভাষা শিখবে– এর লক্ষ্য ও প্রয়োগ ক্ষেত্র কী? কেন সে গণিত বা ফিজিক্স অথবা ধর্মশিক্ষা নেবে? অথবা, যে কোনো বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের বাস্তব ও নৈতিক লক্ষ্যসমূহ কী? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরুতেই যখন একজন ছাত্র শিক্ষার নৈতিক-দার্শনিক ও বাস্তব-প্রায়োগিক উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য সম্পর্কে প্রাথমিক অথচ গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান পেয়ে যাবে তখন তার পক্ষে একজন প্রবুদ্ধ জ্ঞানী মানুষ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এভাবে একটি সমৃদ্ধ সমাজ সৃষ্টি হবে। একটি উন্নত জাতি তৈরি হবে।
আমার নিজের ক্ষেত্রেও এহেন পরিণাম ঘটতে পারতো। আমি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দ্বিধাদ্বন্ধের মাঝে এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি তিনি আমার জন্য একটি অসাধারণ বিষয় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন এবং উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন। নিজের অজান্তেই আমি আমার জন্য সর্বোত্তম বিষয়টি অধ্যয়ন করেছি এবং চট্টগ্রামের একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হেড অব এইচ.আর হিসেবে কাজ করছি। দীর্ঘ ছয় বছরের হেড অব এইচ.আর-এর কাজের অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করেছি,এইচ.আর বা মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়টি গড়পড়তা আর দশটা সাবজেক্টের মত কিছু নয়। বহুমাত্রিক নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন ও তার প্রয়োগের অবারিত স্কোপস এখানে রয়েছে।

আর্থনিউজ : তরুণদের জন্য কিছু বলুন, যারা এইচ আরে ক্যারিয়ার গড়তে চায়?
নিয়াজুল হক : পারপাস অব লাইফ বা জীবনের লক্ষ্য কী- এখনকার তরুণদের উচিত এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর সন্ধান করা। দুঃখজনক ব্যাপার যে এখনকার তারুণ্য জীবনের ভিশন সম্পর্কে অজ্ঞ এবং পরিণামে তার কোনো মিশন নির্ধারিত নেই। তাদের ভিশন-মিশন বাড়ি, মোটর কার এবং জমকালো একটা ভোগী জীবনের পরিবৃত্তে আটকে পড়েছে। অথচ এটা জীবনের এক মহৎ অপচয়। একজন মানুষের জীবন সামান্য বস্তুগত সমৃদ্ধির গুহায় আটকে থাকার পরিণাম ভয়াবহ। যদি কাঙ্ক্ষিত সব বস্তুগত উপকরণ একজন তরুণের হস্তগত হয়, তারপর কী! তরুণদের বুঝতে হবে, জীবনের দৈহিক আকাঙ্ক্ষার পূরণ বস্তু কিছুটা করতে সক্ষম। কিন্তু তার নৈতিক ও আদর্শিক জীবনের শূন্যতা কীসে পুরণ হবে! তরুণদের বলব, জীবনের বৃহৎ ও মহত্তর লক্ষ্যের সন্ধান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সীমিত পরিসরে না খুঁজে নিজেকে বড় পরিসরে হাজির করুন। পাঠ করুন বিভিন্ন উন্নত বই। নজর রাখুন আন্তর্জাতিক সমাজের পারস্পরিক লেনদেন ও সম্পর্কের উপর। র্সবসাম্প্রতকি জ্ঞান ও তার রচয়তিাদরে জানুন। ধর্মকে জানুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। সর্বসাম্প্রতিক জ্ঞান ও তার রচয়িতাদের জানুন। জীবন যেহেতু অস্থির, সেহেতু পরিবর্তনের নানা অনুসঙ্গের সাথে জ্ঞানগতভাবে যুক্ত থাকুন। স্বার্থ আর পরার্থের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করুন। নিজের চিন্তা ও ধ্যানকে বড় চিন্তা ও ধ্যানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। একটা হলিস্টিক লাইফ যদি আমাদের উদ্দিষ্ট হয় তাহলে অধ্যয়ন অনিবার্য। রিসার্চ এবং অধ্যয়নে গভীর অভিনিবেশ থাকলে একজন তরুণ জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে বস্তুগত প্রাপ্তিকে একমাত্র বিবেচনা করবেন না।
তারা বুঝবেন কেন আজকের সমাজ এত বস্তুগত সমৃদ্ধি সত্ত্বেও নৈরাজ্যের অতলে নিমজ্জিত হচ্ছে, কেন তরুণরা আত্মহত্যার মতো চরম গ্লানিকে বেছে নিচ্ছে, কেন খুন, ধর্ষণ এত সহজসাধ্য হতে পেরেছে! আমি মনে করি, বাস্তব সমাজকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তরুণরা এখানে কোনো আশা দেখতে পাবেন না। এ কারণ, শিক্ষার গোড়ার ভ্রান্তি। এ ভ্রান্তি তরুণদেরকেই দূর করতে হবে। জীবনের আসল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের উপলব্ধি ঘটতে পারলে বস্তুগত সমৃদ্ধি এবং নৈতিক জীবনের মধ্যে একটা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। সেরকম সম্ভাবনাময় তরুণরাই হবে এদেশ এবং বিশ্বের সম্পদ যারা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠা করবেন অনেকগুলো উন্নত স্কুল যেখানে ছাত্ররা শিখবে প্রকৃত শিক্ষা। যেখানে পাঠ দান হবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইতিহাস। ভাষা, ধর্ম, বিজ্ঞান, গণিত প্রভৃতি বিষয়ের যৌক্তিক অভিজ্ঞান লাভ করবে ছাত্ররা। জাগতিক ভাবে রচনা হবে একটি মানবিক সমাজ।
কূপমণ্ডুক না হয়ে উদারহৃদয় হোন। অপরের মতকে সম্মান করুন। আর এসব কথা বা পরামর্শকে শুষ্ক বচন মাত্র বিবেচনা না করে নিজের জীবন ও প্রফেশনের সাথে সংযোগ সমন্বয় করুন। আলহামদুলিল্লাহ, এসব কথা আমি কেবল কথার কথারূপে উপস্থাপন করছি না, আমার চিন্তা, অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্দৃষ্টির সিন্থেসিস হিসেবে হাজির করছি।

