১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিউজ ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দলের স্কোয়াড ঘোষণা

আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই ২০ দলের সমন্বয়ে মাঠে গড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। ব্যাট-বলের ধুন্ধুমার এই লড়াইয়ের জন্য গত ২৯ এপ্রিল সবার আগে স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল নিউজিল্যান্ড; আর সবশেষ ২৪ রাতে দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। চলুন দেখে নেওয়া যাক, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলগুলোর স্কোয়াড।

‘এ’ গ্রুপ : ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আয়ারল্যান্ড

ভারতের স্কোয়াড : রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, যশস্বী জয়সওয়াল, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, ঋষভ পান্থ, সাঞ্জু স্যামসন, শিবম দুবে, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, অর্শদীপ সিং, জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ।

রিজার্ভ : শুভমান গিল, রিংকু সিং, খলিল আহমেদ ও আবেশ খান।

পাকিস্তান স্কোয়াড : বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ আমির, শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, শাদাব খান, ইমাদ ওয়াসিম, ইফতেখার আহমেদ, ফখর জামান, আব্বাস আফ্রিদি, আজম খান, সাইম আইয়ুব, আবরার আহমেদ, উসমান খান ও হারিস রউফ।

যুক্তরাষ্ট্র স্কোয়াড : মোনাঙ্ক প্যাটেল (অধিনায়ক), অ্যারন জোন্স, আন্দ্রিস গুস, কোরি অ্যান্ডারসন, আলী খান, হারমিত সিং, জেসি সিং, মিলিন্দ কুমার, নিসর্গ প্যাটেল, নিতিশ কুমার, নোশতুশ কেনিজিগে, সৌরভ নেত্রবালকার, শ্যাডলি ফন শালকভিক, স্টিভেন টেলর ও শায়ান জাহাঙ্গীর।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : গাজানন্দ সিং, ইয়াসির মোহাম্মদ ও জুয়ানয় ড্রাইসডেল।

কানাডা স্কোয়াড : সাদ বিন জাফর (অধিনায়ক), অ্যারন জনসন, ডিলন হেইলিগার, দিলপ্রীত বাজওয়া, হর্ষ ঠাকুর, জেরেমি গর্ডন, জুনাইদ সিদ্দিকি, কালিম সানা, কানওয়ারপাল তাঠগুর, নবনীত ঢালিওয়াল, নিকোলাস কার্টন, পরগাত সিং, রবীন্দ্রপাল সিং, রাইয়ানখান পাঠান ও শ্রেয়াস মোভা।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : তাজিন্দার সিং, আদিত্য বরদরাজন, আম্মার খালিদ, যতীন্দর মাথারু, প্রবীণ কুমার।

আয়ারল্যান্ড স্কোয়াড : পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), মার্ক অ্যাডাইর, রস অ্যাডাইর, অ্যান্ড্রু বলবার্নি, কার্টিস ক্যাম্ফার, গ্যারেথ ডেলানি, জর্জ ডকরেল, গ্রাহাম হিউম, জশ লিটল, ব্যারি ম্যাকার্থি, নিল রক, হ্যারি টেক্টর, লোরকান টাকার, বেন হোয়াইট ও ক্রেগ ইয়াং।

‘বি’ গ্রুপ : ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, নামিবিয়া, ওমান

ইংল্যান্ড স্কোয়াড : জস বাটলার (অধিনায়ক), মঈন আলী, জফরা আর্চার, জনি বেয়ারস্টো, হ্যারি ব্রুক, স্যাম কারেন, বেন ডাকেট, টম হার্টলি, উইল জ্যাকস, ক্রিস জর্ডান, লিয়াম লিভিংস্টোন, আদিল রশিদ, ফিল সল্ট, রিস টপলি, মার্ক উড।

অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড : মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), অ্যাশটন অ্যাগার, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টয়নিস, ম্যাথু ওয়েড, ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যাডাম জাম্পা।

