[english_date]

নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের গভীর শোক প্রকাশ

উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’র সম্পাদক নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, নূরজাহান বেগম ছিলেন নারী সাংবাদিকতার একজন পথিকৃৎ ও সাহিত্যিক। বাঙালি নারী জাগরণের লক্ষ্যে উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণাই শুধু নয়, তিনি পৃষ্ঠপোষকতা ও  সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। নারী প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে সৃজনশীল নারী ব্যক্তিত্বের সাহিত্য বিকাশে তাঁর অবদান অসাধারণ। তাঁর পিতার হাত ধরে এদেশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলিম নারী সমাজের প্রগতিশীলতার পথে তিনি আলোকবর্তিকা ছড়িয়েছেন। তাঁর অবদানের জন্য জাতি তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। উপাচার্য নূরজাহান বেগমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এদিকে বেগম সম্পাদক নূরজাহান বেগমকে সর্বস্তরের জনতার শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে বিকেলে।

আজ সোমবার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত স্বজন-শুভানুধ্যায়ী-সহকর্মীরা শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।

এরপরে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে গুলশান মসজিদে। সেখানে বাদ মাগরিব সম্পন্ন হবে তার দ্বিতীয় জানাজা। এ জানাজার পর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে নূরজাহান বেগমকে।

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

 বার্ধ্যক্যজনিত অসুস্থতা নিয়ে গত কিছুদিন ধরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ছিলেন নূরজাহান বেগম।

চাঁদপুরের চালিতা তলীতে ১৯২৫ সালের ৪ জুন  নূরজাহান বেগম জন্মগ্রহণ করেন। নূরজাহান বেগমের মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। তিনি পিতামাতার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তার পরিবার ১৯২৯ সালে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় চলে আসে। ‘সওগাত’ পত্রিকার দপ্তর ১১ নম্বর ওয়েলসলি স্ট্রিটের দোতলা বাড়িতেই তারা থাকতেন। এই অফিসেই নিয়মিত সাহিত্য মজলিস বসত। যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম, খান মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, হবীবুল্লাহ বাহার, ইব্রাহীম খাঁ, কাজী মোতাহার হোসেনসহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব অংশ নিতেন। এই সাহিত্য মজলিসের নিয়মিত শ্রোতা হয়ে ওঠেন নূরজাহান বেগম নূরী। তারা তাকে নূরী বলেই ডাকতেন। এই ব্যক্তিবর্গ নূরীর মানস গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে পরিণত নূরজাহান বেগম বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করেন।

১৯৯৬ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠ চক্রের সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার থেকে রোকেয়া পদক পান। পেয়েছেন অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারও। তাকে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, লেখিকা সংঘ, ঢাকা লেডিজ ক্লাব, ঋষিজ শিল্প গোষ্ঠী, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র প্রভৃতি সংগঠন সংবর্ধনা প্রদান করে। ২০১০ সালে পত্রিকা শিল্পে তার অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮ সম্মাননা পান তিনি।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