২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিউজ ডেস্ক

বজ্রপাত : ৪ জেলায় ৮ জনের মৃত্যু

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে পাঁচজন, সিলেটে একজন, নওগাঁয় একজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

রংপুর

রংপুরের পীরগঞ্জে একটি ইটভাটায় বজ্রপাতে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বত্রিশ মাইল বিটিসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

মৃতরা হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কাবিলপুর সোনাতলা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার মিয়ার ছেলে আব্দুল জলিল মিয়া (৬৫), একই উপজেলার তিলকপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে নাজমুল ইসলাম (২২), চকনদী গ্রামের মো. শিরুল মিয়ার ছেলে সিয়াম মিয়া (২০), একই গ্রামের আলামিন মিয়ার ছেলে শাহাদাত মিয়া (২২) ও আয়তাল মিয়ার ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৮)।

ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, বিকেলে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে বিটিসি এলাকার বকুল ব্রিকস নামে ইটভাটায় কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে পাঁচ শ্রমিক গুরুতর আহত হন। এর কিছু সময় পর ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও এক শ্রমিক।

সিলেট

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় বজ্রপাতে বদরুল আলম বদিল নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বদরুল আলম বদিল উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চিকাডহর গ্রামের মৃত ওয়াতির আলীর ছেলে।

ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াদ আলী বলেন, সোমবার দিবাগত রাতে বদরুল আলম মইটা টিলায় মাছ ধরতে যান সারারাত মাছ ধরে তিনি সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সকাল সাড়ে ৮টায় বাড়ি ফেরার পথে শাহ আরেফিন টিলায় বজ্রপাতের কবলে পড়েন বদরুল। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নওগাঁ

নওগাঁর মান্দায় ধানের জমি দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে সুজাদ হোসেন (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের বুজরকান্তপুর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। সুজাদ হোসেন বুজরকান্তপুর গ্রামের (পূর্বপাড়ার) চান্দু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির পানি ধানক্ষেতে জমেছে কিনা সেটা দেখার জন্য সুজাদ দুপুর ২টার দিকে গ্রামের পাশে ধানের জমিতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

মহাদেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে মোসা. মাসেদা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বৃষ্টির সময় গৃহস্থালির কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাত হলে ওই নারীর মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিকেলে বৃষ্টির সময় বাড়ির সামনে সংসারের কাজ করছিলেন মাসেদা বেগম। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

মাসেদা বেগমের স্বজন আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির সামনের জ্বালানি খড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র গুছিয়ে আনার কাজ করছিলেন মাসেদা বেগম। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. মৌদুদ আলম খাঁ জানান, মরদেহ দাফনের জন্য মৃতের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

Please follow and like us:
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যা, যা বলল জাতিসংঘ

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সহিংস হামলা থেকে বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ বলেছে, মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার আছে এবং সরকারকে সেই অধিকার রক্ষা করতে হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে চলমান ঘটনাপ্রবাহ জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিনের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে তথাকথিত কোটা পদ্ধতির পরিবর্তে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলছে। সরকারের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ নিরাপত্তা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিক্ষোভে হামলায় ছয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব কি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন- হ্যাঁ, আমরা বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে অবগত আছি। আমরা ঘনিষ্ঠভাবে এবং উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি- বাংলাদেশে হোক বা বিশ্বের অন্য কোথাও, মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং যে কোনো ধরনের হুমকি বা সহিংসতা থেকে বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। বিশেষ করে যুবক বা শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো যাদের যাদের অতিরিক্ত সুরক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, যেন তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে পারে।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রদর্শন করতে পারা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং সরকারের উচিত সেই অধিকারগুলোকে রক্ষা করা।

Please follow and like us:

যেভাবে ৭৫ বছর আগে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছিল চায়ের নিলাম

