২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিউজ ডেস্ক

পাঁচ কারণে বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির আকার এক হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি যার গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ আসে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই থেকে। কিন্তু এফডিআই বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও দিনে দিনে কমছে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ। দুই বছর আগেও এই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ায় তা বেশ ভালো প্রভাব রেখেছিল অর্থনীতিতে। কিন্তু হঠাৎ করে তা কেন কমছে এ নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ পাওয়া যাচ্ছে অর্থনীতিবিদ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে।

গত দশ বছরের বিদেশি বিনিয়োগের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিবিসি বাংলা এ নিয়ে কথা বলেছে বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও সরকারের সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে। অর্থনীতিবিদরা এই বৈদেশিক বিনিয়োগ কমার কারণ হিসেবে ডলার সংকট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা, সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি ও জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলোকে মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন।

অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া এ অবস্থার উন্নতিও দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ও বর্তমান দুইজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণেই কিছুটা কমেছে বৈদেশিক বিনিয়োগ।

বিদেশি বিনিয়োগের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে

বিনিয়োগকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে নিয়ে আসা অর্থ সংক্রান্ত জরিপ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ এই জরিপের রিপোর্ট প্রকাশ হয় গত ডিসেম্বরের শুরুতে।

রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ৩২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অথচ আগের বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩৪৩ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। হিসাব বলছে, বছর ব্যবধানে নিট এফডিআই প্রবাহ কমেছে ৫.৫২ শতাংশ।

নিট প্রবাহের এই চিত্রের বিপরীতে বিদেশি নতুন বিনিয়োগকারীরা এই অর্থবছরে নতুন মূলধন এনেছে অনেক কম। ২০২১-২২ অর্থবছরে নতুন মূলধন বিনিয়োগের পরিমাণ ১৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা হলেও গত অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৯ কোটি ৫৯ লাখ ডলারে। এ হিসেবে নতুন বিদেশি মূলধনী বিনিয়োগ কমেছে ৪০ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আঙ্কটাডের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালে এফডিআইয়ের প্রবাহ ছিল ২৫৬ কোটি ডলার, ২০১৫ সালে ২২৩ কোটি, ২০১৬ সালে ২৩৩ কোটি, ২০১৭ সালে ২১৫ কোটি, ২০১৮ সালে ৩৬১ কোটি, ২০১৯ সালে ২৮৭ কোটি, ২০২০ সালে ২৫৬ কোটি, ২০২১ সালে ২৮৯ কোটি। আবার ২০২২ সালে রেকর্ড ৩৪৮ কোটি ডলার আসলেও ২০২৩-এ এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘গ্লোবাল ইন্টারেস্ট রেট অনেক বেড়ে গেছে বিভিন্ন দেশে। ফলে ক্যাপিটালের যে ফ্লো থাকে তা স্বাভাবিকভাবে যে সমস্ত দেশে ইন্টারেস্ট রেট বেশি, সে সমস্ত দেশে ফ্লো করে।’

তিনি বলেন, ‘আমার এখানে কেউ বিনিয়োগ করতে হলে তাকে দুইটা ফ্যাক্টর কনসিডার করতে হয়। তার একটা হলো একচেঞ্জ রেট রিস্ক, আরেকটা হলো ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক।’

যে কারণে ক্যাপিটালগুলো উন্নত দেশের যেখানে এক্সচেঞ্জ রেটের কোনো রিস্ক নেই সেখানে এই মুদ্রাগুলো চলে যায়।

বিদেশি বিনিয়োগ কেন কমছে, তা জানতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি যে প্রধান পাঁচটি কারণ খুঁজে পেয়েছে তা একে একে তুলে ধরা হলো।

ডলার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি

গত দুই বছরের টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য বেড়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। বর্তমানে সরকারি হিসাবে মূল্য ১১০-১১১ টাকা, কোথাও কোথাও তা নেওয়া হচ্ছে আরও অনেক বেশি।

সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকটের কারণে এদেশে বিনিয়োগকারী অনেক বিদেশি কোম্পানি নিজ দেশে মুনাফা নিতে পারেনি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ কমার অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা ডলারের সংকট ও মূল্য ওঠানামা করা।

