[english_date]

তুরস্কে একক সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এরদোগান

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থ বারের মতো তুরস্কের ক্ষমতায় আসছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টি। রোববার অনুষ্ঠিত ২৬ তম জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ৩১৬ আসনে জয়লাভ করেছে রাষ্ট্রপতি এরদোগানের দলটি। বিগত নির্বাচনের চেয়ে সমর্থন কমলেও ৫৫০ আসনের সংসদে বিরোধী দল হিসাবে অবস্থান নিশ্চিত করেছে বাকি তিনটি বৃহত্তর দল।

রোববার দিনব্যাপী দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে রাতের শুরুতেই একে পার্টির জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে। তালিকাবদ্ধ ৫ কোটি ৫ লাখের বেশি নাগরিকের  ৮৬ শতাংশই ভোট দিয়েছেন এ নির্বাচনে। মোট ভোটারের অর্ধেক নারী ভোটার থাকা তুরস্কে ৮১টি জেলার ৮৫টি নির্বাচনী এলাকায় একযোগে দেড় লাখের বেশি কেন্দ্রে ভোট নিয়েছে সর্বোচ্চ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। দেশের বাইরে ১১৩টি দূতাবাস ছাড়াও কারাগার, বিমানবন্দর ও একাধিক স্থলবন্দরে স্থাপিত ছিল বিশেষ ভোট কেন্দ্র।

জুন মাসের নির্বাচনী ফলাফলে একে পার্টির পাওয়া ৪১ শতাংশ ভোটেও একক কিংবা কোয়ালিশন সরকার গঠনে ব্যর্থ তুরস্কে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের ঘোষণা আসে সেপ্টেম্বর মাসেই। এরপর নিজ নিজ সমর্থন বাড়াতে নতুন উদ্যমে প্রচারণা চালিয়েছে চারটি বৃহত্তর দল।
নতুন নির্বাচনে আতাতুর্কের বাম ও সেকুলার মতাদর্শের দল সিএইচপি আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও আশাতীত ফল বিপর্যয়ে পড়েছে গত নির্বাচনের তৃতীয় স্থানে থাকা কঠোর তুরকিশ জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি। অপরদিকে গত নির্বাচনে প্রথম বারের মতো প্রান্তিক সীমা অতিক্রমে সক্ষম হয়ে চমক দেখানো কুর্দি সমর্থিত ও পিকেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত এইচডিপি’র ভোট কমলেও সংসদে আসন বিন্যাসে তারা উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে।

পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের পর সংসদীয় আসন বণ্টনে ২৫শতাংশ ভোটে ১৩৪ সদস্য নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হতে চলেছে সিএইচপি এবং ১০শতাংশ ভোটে ৫৯ আসনের মালিক হয়েছে এইচডিপি। বিপুল সমর্থন হারিয়ে ১২শতাংশ ভোট পেয়েও প্রান্তিকতার হিসাবে বাকি ৪১টি আসন জুটেছে এমএইচপি’র ভাগ্যে।

দিন শেষে একক গরিষ্ঠতায় ভোটজয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত দল একে পার্টিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রেজেপ তায়েপ এরদোগান।

এছাড়াও ফল পেয়ে মাঝরাতেই প্রথা অনুযায়ী বারান্দা বক্তব্য রেখেছেন একে পার্টির বর্তমান প্রধান প্রফেসর আহমেদ দাউদওউলু। টানা দ্বিতীয় বারের মতো সরকার প্রধান হতে চলা প্রধানমন্ত্রী দাউদওউলু এসময় একে পার্টির উপর টানা পঞ্চম বারের মতো আস্থা রাখায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। নির্বাচনের এ জয় কোন ব্যক্তি বা দলের নয় উল্লেখ করে ‘পরাজিত কেউ নন বরং জয়ী হয়েছে তুরস্ক’ বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় গত নির্বাচনে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিগত নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য অর্জনে সক্ষম হলে গণপ্রজাতন্ত্রী তুরস্কে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা প্রণয়নের যে সম্ভাবনা ছিলো, নতুন এই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আবারো সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। ৩১৬ আসনে জয়লাভ করা একে পার্টি’র সংবিধান সংশোধন বিল পেশ করতে এখন প্রয়োজন হবে মাত্র ১৪টি আসনের সমর্থন। পূর্ণ ৩৬৭ আসনের সমর্থন আদায় করতে পারলেই নতুন সংশোধন পাশ করিয়ে নিতে পারবে তারা।

নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে ২০০২ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্টিত হওয়া এরদোগানের জাস্টিস এন্ড ডেভেলপ (একে) পার্টি তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় দেশ শাসনের রেকর্ড ছুতে চলেছে এবার। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা ৫টি জাতীয় নির্বাচনে প্রথম স্থানসহ জয়লাভ করে ৪বারই একক সরকার গঠনের সক্ষমতা দেখিয়েছে একে পার্টি। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচনের পরপর তিনটি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট ছিলো দলটি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