ব্রিটিশদের হাত ধরে ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামে চা চাষের সূচনা হয়েছিল। এ অঞ্চলে চা চাষের ইতিহাস দুই শতকের কাছাকাছি হলেও নিলামের বয়স সে তুলনায় কম। কারণ ব্রিটিশ আমলে লন্ডন ও কলকাতায় বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হতো এ অঞ্চলের উৎপাদিত চা। ভারত ভাগের পর ১৯৪৯ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে চায়ের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসাবে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে চায়ের নিলামের ৭৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশ অঞ্চলে চট্টগ্রামে চা চাষের সূচনা হলেও চা চাষের প্রসার ঘটে সিলেটে। এর পরও চট্টগ্রামেই প্রথম নিলামকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এর কারণ সম্পর্কে চা চাষের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেলযোগাযোগ চালুর পর সিলেটসহ এ অঞ্চলে উৎপাদিত বেশির ভাগ চা রপ্তানি হতো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এতে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক চায়ের গুদামসহ নানা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অবকাঠামো থাকায় এখানেই নিলামকেন্দ্র চালু হয়। নানা জায়গা ঘুরে বর্তমানে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের প্রগ্রেসিভ টাওয়ারে সপ্তাহের প্রতি সোমবার এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম চা নিলামের আয়োজনের নেপথ্যে আছে বর্তমানের ‘ন্যাশনাল ব্রোকার্স লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর। তখন বাংলাদেশ অঞ্চলে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) কোনো নিলামকেন্দ্র ছিল না। এ অঞ্চলের চা বিক্রির জন্য তৎকালীন ‘পাকিস্তান ব্রোকার্স লিমিটেড’ (বর্তমানে ন্যাশনাল ব্রোকার্স লিমিটেড) গঠন করেন পাঁচজন বিখ্যাত ব্যক্তি। ১৯৪৮ সালের ৬ জুন এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। চার ইউরোপিয়ানের সঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তান ব্রোকার্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খান বাহাদুর মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত লতিফুর রহমানের বাবা।

চা বেচাকেনায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান গঠনের এক বছর পর ১৯৪৯ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে প্রথম চায়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে তিন হাজার ব্যাগ চা নিলামে তোলা হয়। শুরুতে পাক্ষিক নিলাম হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে চা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিটিএবি) এই নিলাম পরিচালনা করে।

চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র চালুর পরও এখানকার উৎপাদিত চা লন্ডনের নিলামে তোলা হতো। এই ধারা অব্যাহত থাকে বাংলাদেশ আমলেও। কারণ নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত চা চাষের বেশির ভাগ ছিল ব্রিটিশদের হাতে। পাকিস্তান টি অ্যাসোসিয়েশনের ১৯৫২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র চালুর দুই বছর পর ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৮ ব্যাগ চা বিক্রি হয়। একই বছরে লন্ডনের নিলামকেন্দ্রে বিক্রি হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৭০৫ ব্যাগ চা। বাংলাদেশি চা সংসদের প্রকাশনা থেকে জানা যায়, লন্ডনে সর্বশেষ বাংলাদেশের চা নিলামে তোলা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সেবার ৯৮ হাজার কেজি চা নিলামে তোলা হয়।

টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা টিটিএবি সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান প্রথম আলোকে বলেন, চা নিলামের ৭৫ বছরে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। শুরুতে নিলামে বিক্রি হওয়া চায়ের সিংহভাগই রপ্তানি হতো। তবে দেশে ভোগ বেড়ে যাওয়ায় নিলাম থেকে কেনা চায়ের বেশির ভাগ এখন দেশে বাজারজাত হচ্ছে। আবার অনলাইনেও পরীক্ষামূলক নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। দেশে চায়ের নিলামকেন্দ্র এখন তিনটিতে উন্নীত হয়েছে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নিলামকেন্দ্র চালুর ৬৯ বছরের মাথায় ২০১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নিলামকেন্দ্র চালু হয়; আর ২০২৩ সালে পঞ্চগড়ে চালু হয় তৃতীয় নিলামকেন্দ্র। তবে এখনো বেশির ভাগ চা বিক্রি হয় চট্টগ্রামের নিলামে।