বিনিয়োগকারীরা সবার আগে রিটার্ন নিয়ে চিন্তা করেন। যখন তারা পদ্ধতিগত সমস্যা দেখতে পান তখন তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হন না।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ডলারের সংকটের কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টাকাও আটকে গিয়েছিল। ব্যাংকগুলো বলেছে তাদের কাছে ডলার নাই। এই বিষয়গুলো বিভিন্ন দেশ দেখে নতুন করে হয়তো আর বিনিয়োগে আগ্রহী হয়নি।’

দেশে ডলারের এই সংকট কাটাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন বিক্রি হয়েছে।

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, ‘বৈদেশিক বিনিয়োগ বেশি এলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টটাও আমাদের বেটার হয়। যেটা আমাদের ১৫-১৬ বিলিয়ন ডলার পজেটিভ ছিল সেটা আমাদের নেগেটিভ হয়ে গেছে।’

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘হয়তো আমরা কমফোর্ট জোনে নাই। তবে, আমাদের ডলার সংকট নাই।’

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নতুন মুদ্রানীতির মাধ্যমে সুদের হার বাড়িয়ে ডলার সংকট কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু এটা দিয়ে ডলার সংকট কাটানো যাবে না। বাজারভিত্তিক মুদ্রা হারের ব্যবস্থাপনা না করতে পারলে ডলারের জোগান বাড়ানো কঠিন হবে।’

অর্থ পাচার ও দুর্নীতি

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সংস্থা জিএফআইয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হয় ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। টাকার অঙ্কে তা প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশ থেকে অর্থ পাচার হলে বাণিজ্য গতিশীলতা কমে।

ঘাটতি কমাতে কখনও কখনও বাড়তি কর আদায় করতে হয়। অর্থ সংকটের কারণে সামগ্রিক অর্থনীতির আয়-ব্যয়ের এক ধরনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেখা যাচ্ছে তাদের টাকা পাঠাতে দেরি হচ্ছে। কারণ পাচারসহ নানা কারণে ফরেন কারেন্সির রিজার্ভটা কমে যাচ্ছে। এটা এক ধরনের রং সিগন্যাল দিচ্ছে।’

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবে আর্থিক খাত নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা বরাবরই ছিল। এটা আরও বেড়েছে।’

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

গত বছরের শেষে বিদেশি বিনিয়োগ কমার মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে চিহ্নিত করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, গত বছরের শেষ দিকে বিএনপি জোটের টানা আন্দোলন কর্মসূচি, সংঘাত সংঘর্ষের প্রভাব বিদেশি বিনিয়োগে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত বছর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা একটা বড় বিষয় ছিল। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকে একটা দোটানায় ছিল ইলেকশন হবে কি হবে না। এ কারণে নতুন করে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হননি।’

সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছুটা টানাপোড়েন ছিল। একটি রাজনৈতিক দল অর্থনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার জন্য ভীষণভাবে চেষ্টা করেছে। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝে এক ধরনের নেতিবাচক বার্তা গেছে।’

বর্তমান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমার বিষয়টা খুবই নরমাল। নির্বাচনের আগে বিদেশি বিনিয়োগ একটু সেøা ডাউন হয়। নির্বাচনের পর এখন বিদেশি রাষ্ট্রগুলো আমাদের ওপর আবার আস্থা রাখছে।’

অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দেশের অর্থনীতি। কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নানা সংকট দেখা যাচ্ছে।

অর্থনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধিসহ নানা কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নেতিকবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আর্থিক খাত নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা বরাবরই ছিল, সম্প্রতি এটা আরও বেড়েছে।’

‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুনেছে যে, বাংলাদেশে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড তার বিল পরিশোধ করতে পারছে না। ডলারে যে বিলগুলো দেওয়ার কথা সেটা পড়ে আছে।’

‘ব্যাংকাররা অনেক সময় এলসি খুলে সময় মতো এলসি সেটল করতে পারেন নাই। আন্তর্জাতিক বাজারে সে খবরও পৌঁছেছে। এসব কারণে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে লাভ হলেও সে টাকা তুলে আনতে পারবে না। এমন পরিস্থিতির কারণে তারা স্থিতিশীলতার অপেক্ষা করছে’, বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. হোসেন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতিই যতক্ষণ পর্যন্ত না স্থিতিশীল হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমে না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা একটু অপেক্ষা করবে বলেই মনে হচ্ছে।’