আর্থনিউজ : একজন হিউম্যান রিসোর্স অফিসারের মাসিক আয় কেমন হতে পারে, কোন সেক্টরে এইচ আর কাজ করে?
নিয়াজুল হক : পঁচিশ থেকে চল্লিশ এমনকি এক পর্যায়ে লক্ষাধিক টাকা আয়ের সুযোগ পেতে পারেন একজনএকজনহিউম্যানরিসোর্সঅফিসার।এটা কিছুটা নির্ভর করে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তার ওপর। তবে ট্যালেন্টেড তরুণদের জন্য নামী প্রতিষ্ঠানগুলো দুয়ার উন্মুক্ত রাখে। সেক্ষেত্রে আয়ের পরিধি প্রত্যাশিত সীমা অবশ্যই স্পর্শ করবে। তবে একজন দূরদর্শী তরুণ কয়েক লক্ষ টাকা মান্থলি উপার্জন করতে পারে যদি যে তার কাজে মৌলিক ভ্যালু অ্যাড করতে সক্ষম হয়। এইচ.আর-এর কাজ অনেক কোয়ালিটিফুল কাজ। যদিও আমাদের দেশে এ বিভাগটির সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা বা অবমূল্যায়ন রয়েছে, এইচ.আর এবং অ্যাডমিনকে এক মনে করা হয়। বাস্তবে দুইটা সম্পূর্ণ আলাদা বিভাগ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং এন্ড ডেভলপমেন্ট পোস্টও আছে। রিক্রুটমেন্ট এন্ড সিলেকশন ম্যানেজারও থাকে।
একজন এইচ.আর অফিসারকে ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা পারফরমেন্স জানতে হবে। একজন এমপ্লয়ির ইভ্যালুয়েশনের যে সিস্টেমেটিক পদ্ধতি রয়েছে তার যথাযথ অ্যাপ্লিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। মূলতঃ চারটি বিভাগে এইচ.আর অফিসারকে কাজ করতে হয়-রিক্রুটমেন্ট এন্ড সিলেকশন, কম্পানসেশন এন্ড বেনিফিট, পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট এবং ট্রেনিং এন্ড ডেভলপমেন্ট। এ অর্গানোগ্রাম ঠিকভাবে বোঝা এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে সচেষ্ট হলে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি আসবে প্রতিষ্ঠান ও এইচ.আর অফিসারের জীবনে।