চা একমাত্র পণ্য যেটি উৎপাদনের পর নিলামে বিক্রি করতে হয়। তবে বাগানমালিকেরা চাইলে নিজেদের উৎপাদিত চায়ের ২৫ শতাংশ কর দিয়ে নিজেরা বাজারজাত করতে পারেন। এ জন্য অনুমতি নিতে হয় চা বোর্ডের। আবার আমদানি ও রপ্তানি করতে হয় চা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে।

চা নিলামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে চলতি নিলাম মৌসুমে। নিলামে চায়ের দরপতন ঠেকাতে ন্যূনতম মূল্যও বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবার। এতে চলতি মৌসুমের নিলামে চায়ের ভালো দাম পাচ্ছেন বাগানমালিকেরা।

উপমহাদেশে চা চাষের সূচনা হয়েছিল ব্রিটিশদের হাত ধরে। চা চাষ, বিপণন, রপ্তানি ও বাগানের মালিকানা—সবই ছিল তাদের হাতে। তাদের হাত ধরে নানা অবকাঠামো গড়ে তোলা হলেও ধীরে ধীরে বাঙালি উদ্যোক্তারা যুক্ত হতে থাকেন চায়ের ব্যবসায়। বর্তমানে কয়েকটি ইউরোপিয়ান কোম্পানির মালিকানায় চা–বাগান থাকলেও এই শিল্পের সিংহভাগই রয়েছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের হাতে।

Please follow and like us:

“অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ”

“অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ”

কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার।

এর আগে আজ বুধবার সকালে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর করণীয় কী হবে, তা ঠিক করতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার।

 

Please follow and like us:

আশুরার দিন কি কিয়ামত হবে?

আশুরার দিন কি কিয়ামত হবে?

ইসলামে আশুরার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত। রাসূল (সা.) বলেছেন, যদি রমজানের পর আর কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস।

এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)।

আশুরা দিবসের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে বলে থাকেন যে, ‘হাদিস শরীফে এসেছে, এই দিনে কিয়ামত সংগঠিত হবে।’

এই কথা ঠিক নয়। যে বর্ণনায় আশুরার দিন কিয়ামত হওয়ার কথা এসেছে তা হাদিস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল।

আল্লামা আবুল ফরজ ইবনুল জাওযী ওই বর্ণনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ‘এটা নিঃসন্দেহে মওযূ বর্ণনা …।’

হাফেয সুয়ূতী রহ. ও আল্লামা ইবনুল আররাক রহ.ও তার ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন।

(কিতাবুল মওযূআত ২/২০২; আল লাআলিল মাসনূআ ২/১০৯; তানযীহুশ শরীআতিল মরফূআ ২/১৪৯)

তবে জুমআর দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা সহিহ হাদীসে এসেছে। দেখুন-তিরমিযী ২/৩৬২; আবু দাউদ ১/৬৩৪; সুনানে নাসায়ী ৩/১১৩-১১৪

আশুরার দিনে কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে মর্মে কিছু কথা প্রচলিত আছে। এ দিন কিয়ামত সংঘটিত হোক আর না হোক, কিয়ামত আসার আগেই মুমিন ব্যক্তির উচিত পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

Please follow and like us:

চট্টগ্রামে দুই পরিবহন শ্রমিক খুন, বাস চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রাম নগরের আমানবাজারে অটোরিকশা চালকের ছুরিকাঘাতে দুই পরিবহন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বন্ধ রয়েছে হাটহাজারী-চট্টগ্রাম রুটে বাস চলাচল।

মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মানিক ও বুলু বড়ুয়া। এরমধ্যে বুলু বড়ুয়া পেশায় ট্রাকচালক ও মানিক বাস চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, আমাদের এক বাসের হেলপারকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আপাতত হাটহাজারী-চট্টগ্রাম রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাটহাজারী থানার এসআই আলী আকবর বলেন, এক অটোরিকশাচালক দুই পরিবহন শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আটোরিকশা চালককে আটক করা হয়েছে। কী কারণে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

Please follow and like us:

গুলিতে চিত্রগ্রাহকের মৃত্যু, অভিযোগ ঘুচল অ্যালেক বল্ডউইনের

হলিউডের সিনেমা ‘রাস্ট’-এর শুটিং সেটে হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত খারিজ করে দেওয়ায় অবশেষে রেহাই পেলেন অভিযুক্ত অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন। বাল্ডউইনের বিরুদ্ধে মামলাটি ‘নাটকীয়ভাবে’ খারিজ করা হয়েছে। রায় শুনে আদালতে কাঁদতে দেখা যায় বল্ডউইনকে। এসময় পাশে ছিলেন তার স্ত্রী।

২০২১ সালে ‘রাস্ট’ সিনেমার শুটিং সেটে নকল পিস্তল থেকে গুলি করেন অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন। সাধারণত নকল গুলিতে কারও ক্ষতি না হলেও বল্ডউইনের ছোড়া গুলিতে মারা যান সিনেমার চিত্রগ্রাহক হ্যালিনা হাচিন্স। আহত হন পরিচালক জোয়েল সুজা।
মামলার রায়ে বিচারক বলেছেন, অভিনেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ হয়নি। তার হাতে পিস্তলটি তুলে দিয়েছিলেন সিনেমার সহকারী নির্মাতা। পিস্তলটি যে আসল, সেটি জানতেন না অভিযুক্ত। বিচারক মেরি মার্লো মামলার বাদীপক্ষ ও অভিযুক্তদের সাক্ষ্য শোনার পর যথার্থ প্রমাণের অভাবে বল্ডউইনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে দেন।

মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে বল্ডউইনের ১৮ মাসের কারাদণ্ড হতে পারত। রায় ঘোষণার পরই বাল্ডউইনকে কাঁদতে দেখা যায়। কাঁদতে কাঁদতে আদালতেই তার স্ত্রী হিলারিয়াকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।

সিনেমা সেটে ‘প্রপ’ হিসেবে ব্যবহৃত বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি চালানোর সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানাচ্ছে সিএনএন। অথচ বাল্ডউইন নির্মাণাধীন একটি দৃশ্যের অনুশীলনের জন্য সহপরিচালকের কাছ থেকে বন্দুক চেয়ে নেন। সে সময় বন্দুকটিতে গুলি ছিল কিনা বা বন্দুকটি নিরাপদ ছিল কিনা, সেটি পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

চরিত্র ফুটিয়ে তোলার স্বার্থে সিনেমা বা থিয়েটারে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ব্যবহৃত আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র যেমন লাঠি, বন্দুক, তলোয়ার, ছুরি-কাচি, কলম এ ধরনের অন্য যা কিছু, সেগুলোকে প্রপ বলা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমায় প্রপ হিসেবে হরহামেশাই বন্দুকের ব্যবহার দেখা যায়।

বল্ডউইন জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক। ‘টক রেডিও’, ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’, ‘অ্যালিস’, ‘টু রোম উইথ লাভ’, ‘ব্লু জেসমিন’, ‘দ্য অ্যাভিয়েটর’, ‘দ্য ডিপার্টেড’-এর মত সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজের কয়েকটি সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে।

Please follow and like us:

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

ঢাকা: দেশের চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কোটা সংস্কার আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছেও বলে জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১৫ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে   মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এ তথ্য জানান।

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের   মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, ঢাকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভে শত শত আহতের রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা সচেতন আছি। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ যেকোনো বিকাশমান গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো সহিংসতার নিন্দা জানাই। যারা এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা আছে।

মিলার বলেন, ‘বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুইজন নিহত এবং হামলায় শতশত বিক্ষোভকারীর আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। ’ তবে আন্দোলনে নিহত দুইজনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

উল্লেখ্য, চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে সোমবার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

Please follow and like us:

২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামালায় আরও ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইয়েল। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামালায় আরও ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার নুসেইরাত ও খান ইউনিসে ইসরাইলি হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নুসেইরাতে মারা গেছেন ১১ জন। বাকি চারজন মারা গেছেন খান ইউনিসে। এছাড়া গাজার বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইলী বাহিনী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) এই তথ্য জানা যায়,

নুসেইরাতের একটি বাড়িতে ইসরাইলি সামরিক হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া খান ইউনিসের কাছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বোমা হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৬৬৪ জনে। আহত হয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৭ জন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে ঢুকে গাজার শাসক দল হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে উপত্যকায় প্রায় বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। হামাসের ওই হামলায় নিহত হয় এক হাজার ২০০ ইসরাইলি। ওইদিন দুই শতাধিক ইসরাইলিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসেন সশস্ত্র ফিলিস্তিনিরা।

ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু দখলদার ইসরাইল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ কিংবা গির্জার মতো বেসামরিক স্থাপনা।

হামলার পর বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া অনেকেই নিখোঁজ হয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please follow and like us:

‘সংগঠনের কেউ মারা গেলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়ে, এমন দলে আমার নাম না থাকুক’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কোটা আন্দোলনকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের খুঁজতে লাটিসোটা নিয়ে বের হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।

হামলার শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম ফরহাদ কাউসার। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।  রাত ৯টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে মতানৈক্য। শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছি আসো খেলা হবে।  এরপর থেকে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে উঠেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতায় হামলার প্রতিবাদে কুবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গণহারে পদত্যাগ করছেন।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন হলের নেতাকর্মী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ পদত্যাগ করেছেন।

বর্তমানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল, শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

সদ্য পদত্যাগ করা শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত হলের আইন বিষয়ক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, ছাত্র রাজনীতি ছিল আমার পছন্দের জায়গা, ভালোবাসার স্থান। আজকের পর থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। কেউ আমাকে ডাকবেন না। দত্ত হল কারও বাপের না।

সদ্য পদত্যাগকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দুনিয়াই সবকিছু না, আখেরাত বলেও কিছু আছে। যে সংগঠনের কেউ মারা গেলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়ে এমন সংগঠনে আমার নাম না থাকুক।

নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করে পোস্ট করে বলেন, আমি লজ্জিত যে আমি এমন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম।

সদ্য ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগকারী ও ২০২১-২২ ব্যাচের তানজিনা আক্তার বলেন, আমিসহ নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ১৬তম ব্যাচের সব মেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাত্রলীগ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আজ থেকে ছাত্রলীগের কোনো প্রোগ্রামে আমরা যাব না।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, একজন ছাত্র হয়ে আরেকজন ছাত্রের শরীরে এমন নির্মমভাবে যারা আঘাত করতে পারে সেই দল থেকে ইস্তফা দিলাম।

 

Please follow and like us:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবন চত্বরে শিক্ষার্থীদের মারধর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার ভয়ে উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তাঁরা বলছেন, সেখানে ঢুকে তাঁদের মারধর করেছেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। হামলায় আহত হয়েছেন অনেকে।

পরে বিভিন্ন হল থেকে কয়েক শ শিক্ষার্থী বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে রাত ১২টার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। এতে বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক নেতা–কর্মী অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, গুলি

শিক্ষার্থীরা বলেন, বেশির ভাগ হামলাকারীর মাথায় হেলমেট ও হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় দুটি পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। হামলা থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন চত্বরে আশ্রয় নেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা।

ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটক ছেড়ে রাস্তায় চলে যান। পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে ফটক ভেঙে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আবার উপাচার্যের বাসভবন চত্বরে ঢোকেন। এ সময় তাঁরা বেশ কয়েকটি পেট্রলবোমা ছোড়েন। ভাঙচুর করেন। এরপর আন্দোলনকারীদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। এ সময় উপাচার্য বাসভবনের ভেতরেই ছিলেন।

ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ

পরে রাত সোয়া দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন তাঁরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গেও তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের শুরু যেভাবে

গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা হয়। এতে অর্ধশতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হন।

Please follow and like us:

পাঠক প্রিয়