সেবার মান ও জ্বালানি সংকট

বাংলাদেশে যেসব খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে তার মধ্যে অন্যতম হলো টেক্সটাইল, চামড়াজাত সামগ্রী, পাট, কৃষিভিত্তিক শিল্প ইত্যাদি। বিদেশিদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে বেশ কিছু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে।

কিন্তু এসব জায়গায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পর নিষ্কণ্টক জমি নিয়ে যে বাধা ছিল সেটা কাটানো গেছে। কিন্তু ওয়ান স্টপ সার্ভিস, মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবারহ সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ কারণে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাওয়া যাচ্ছে না।’

এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কাজ করছে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, অর্থনীতির দিক থেকে ভারত, ভিয়েতনাম, চীন কিংবা বাংলাদেশের সমতুল্য দেশগুলোতে যে পরিমাণ এফডিআই আসে সে তুলনায় বাংলাদেশে এফডিআই খুবই নগণ্য।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকার যদিও অনেক কাজ করার কথা বলেছে। জমির ঝামেলা মেটানো, গ্যাস বিদ্যুৎ পানি এইসব আমরা দিয়ে দিব এক জায়গায় – এ ধরনের অনেক কথাবার্তা হয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক সুযোগই নিশ্চিত করা যায়নি।’

‘যেসব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি, সেসব অঞ্চলে যদি বিনিয়োগের পুরোপুরি পরিবেশ নিশ্চিত করা যেত তাহলে হয়তো বিদেশি বিনিয়োগে কিছুটা পরিবর্তন আনা সম্ভব হতো। কিন্তু সেটি হয়নি’, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. হোসেন। তবে, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘আইসিটি, বস্ত্রসহ বেশ কিছু খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ আছে। আমাদের দেশের এফডিআইয়ের সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে শতভাগ রয়েছে। আমাদের দেশে এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ রয়েছে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে তাকালে দেখা যায় যে সে সব দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেশ বড় ধরনের প্রভাব রাখছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বাংলাদেশে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু সে সব উদ্যোগ খুব একটা কাজে আসছে না।

এ জন্য বিশ্লেষকরা অর্থনৈতিক খাতে বড়সড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে বলছেন, সংকট কাটাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের মূল আকর্ষণ হলো তারা যখন এখানে আসেন শুধু টাকা আনেন না, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও আসেন। এর ফলে দেশের শ্রমিকরা ভালো আয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পায়। আর বিনিয়োগ না আসা মানে, ওই উপকারগুলো থেকে বঞ্চিত হবে তারা।’

সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সম্পূর্ণ বড় বিনিয়োগকারী যারা আছে তারা তাদের বাছবিচার করে নানা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। তবে এটা নিয়ে আমরা ভীত সন্ত্রস্ত নই। যেহেতু নির্বাচন হয়ে গেছে সে কারণে এ নিয়ে বিশ্লেষকরা নানা ধরনের বিশ্লেষণ করবেন।’

‘বাস্তবতা হলো, নির্বাচনের পর সরকার গঠন হয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীরা যে সকল বিষয় নিয়ে চিন্তিত ছিল তা অনেকটা দূর হয়ে যাবে’, বলেন মান্নান।

Please follow and like us:
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

নওফেলের পক্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী ও খাবার পানি বিতরণ

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পক্ষে নগরীর জামালখানে শিক্ষা সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি ও টিস্যু বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত নগরীর জামালখান খাস্তগীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মহানগর ছাত্রলীগের সংগঠক চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলামের উদ্যোগে এই সামগ্রী বিতরণ করা হয়। শিক্ষাসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- ফাইল,কলম, স্কেল, রাবার, পেন্সিল ও জ্যামিতি বক্স।

উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক সাদ্দাম, ছাত্রনেতা সাঈদ আল যাবের, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের উপ-মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক তানভীর, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা সম্রাট চৌধুরী, ছাত্রনেতা রুমেল খান, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, সদস্য রায়হান, বিজয় রাজ, ছাত্রনেতা ইমতিয়াজ, বাঁধন, ইমন, প্রান্ত প্রমুখ।

Please follow and like us:

১৭৩৯ দিন পর সিংহাসন হারালেন সাকিব

ওয়ানডেতে অলরাউন্ডারের শীর্ষস্থানে ছিল সাকিব আল হাসানের রাজত্ব। প্রায় পাঁচ বছর সিংহাসনটি নিজের দখলে রেখেছিলেন। সাকিবের সেই রাজত্ব কেড়ে নিয়েছেন আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী।