আর্থনিউজ : নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন?
নিয়াজুল হক : বর্তমানে আমি, আগেই উল্লেখ করেছি সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কাজ করছি হেড অব এইচ.আর এবং অ্যাডমিন হিসেবে। সাইডারে কাজ করছি ২০১৩ সাল থেকে। এর আগে ২০১০-এ আইইউবি হতে বিবিএ সম্পন্ন করে ২বা৩ বছর বিভিন্ন কম্পানিতে স্ট্রাগল করে শেষপর্যন্ত সাইডারে থিতু হই। আমি বাংলা লায়নে কাজ করেছি, পেনিনসুলা হোটেল ও পুবালী ব্যাংকে কাজ করেছি। বিগত ৫ বছর ধরে আমি একজন প্রফেশনাল ট্রেইনার হিসেবে বিভিন্ন বড় বড়কম্পানিতে লিডারশীপ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। এইসব প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আমি তরুণ সমাজকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়েছি। আমার গত ১০ বছরের কর্মজীবনে যেসব ভুল ও অদক্ষতাগুলো চিহ্নিত করেছি তার প্রতি তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যাতে ঐসব ক্ষতির দায় তাদের পোহাতে না হয়। আমি তরুণদের শেখাতে চাই জীবনের পারপাস কী এবং তার বাস্তবায়নে কী ধরণের বাস্তব পন্থা অনুসরণ করতে হয়। প্রথাগত ট্রেইনার অথবা মোটিভেশনাল বক্তাদের চাইতে একটা জায়গায় আমি নিজের স্বাতন্ত্র্যত দাবী এইভাবে করি যে, আমি তরুণদের কেবল ক্যারিয়ারিস্টরূপে প্রতিষ্ঠার প্রতিই কেবল ধাবিত করি না বরং জীবনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে তাদের উৎসাহিত করি সাথে সাথে সেসব চ্যালেঞ্জগুলোর বৈচিত্র্যেপূর্ণ দিক ও তার সম্মুখীন হবার পথ-নির্দেশ করি। আমি এটা করতে সক্ষম হই বিভিন্ন বিষয়ে লব্ধ জ্ঞান ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্তের সঠিক প্রয়োগের দ্বারা। আমি অত্যন্ত অভিনিবেশি একজন ছাত্র যে তার বিষয় সম্পর্কে সর্বসাম্প্রতিক জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পছন্দ করি। ফলে দেশ এবং বিশ্ব সমাজের আশা ও হতাশার জায়গাগুলো আমি চিহ্নিত করতে পারি।
তরুণদের শেখাতে কিংবা দেখাতে চাই, বিশ্ব একটা মনো-দৈহিক বৈকল্যের পর্যায় অতিক্রম করছে। এর থেকে উত্তরণের যে উপায় আমি আবিষ্কার,অনুমান করতে পারি তা শেয়ার করতে চাই তরুণদের সাথে। আমার ট্রেনিং গ্রন্থবদ্ধ মডিউল শুধু অনুসরণ করে না বরং এটা একটা রিয়েল লাইফ ট্রেনিং যা অধীত বিদ্যা আর বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সমন্বয় করে থাকে।

আমি আমার কর্মজীবনের সাথে উপলব্ধ জ্ঞানের যে সমন্বয় করতে শিখেছি, আমি মনে করি তার নৈতিক ও বাস্তব মূল্য আছে। সুতরাং, এ প্রজন্মের তরুণরা তা হতে উপকৃত হতে পারবে এবং একটা সার্থক জীবনের ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে সক্ষম হবে। আমি প্রকৃতপক্ষে মানুষ গড়ে আনন্দ পাই। কারো যদি অর্থসংকট থাকে অথচ শেখার আগ্রহ আছে আমি তাকেও সহযোগিতা করতে চাই। আমাকে উপকারী জ্ঞান দেওয়ার জন্য আমি আল্লাহর কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।

Please follow and like us:
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যা, যা বলল জাতিসংঘ