সর্বশেষ র‌্যাংকিং বুধবার প্রকাশ করেছে আইসিসি।

আফগান অলরাউন্ডার রশিদ খানের কাছ থেকে ২০১৯ সালের ৭ মে  শীর্ষস্থানটি দখলে নেন সাকিব। তার পর রাজত্ব করেছেন ১ হাজার ৭৩৯ দিন। ওয়ানডের অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে এতদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকতে পারেনি আর কেউ।  কিন্তু সাম্প্রতিক সিরিজগুলোয় সাকিবের ইনজুরি, পাশাপাশি শ্রীলংকা সিরিজে নবীর দারুণ ফর্ম র‌্যাংকিংয়ের এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১৩৬ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলেছেন নবী। একই ম্যাচে বল হাতেও নিয়েছেন একটি উইকেট। তাতে এক ধাপ এগিয়ে দখলে নিয়েছেন অলরাউন্ডারের এক নম্বর আসন।

বোলারদের র‌্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে তাতে। এগিয়েছেন সাত ধাপ। ৩১৪ রেটিং নিয়ে নবী শীর্ষে। ৩১০ রেটিং নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছেন সাকিব। ২৮৮ রেটিং নিয়ে তিনে সিকান্দার রাজা।

ওয়ানডে বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে কেশব মহারাজ তার শীর্ষস্থান দখলে রাখতে পেরেছেন। শ্রীলংকান তারকা লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা অবশ্য এগিয়েছেন ১৪ ধাপ। বর্তমানে তার র্যাংকিং ২৬।

ওয়ানডেতে ব্যাটারদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন বাবর আজম। আফগানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে পাঁচ ধাপ এগিয়েছেন চারিথ আসালাঙ্কা। তার র্যাংকিং এখন ১৫। সিরিজ ওপেনারে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো পাথুম নিসাংকা লাফ দিয়েছেন ১০ ধাপ! তার র্যাংকিং এখন ১৮তম।

Please follow and like us:

মাওলানা ফজলুর রহমানের কাছে যে সহায়তা চাইলেন শাহবাজ

পাকিস্তানের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানকে জোট সরকারে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগের (এন) চেয়ারম্যান শাহবাজ শরিফ।

মঙ্গলবার মাওলানা ফজলুর রহমানের বাসভবনে দেখা করে এ আহ্বান জানান তিনি।  ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পাকিস্তান মুসলিম লীগের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খবর জিয়ো নিউজ উর্দূর।

সূত্র জানায়, বৈঠকে শাহবাজ শরিফ মাওলানা ফজলুর রহমানকে বলেন, আমরা সবসময় আপনার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নিই, এই সময়ে দেশ ও জাতির আপনাকে আবার প্রয়োজন। বিশ্বাস করুন, এই সময়ে কেউ খুশি মনে সরকারে অংশ নিতে চাচ্ছে না। আপনি আবার আমাদের সবাইকে নির্দেশনা দেবেন।

সূত্রের খবর, বৈঠকে মাওলানা ফজলুর রহমান শাহবাজ শরিফকে তার আপত্তির কথাগুলো জানান এবং ভোটে জমিয়তের সঙ্গে জাল-কারচুপির অভিযোগ করেন।

এ সময় মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, আমরা সব সময় দেশ ও জাতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছি, কিন্তু আমাদের ম্যান্ডেট চুরি হয়ে গেছে। দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অভিমত আমাদের বিরোধী আসনে বসতে হবে।

সূত্রের খবর, মাওলানা ফজলুর রহমান শাহবাজ শরিফকে বলেন, মিয়া সাহেব! এই নির্বাচনেও আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা নজিরবিহীন। আমি অবশ্যই মজলিসে শূরার সভায় আপনাদের পরামর্শ উপস্থাপন করব। আশা করি পাকিস্তানের জনগণের কল্যাণ ও উন্নতির জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Please follow and like us:

বিপিএলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তামিমের অনন্য রেকর্ড

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দেশের প্রথম এবং সবমিলে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ছক্কার সেঞ্চুরি করলেন তামিম ইকবাল। বাঁহাতি এই ওপেনারের আগে এই রেকর্ড গড়েন ক্রিস গেইল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ক্রিকেটার গেইল বিপিএলে ৫২ ইনিংসে ব্যাট করে ১৩৭টি ছক্কা হাঁকান। তামিম ১০৩টি ছক্কা হাঁকাতে খেলেছেন ৯৭ ইনিংস।

বুধবার চট্টগ্রামে দুরুন্ত ঢাকার বিপক্ষে মাইলফলক ছোঁয়ার ইনিংসে ৪৫ বলে ৭টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

বিপিএলে ছক্কার তালিকায় তামিমের খুব কাছে আছেন মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েস। ১০৮ ইনিংসে ইমরুলের ছক্কা ৯৭টি। মুশফিকের ১১৩ ইনিংসে সমান ৯৭টি। এছাড়া নব্বইয়ের বেশি ছক্কা আছে কেবল মাহমুদউল্লাহর, ১০৭ ইনিংসে ৯৪টি।

Please follow and like us:

প্রতারণা মামলায় ডা. সাবরিনার বিচার শুরু

তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় এনআইডি তৈরির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করা প্রতারণা মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারপারসন ডা. সাবরিনা শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদ সোমবার তার অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জুন দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সাবরিনার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করেন গুলশান থানার নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মমিন মিয়া। গত বছরের ২৪ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রিপন উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবরিনার দুটি এনআইডি কার্ড সক্রিয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি টের পাওয়ার পর বিস্তারিত জানতে ইসির কাছে তথ্য চেয়েছে। সাবরিনা ২০১৬ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় দ্বিতীয়বার ভোটার হন। তিনি প্রথমে ভোটার হন সাবরিনা শারমিন হোসেন নামে। একটিতে জন্মতারিখ ১৯৭৮ সালের ২ ডিসেম্বর, অন্যটিতে ১৯৮৩ সালের ২ ডিসেম্বর। প্রথমটিতে স্বামীর নাম আর এইচ হক আর দ্বিতীয়টিতে স্বামীর নাম লেখা হয়েছে আরিফুল চৌধুরী।

২০২২ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন জাল করোনা সনদ দেওয়ার মামলায় সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুলসহ ৬ জনকে ১১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত আছেন তিনি।

Please follow and like us:

আবারও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাসপাতালে

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনকে আবারও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

সম্ভাব্য মূত্রাশয়সংক্রান্ত সমস্যার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় এবার অস্টিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলো।

সপ্তাহ কয়েক আগেই অস্টিনকে হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। তবে তখন তিনি তার হাসপাতালে থাকার বিষয়টি বিতর্কিতভাবে গোপন রেখেছিলেন।

প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য গত ডিসেম্বরের পর জানুয়ারিতেও জনসাধারণের দৃষ্টি থেকে কার্যকরভাবে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন অস্টিন।

অস্টিন প্রাথমিকভাবে তার রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা উভয় বিষয় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ সরকারের বাকিদের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।

৭০ বছর বয়সি অস্টিনকে গতকাল রোববার বিকালে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এবার তাকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিষয়টি জনসাধারণকে জানানো হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রেস সেক্রেটারি প্যাট রাইডার এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক বাহিনী, হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
অস্টিনকে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসকে তা অবহিত করা হয়েছে।

অস্টিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কিনা কিংবা ভর্তি করা হলে তিনি কত দিন সেখানে থাকবেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

তবে রাইডার তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রেণিবদ্ধ (গোপনীয়) যোগাযোগব্যবস্থা তার সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তিনি তার দাপ্তরিক কাজ ও দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

আগের বার হাসপাতালে থাকার তথ্য গোপন রাখায় ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অস্টিন। এ জন্য চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি ক্ষমা চান।

Please follow and like us:

ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা

সমীকরণের ম্যাচে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে প্যারিস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পরাজয়ের ফলে এবারের আসর থেকে ছিটকে গেল অলিম্পিক আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

প্যারিস অলিম্পিকে খেলতে হলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততেই হতো আর্জেন্টিনাকে। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিলেন ফরোয়ার্ড লুসিয়ানো গুন্দো।