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সহিংস হামলা থেকে বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ বলেছে, মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার আছে এবং সরকারকে সেই অধিকার রক্ষা করতে হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে চলমান ঘটনাপ্রবাহ জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিনের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে তথাকথিত কোটা পদ্ধতির পরিবর্তে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলছে। সরকারের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ নিরাপত্তা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিক্ষোভে হামলায় ছয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব কি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন- হ্যাঁ, আমরা বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে অবগত আছি। আমরা ঘনিষ্ঠভাবে এবং উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি- বাংলাদেশে হোক বা বিশ্বের অন্য কোথাও, মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং যে কোনো ধরনের হুমকি বা সহিংসতা থেকে বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। বিশেষ করে যুবক বা শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো যাদের যাদের অতিরিক্ত সুরক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, যেন তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে পারে।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রদর্শন করতে পারা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং সরকারের উচিত সেই অধিকারগুলোকে রক্ষা করা।

Please follow and like us:

যেভাবে ৭৫ বছর আগে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছিল চায়ের নিলাম

ব্রিটিশদের হাত ধরে ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামে চা চাষের সূচনা হয়েছিল। এ অঞ্চলে চা চাষের ইতিহাস দুই শতকের কাছাকাছি হলেও নিলামের বয়স সে তুলনায় কম। কারণ ব্রিটিশ আমলে লন্ডন ও কলকাতায় বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হতো এ অঞ্চলের উৎপাদিত চা। ভারত ভাগের পর ১৯৪৯ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে চায়ের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসাবে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে চায়ের নিলামের ৭৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশ অঞ্চলে চট্টগ্রামে চা চাষের সূচনা হলেও চা চাষের প্রসার ঘটে সিলেটে। এর পরও চট্টগ্রামেই প্রথম নিলামকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এর কারণ সম্পর্কে চা চাষের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেলযোগাযোগ চালুর পর সিলেটসহ এ অঞ্চলে উৎপাদিত বেশির ভাগ চা রপ্তানি হতো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এতে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক চায়ের গুদামসহ নানা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অবকাঠামো থাকায় এখানেই নিলামকেন্দ্র চালু হয়। নানা জায়গা ঘুরে বর্তমানে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের প্রগ্রেসিভ টাওয়ারে সপ্তাহের প্রতি সোমবার এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম চা নিলামের আয়োজনের নেপথ্যে আছে বর্তমানের ‘ন্যাশনাল ব্রোকার্স লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর। তখন বাংলাদেশ অঞ্চলে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) কোনো নিলামকেন্দ্র ছিল না। এ অঞ্চলের চা বিক্রির জন্য তৎকালীন ‘পাকিস্তান ব্রোকার্স লিমিটেড’ (বর্তমানে ন্যাশনাল ব্রোকার্স লিমিটেড) গঠন করেন পাঁচজন বিখ্যাত ব্যক্তি। ১৯৪৮ সালের ৬ জুন এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। চার ইউরোপিয়ানের সঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তান ব্রোকার্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খান বাহাদুর মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত লতিফুর রহমানের বাবা।

চা বেচাকেনায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান গঠনের এক বছর পর ১৯৪৯ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে প্রথম চায়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে তিন হাজার ব্যাগ চা নিলামে তোলা হয়। শুরুতে পাক্ষিক নিলাম হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে চা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিটিএবি) এই নিলাম পরিচালনা করে।

চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র চালুর পরও এখানকার উৎপাদিত চা লন্ডনের নিলামে তোলা হতো। এই ধারা অব্যাহত থাকে বাংলাদেশ আমলেও। কারণ নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত চা চাষের বেশির ভাগ ছিল ব্রিটিশদের হাতে। পাকিস্তান টি অ্যাসোসিয়েশনের ১৯৫২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র চালুর দুই বছর পর ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৮ ব্যাগ চা বিক্রি হয়। একই বছরে লন্ডনের নিলামকেন্দ্রে বিক্রি হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৭০৫ ব্যাগ চা। বাংলাদেশি চা সংসদের প্রকাশনা থেকে জানা যায়, লন্ডনে সর্বশেষ বাংলাদেশের চা নিলামে তোলা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সেবার ৯৮ হাজার কেজি চা নিলামে তোলা হয়।

টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা টিটিএবি সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান প্রথম আলোকে বলেন, চা নিলামের ৭৫ বছরে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। শুরুতে নিলামে বিক্রি হওয়া চায়ের সিংহভাগই রপ্তানি হতো। তবে দেশে ভোগ বেড়ে যাওয়ায় নিলাম থেকে কেনা চায়ের বেশির ভাগ এখন দেশে বাজারজাত হচ্ছে। আবার অনলাইনেও পরীক্ষামূলক নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। দেশে চায়ের নিলামকেন্দ্র এখন তিনটিতে উন্নীত হয়েছে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র চালুর ৬৯ বছরের মাথায় ২০১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নিলামকেন্দ্র চালু হয়; আর ২০২৩ সালে পঞ্চগড়ে চালু হয় তৃতীয় নিলামকেন্দ্র। তবে এখনো বেশির ভাগ চা বিক্রি হয় চট্টগ্রামের নিলামে।

চা একমাত্র পণ্য যেটি উৎপাদনের পর নিলামে বিক্রি করতে হয়। তবে বাগানমালিকেরা চাইলে নিজেদের উৎপাদিত চায়ের ২৫ শতাংশ কর দিয়ে নিজেরা বাজারজাত করতে পারেন। এ জন্য অনুমতি নিতে হয় চা বোর্ডের। আবার আমদানি ও রপ্তানি করতে হয় চা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে।

চা নিলামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে চলতি নিলাম মৌসুমে। নিলামে চায়ের দরপতন ঠেকাতে ন্যূনতম মূল্যও বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবার। এতে চলতি মৌসুমের নিলামে চায়ের ভালো দাম পাচ্ছেন বাগানমালিকেরা।

উপমহাদেশে চা চাষের সূচনা হয়েছিল ব্রিটিশদের হাত ধরে। চা চাষ, বিপণন, রপ্তানি ও বাগানের মালিকানা—সবই ছিল তাদের হাতে। তাদের হাত ধরে নানা অবকাঠামো গড়ে তোলা হলেও ধীরে ধীরে বাঙালি উদ্যোক্তারা যুক্ত হতে থাকেন চায়ের ব্যবসায়। বর্তমানে কয়েকটি ইউরোপিয়ান কোম্পানির মালিকানায় চা–বাগান থাকলেও এই শিল্পের সিংহভাগই রয়েছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের হাতে।

Please follow and like us:

“অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ”

“অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ”

কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার।

এর আগে আজ বুধবার সকালে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর করণীয় কী হবে, তা ঠিক করতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার।

 

Please follow and like us:

আশুরার দিন কি কিয়ামত হবে?

আশুরার দিন কি কিয়ামত হবে?

ইসলামে আশুরার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত। রাসূল (সা.) বলেছেন, যদি রমজানের পর আর কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস।

এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)।

আশুরা দিবসের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে বলে থাকেন যে, ‘হাদিস শরীফে এসেছে, এই দিনে কিয়ামত সংগঠিত হবে।’

এই কথা ঠিক নয়। যে বর্ণনায় আশুরার দিন কিয়ামত হওয়ার কথা এসেছে তা হাদিস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল।

আল্লামা আবুল ফরজ ইবনুল জাওযী ওই বর্ণনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ‘এটা নিঃসন্দেহে মওযূ বর্ণনা …।’

হাফেয সুয়ূতী রহ. ও আল্লামা ইবনুল আররাক রহ.ও তার ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন।

(কিতাবুল মওযূআত ২/২০২; আল লাআলিল মাসনূআ ২/১০৯; তানযীহুশ শরীআতিল মরফূআ ২/১৪৯)

তবে জুমআর দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা সহিহ হাদীসে এসেছে। দেখুন-তিরমিযী ২/৩৬২; আবু দাউদ ১/৬৩৪; সুনানে নাসায়ী ৩/১১৩-১১৪

আশুরার দিনে কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে মর্মে কিছু কথা প্রচলিত আছে। এ দিন কিয়ামত সংঘটিত হোক আর না হোক, কিয়ামত আসার আগেই মুমিন ব্যক্তির উচিত পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

Please follow and like us:

চট্টগ্রামে দুই পরিবহন শ্রমিক খুন, বাস চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রাম নগরের আমানবাজারে অটোরিকশা চালকের ছুরিকাঘাতে দুই পরিবহন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বন্ধ রয়েছে হাটহাজারী-চট্টগ্রাম রুটে বাস চলাচল।

মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মানিক ও বুলু বড়ুয়া। এরমধ্যে বুলু বড়ুয়া পেশায় ট্রাকচালক ও মানিক বাস চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, আমাদের এক বাসের হেলপারকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আপাতত হাটহাজারী-চট্টগ্রাম রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাটহাজারী থানার এসআই আলী আকবর বলেন, এক অটোরিকশাচালক দুই পরিবহন শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আটোরিকশা চালককে আটক করা হয়েছে। কী কারণে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

Please follow and like us:

গুলিতে চিত্রগ্রাহকের মৃত্যু, অভিযোগ ঘুচল অ্যালেক বল্ডউইনের

হলিউডের সিনেমা ‘রাস্ট’-এর শুটিং সেটে হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত খারিজ করে দেওয়ায় অবশেষে রেহাই পেলেন অভিযুক্ত অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন। বাল্ডউইনের বিরুদ্ধে মামলাটি ‘নাটকীয়ভাবে’ খারিজ করা হয়েছে। রায় শুনে আদালতে কাঁদতে দেখা যায় বল্ডউইনকে। এসময় পাশে ছিলেন তার স্ত্রী।

২০২১ সালে ‘রাস্ট’ সিনেমার শুটিং সেটে নকল পিস্তল থেকে গুলি করেন অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন। সাধারণত নকল গুলিতে কারও ক্ষতি না হলেও বল্ডউইনের ছোড়া গুলিতে মারা যান সিনেমার চিত্রগ্রাহক হ্যালিনা হাচিন্স। আহত হন পরিচালক জোয়েল সুজা।
মামলার রায়ে বিচারক বলেছেন, অভিনেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ হয়নি। তার হাতে পিস্তলটি তুলে দিয়েছিলেন সিনেমার সহকারী নির্মাতা। পিস্তলটি যে আসল, সেটি জানতেন না অভিযুক্ত। বিচারক মেরি মার্লো মামলার বাদীপক্ষ ও অভিযুক্তদের সাক্ষ্য শোনার পর যথার্থ প্রমাণের অভাবে বল্ডউইনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে দেন।

মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে বল্ডউইনের ১৮ মাসের কারাদণ্ড হতে পারত। রায় ঘোষণার পরই বাল্ডউইনকে কাঁদতে দেখা যায়। কাঁদতে কাঁদতে আদালতেই তার স্ত্রী হিলারিয়াকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।

সিনেমা সেটে ‘প্রপ’ হিসেবে ব্যবহৃত বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি চালানোর সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানাচ্ছে সিএনএন। অথচ বাল্ডউইন নির্মাণাধীন একটি দৃশ্যের অনুশীলনের জন্য সহপরিচালকের কাছ থেকে বন্দুক চেয়ে নেন। সে সময় বন্দুকটিতে গুলি ছিল কিনা বা বন্দুকটি নিরাপদ ছিল কিনা, সেটি পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

চরিত্র ফুটিয়ে তোলার স্বার্থে সিনেমা বা থিয়েটারে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ব্যবহৃত আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র যেমন লাঠি, বন্দুক, তলোয়ার, ছুরি-কাচি, কলম এ ধরনের অন্য যা কিছু, সেগুলোকে প্রপ বলা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমায় প্রপ হিসেবে হরহামেশাই বন্দুকের ব্যবহার দেখা যায়।

বল্ডউইন জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক। ‘টক রেডিও’, ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’, ‘অ্যালিস’, ‘টু রোম উইথ লাভ’, ‘ব্লু জেসমিন’, ‘দ্য অ্যাভিয়েটর’, ‘দ্য ডিপার্টেড’-এর মত সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজের কয়েকটি সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে।

Please follow and like us:

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

ঢাকা: দেশের চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কোটা সংস্কার আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছেও বলে জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১৫ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে   মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এ তথ্য জানান।

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের   মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, ঢাকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভে শত শত আহতের রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা সচেতন আছি। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ যেকোনো বিকাশমান গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো সহিংসতার নিন্দা জানাই। যারা এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা আছে।

মিলার বলেন, ‘বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুইজন নিহত এবং হামলায় শতশত বিক্ষোভকারীর আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। ’ তবে আন্দোলনে নিহত দুইজনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