ঘড়ির কাঁটায় ম্যাচের বাকি তখন মাত্র ২২ মিনিট। আর্জেন্টিনা শিবিরে তখন গভীর উদ্বেগ। কেননা দীর্ঘ ৭৮ মিনিট ব্রাজিল রক্ষণভাগ যেভাবে আগলে রেখেছে, তাতে অলিম্পিকে যাওয়ার দৌড়ে তারাই এগিয়ে থাকার কথা।

কিন্তু হঠাৎ ডিবক্সের অনেকটা বাইরে থেকে একটি মাপা ক্রস শট নিলেন ব্রাইটনে খেলা আর্জেন্টাইন তরুণ ভ্যালেন্টিন বার্কো। অনেকটা দৌড়ে এসে তাতে মাথা ছোঁয়ালেন ফরোয়ার্ড লুসিয়ানো গুন্দো। তাতেই ভাঙল ব্রাজিলের রক্ষণ। আর ওই ৭৮তম মিনিটের গোলটাই আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় প্যারিস অলিম্পিকের টিকিট।

অন্যদিকে ম্যাচটি ড্র হলেও আশা বাঁচিয়ে রাখতে পারত ব্রাজিল। ভেনিজুয়েলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের মাহাত্ম্য তাই কোনোভাবেই কম ছিল না। মর্যাদার এই ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পায় আর্জেন্টিনা। আর তাতেই নিশ্চিত হয় প্যারিসের টিকিট। তাদের সঙ্গী হচ্ছে প্যারাগুয়ে।

ব্রাজিল দারুণ শুরু করলেও ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময়েই আধিপত্য দেখিয়েছে আর্জেন্টাইন তরুণরা। ১৫ মিনিটেই গোল পেতে পারত তারা। অধিনায়ক থিয়াগো আলমাদার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলবারে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। এর আগ পর্যন্ত কোনো সুযোগই করা হয়নি ব্রাজিলের। ১৮ মিনিটে তারা প্রথম শট নেয় গোলমুখে। যদিও সেটি টার্গেটে ছিল না।

ব্রাজিল ম্যাচের সেরা সুযোগ পেয়েছে ৬০ ও ৬২ মিনিটে। প্রথম গ্যাব্রিয়েল পেককে হতাশ করেছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ব্রেই। দুর্দান্ত সেভে সুরক্ষিত রাখেন আর্জেন্টিনার অলিম্পিক খেলার স্বপ্ন। মিনিট দুয়েক পরেই জন কেনেডিকেও হতাশ করেন তিনি।

পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর আর্জেন্টিনা বল দখলে রাখে ৬১ শতাংশ এবং শট নেয় ১৪টি। ধারাবাহিকতার সুবাদেই ৭৮ মিনিটে পেয়ে যায় মহামূল্যবান সেই গোল। তাতেই বাদ পড়েছে অলিম্পিকের বর্তমান স্বর্ণপদক পাওয়া দলটি। ২০১৬ ও ২০২০ অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতেছিল ব্রাজিল।

Please follow and like us:

শুনানি না করতে চাইলে মামলা প্রত্যাহার করে নিন

বিএনপির ৭ আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলায় এবার সময় চেয়েছে বাদীপক্ষ। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী সাকিলা রওশন এই সময় চেয়েছেন। এ নিয়ে শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি মামলা না করতে চান তাহলে প্রত্যাহার করে নেন।

তখন ওই আইনজীবী বলেন, আমাদের সিনিয়রের ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে আজকে শুনানি করতে চাই না। এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, আজকে না হলে আগামী সপ্তাহে লিস্টে আসবে।

আদালত অবমাননার মামলায় সোমবার আদালতে হাজিরা দেন বিএনপিপন্থি ৭ আইনজীবী। পরে সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ ১৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন ৭ আইনজীবীকে হাজিরা দিতে হবে।

হাজিরা দেওয়া ৭ আইনজীবী হলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্শন নিয়ে বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর এই দর্শন কীভাবে বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিফলিত হয়েছে, সেই বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, এ সংবিধান হলো আমাদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দলিল। বঙ্গবন্ধুর যে রাষ্ট্র-দর্শন, রাজনৈতিক দর্শন, সামাজিক দর্শন- সব দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে এই সংবিধানে।