উল্লেখ্য, চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে সোমবার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

Please follow and like us:

২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামালায় আরও ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইয়েল। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামালায় আরও ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার নুসেইরাত ও খান ইউনিসে ইসরাইলি হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নুসেইরাতে মারা গেছেন ১১ জন। বাকি চারজন মারা গেছেন খান ইউনিসে। এছাড়া গাজার বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইলী বাহিনী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) এই তথ্য জানা যায়,

নুসেইরাতের একটি বাড়িতে ইসরাইলি সামরিক হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া খান ইউনিসের কাছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বোমা হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৬৬৪ জনে। আহত হয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৭ জন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে ঢুকে গাজার শাসক দল হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে উপত্যকায় প্রায় বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। হামাসের ওই হামলায় নিহত হয় এক হাজার ২০০ ইসরাইলি। ওইদিন দুই শতাধিক ইসরাইলিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসেন সশস্ত্র ফিলিস্তিনিরা।

ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু দখলদার ইসরাইল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ কিংবা গির্জার মতো বেসামরিক স্থাপনা।

হামলার পর বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া অনেকেই নিখোঁজ হয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please follow and like us:

‘সংগঠনের কেউ মারা গেলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়ে, এমন দলে আমার নাম না থাকুক’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কোটা আন্দোলনকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের খুঁজতে লাটিসোটা নিয়ে বের হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

হামলার শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম ফরহাদ কাউসার। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।  রাত ৯টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে মতানৈক্য। শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছি আসো খেলা হবে।  এরপর থেকে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে উঠেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতায় হামলার প্রতিবাদে কুবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গণহারে পদত্যাগ করছেন।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন হলের নেতাকর্মী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ পদত্যাগ করেছেন।

বর্তমানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল, শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

সদ্য পদত্যাগ করা শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত হলের আইন বিষয়ক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, ছাত্র রাজনীতি ছিল আমার পছন্দের জায়গা, ভালোবাসার স্থান। আজকের পর থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। কেউ আমাকে ডাকবেন না। দত্ত হল কারও বাপের না।

সদ্য পদত্যাগকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দুনিয়াই সবকিছু না, আখেরাত বলেও কিছু আছে। যে সংগঠনের কেউ মারা গেলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়ে এমন সংগঠনে আমার নাম না থাকুক।

নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করে পোস্ট করে বলেন, আমি লজ্জিত যে আমি এমন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম।

সদ্য ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগকারী ও ২০২১-২২ ব্যাচের তানজিনা আক্তার বলেন, আমিসহ নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ১৬তম ব্যাচের সব মেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাত্রলীগ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আজ থেকে ছাত্রলীগের কোনো প্রোগ্রামে আমরা যাব না।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, একজন ছাত্র হয়ে আরেকজন ছাত্রের শরীরে এমন নির্মমভাবে যারা আঘাত করতে পারে সেই দল থেকে ইস্তফা দিলাম।

 

Please follow and like us:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবন চত্বরে শিক্ষার্থীদের মারধর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার ভয়ে উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তাঁরা বলছেন, সেখানে ঢুকে তাঁদের মারধর করেছেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। হামলায় আহত হয়েছেন অনেকে।

পরে বিভিন্ন হল থেকে কয়েক শ শিক্ষার্থী বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে রাত ১২টার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। এতে বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক নেতা–কর্মী অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, গুলি

শিক্ষার্থীরা বলেন, বেশির ভাগ হামলাকারীর মাথায় হেলমেট ও হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় দুটি পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। হামলা থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন চত্বরে আশ্রয় নেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা।

ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটক ছেড়ে রাস্তায় চলে যান। পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে ফটক ভেঙে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আবার উপাচার্যের বাসভবন চত্বরে ঢোকেন। এ সময় তাঁরা বেশ কয়েকটি পেট্রলবোমা ছোড়েন। ভাঙচুর করেন। এরপর আন্দোলনকারীদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। এ সময় উপাচার্য বাসভবনের ভেতরেই ছিলেন।

ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ

পরে রাত সোয়া দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন তাঁরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গেও তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের শুরু যেভাবে

গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা হয়। এতে অর্ধশতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হন।

Please follow and like us:

পাঠক প্রিয়