তিনি বলেন, ইদানিং সুষ্ঠু নির্বাচন, বিদেশি প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত- এসব নিয়ে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, গণতন্ত্র চাই। বঙ্গবন্ধুর শোষিতের গণতন্ত্র কী? শুধু ভোট দেওয়াই একমাত্র গণতন্ত্র নয়। ভোট দিয়ে রাজা ও মন্ত্রীর পরিবর্তনই গণতন্ত্র নয়। যে গণতন্ত্র মানুষের ভাতের নিশ্চয়তা, বেকারের চাকরির সংস্থান ও দেশের মানুষের সার্বিক মুক্তি ঘটাতে না পারে- বঙ্গবন্ধু সে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আরও বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত হবে না, যে ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উন্মেষ ঘটে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এমন হবে না, শুধু ভোট দিয়েই এখানে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। সংবিধান রক্ষার যে শপথ নিয়েছি, সে অবস্থায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের আবহ ও প্রেক্ষাপট, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সবকিছু মাথায় নিয়ে বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, সারা বিশ্বে নির্বাচন হয় কেউ তাকিয়েও দেখে না, নির্বাচন ঘিরে সব নজর বাংলাদেশের দিকে কেন?

এমন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আইনজীবীরা দুই বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে কয়েকদিন ধরে টানা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এমতাবস্থায় আওয়ামীপন্থি আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা বিএনপির আইন সম্পাদক কায়সার কামালসহ ৭ আইনজীবী নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দাখিল করেন আপিল বিভাগে। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে বিএনপির ৭ আইনজীবীকে তলব করে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে মিছিল-সমাবেশ না করার রায় কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে বিচারপতি এম এ মতিন ও বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমানের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা মিছিল করা যাবে না। বহন করা যাবে না কোনো প্ল্যাকার্ড। এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে তা হবে বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের শামিল। এমনকি তা আদালত অবমাননাও বটে।

এছাড়াও কর্মসূচি দিয়ে কোনো আইনজীবীকে মামলা পরিচালনা করতে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও ওই রায়ে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই রায় গত ১৮ বছরেও মেনে চলেনি আইনজীবীদের বিবাদমান সংগঠনগুলো। এখন আপিল বিভাগ কঠোরভাবে তা অনুসরণ করতে বলেছেন।

Please follow and like us:

ভালোবাসা দিবস রাঙাতে আসছে ‘এক রাতের ভ্যালেন্টাইন’

প্রেমহীন নিঃসঙ্গ জীবনের কাতরতা নিয়ে দুটি মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও বেদনার বিমূর্ততায় এ বছরের ভালোবাসা দিবসে এক ভিন্নধারার প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘এক রাতের ভ্যালেন্টাইন’। নাটকটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা শামীম আহসান।
ভালোবাসা দিবসে প্রেম-ভালবাসা আর গোলাপ ফুলের শুভেচ্ছা নির্ভর গড়পড়তা গল্পের ভিড়ে ‘এক রাতের ‌ভ্যালেন্টাইন’ ভিন্নধর্মী এক প্রেমের গল্প। যে গল্পে দ্রোহ, বঞ্চনা, পরিতাপ, হতাশা ও অবজ্ঞাকে পেছনে ফেলে সুন্দর সময়কে আঁকড়ে ধরার ঐকান্তিকতা নিয়েও মানুষ বেঁচে থাকে।

গল্পটি লিখেছেন নতুন চিত্রনাট্যকার সায়েম খান। এটি তার রচিত রিলিজ হওয়া তৃতীয় নাটক। এর আগে তিনি ভালোবাসার দহন ও ১০০% অর্গানিক বিয়ে নামে আরও দুটি নাটকের কাহিনি ও চিত্রনাট্যের কাজ করেছেন।

পায়রা এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত ভালোবাসা দিবসের এই বিশেষ নাটক প্রসঙ্গে নির্মাতা শামীম আহসান বলেন, ‘এই গল্পটি আসলে আমাদের প্রতিটি মানুষের লুকিয়ে থাকা অজানা গল্প। অনেকের জীবনেই এরকম একটি গল্প চিরকাল অপ্রকাশিত সত্য হয়েই বেঁচে থাকে। এই নাটকের প্রাণ হলো প্রতিটি সংলাপে আবেগঘন শব্দের গাঁথুনি যা দর্শক হৃদয়ে নাড়া দেবে। এই নাটকে দর্শক খুঁজে পাবেন জীবনের প্রেম ও পাপের মিশেলে সুক্ষাতিসুক্ষ্ম কিছু বিষয়; যা মানবজীবনকে আমৃত্যু আন্দোলিত করে।’

এই নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা আশরাফ সুপ্ত ও মানসী প্রকৃতি। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন হালের ব্যস্ত অভিনেত্রী মাগফেরাত মেহেরবান মুন।

আশরাফ সুপ্ত তার অভিনীত এই নাটকটি নিয়ে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘এবারের ভ্যালেন্টাইন বা ভালোবাসা দিবসে এই নাটকটি হবে অনেকগুলো ভালো নাটকের মধ্যে একটি। নাটকটির গল্পে আমি রোহান নামে একটি চরিত্রে অভিনয় করি; যার নাটকের শুরুতে এন্ট্রি হয় একজন চোর হিসেবে। ব্যস, এটুকুই বলব। বাকিটা দর্শকদের নাটক রিলিজ হওয়ার পর দেখে জানতে হবে।’

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও নাট্য অভিনেত্রী ও মডেল মানসী প্রকৃতি বলেন, ‘এক রাতের ভ্যালেন্টাইন’ নাটকটি হবে দর্শকদের ভালো লাগার বা মনে রাখার মতো একটি নাটক। যে নাটকে আপনি পাবেন একটি নারীর চাওয়া-পাওয়ার হিসাব-নিকাশ। অবিনাশী প্রেমের এক সুক্ষ্ম সম্মিলন। এই নাটকটি নিয়ে আমি খুব আশাবাদী।’

অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নাটকটির গল্প যখন আমি পড়ি তখন মনে হয়েছে আরে এ তো আমার জীবনের গল্প। আমি যে চরিত্রে কাজ করেছি সেটি তো আসলে আমারই প্রতিরূপ। সায়েম খানের লেখা সুস্থ ধারার একটি গল্প নিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন নির্মাতা শামীম আহসান। এরকম একটি অফট্র্যাকের গল্পে আমি অনেকদিন পর কাজ করলাম। এজন্য আমি ধন্যবাদ জানাই শামীম ও সায়েম খানকে।

এ নাটকে পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী মাগফেরাত মুন। তিনি বলেন, ‘এক রাতের ভ্যালেন্টাইন’ নাটকে আমি আসলে একটি স্বার্থপর প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করি। যে প্রচণ্ড রকমের ক্যারিয়ারিস্ট ও আবেগশুন্যতায় ভরা একটি চরিত্র যে তার প্রেমিককে ছেড়ে যেতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করে না। আমি আশা রাখি নির্মাতা শামীম আহসান নাটকটিতে তার  স্বকীয়তা ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নাটকটি শিগগিরই উন্মুক্ত হবে পায়রা এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে।

Please follow and like us:

নির্বাচনের ২ দিন পর ১৪ মামলায় ইমরান খানের জামিন

পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন পর ১৪ মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। তার দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে এগিয়ে থাকার সময়ে এমন রায় দিল দেশটির আদালত।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এমনকি নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তার দল পিটিআই নিজস্ব ‘ব্যাট’ প্রতীকেও নির্বাচন করতে পারেনি। এরপর পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে বিভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে।

শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৫০ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে ইমরানের দল পিটিআই–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হয়েছেন। আসনসংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএলএন। তৃতীয় স্থানে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি।

পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ঘোষিত ২৫০ আসনের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি ৯৯ আসনে জয় পেয়েছেন পিটিআই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর বাইরেও আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ভোট শেষ হওয়ার ৪০ ঘণ্টা পরও নির্বাচনের পূর্ণ ফলাফল এখনও ঘোষণা হয়নি। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি ছিল।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের পূর্ণ ঘোষণার আগেই শনিবার স্বস্তির খবর পেলেন ইমরান খান। এদিন ১৪টি মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। ইসলামাবাদের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আদালতের বিচারক মালিক ইজাজ আসিফ এক শুনানি শেষে এই রায় দেন। ইমরান খানের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মেহমুদ কুরেশিকেও ১৩ মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, যেসব মামলায় ইমরান ও কুরেশি জামিন পেয়েছেন- সবগুলোই গত ৯ মে দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইসলামাবাদ হাই কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়ে গত ৯ মে আদালত চত্বরে গ্রেফতার হন ইমরান খান। এরপর তার সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দাঙ্গার সৃষ্টি হয়।

Please follow and like us:

পাঠক প্রিয়