স্কটল্যান্ড স্কোয়াড : রিচি বেরিংটন (অধিনায়ক), ম্যাথু ক্রস, ব্র্যাড কুরি, ক্রিস গ্রিভস, ওলি হ্যারিস, জ্যাক জারভিস, মাইকেল জোন্স, মাইকেল লিস্ক, ব্রান্ডন ম্যাকমুলেন, জর্জ মানসি, সাফিয়ান শরীফ, ক্রিস সোল, চার্লি টিয়ার, মার্ক ওয়াট ও ব্র্যাড হুইল।

নামিবিয়া স্কোয়াড : গেরহার্ড এরাসমাস (অধিনায়ক), জেইন গ্রিন, মাইকেল ফন লিনগেন, ডিলান লাইশার, রুবেন ট্রাম্পেলমান, জ্যাক ব্রাসেল, বেন শিকোঙ্গো, তেনজেনি লুঙ্গামেনি, নিকো ডাভিন, জেজে স্মিট, ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক, জেপি কোটজে, ডেভিড ভিসা, বার্নার্ড শোলৎজ, ম্যালান ক্রুগার, পিটার ড্যানিয়েল ব্লিগনট।

ওমান স্কোয়াড : আকিব ইলিয়াস (অধিনায়ক), জিশান মাকসুদ, কাশ্যপ প্রজাপতি, প্রতীক আঠাবলে, আইয়ান খান, শোয়েব খান, মোহাম্মদ নাদিম, নাসিম খুশি, মেহরান খান, বিলাল খান, রফিউল্লাহ, কলিমউল্লাহ, ফাইয়াজ বাট, শাকিল আহমেদ ও খালিদ কাইল।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : যতীন্দর সিং, সময় শ্রীবাস্তব, সুফিয়ান মেহমুদ ও জয় ওদেদরা।

‘সি’ গ্রুপ : ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, উগান্ডা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড : রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), আলজারি জোসেফ, জনসন চার্লস, রোস্টন চেজ, শিমরন হেটমায়ার, জেসন হোল্ডার, শাই হোপ, আকিল হোসেন, শামার জোসেফ, ব্র্যান্ডন কিং, গুড়াকেশ মোতি, নিকোলাস পুরান, আন্দ্রে রাসেল, শেরফান রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ড।

নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড : কেইন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, ট্রেন্ট বোল্ট, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি, টিম সাউদি।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : বেন সিয়ার্স।

আফগানিস্তান স্কোয়াড : রশিদ খান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, নজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ ইসহাক, মোহাম্মদ নবী, গুলবদিন নাইব, করিম জানাত, নানগায়াল খারোতি, মুজিব উর রেহমান, নুর আহমেদ, নাভিন-উল-হক, ফজলহক ফারুকি ও ফরিদ মালিক।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : হজরতউল্লাহ জাজাই, সেদিকউল্লাহ অটল ও সালিম সাফি।

পাপুয়া নিউগিনি স্কোয়াড : আসাদ ভালা (অধিনায়ক), আলেই নাও, চ্যাড সোপার, চার্লস আমিনি, হিলা ভারে, হিরি হিরি, জ্যাক গার্ডনার, জন কারিকো, কাবুয়া মোরেয়া, কিপলিং দোরিগা, লেগা সিয়াকা, নরমান ভানুয়া, সেমা কামেয়া, সেসে বাউ ও টনি উরা।

উগান্ডা স্কোয়াড : ব্রায়ান মাসাবা (অধিনায়ক), সাইমন সেসাজি, রজার মুকাসা, কসমাস কিয়েউতা, দিনেশ নাকরানি, ফ্রেড আচেলাম, কেনেথ ওয়াসোয়া, আলপেশ রামজানি, ফ্র্যাঙ্ক এনসুবুগা, হেনরি সেনিওন্দো, বিলাল হাসুন, রবিনসন ওবুয়া, রিয়াজাত আলী শাহ, জুমা মিয়াজি ও রোনাক প্যাটেল।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : ইনোসেন্ট এমওয়েবাজে ও রোনাল্ড লুটাইয়া।

‘ডি’ গ্রুপ : বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, নেপাল

বাংলাদেশ স্কোয়াড : নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ (সহ-অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, তানজিম হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান, তানভীর ইসলাম, জাকের আলী, রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম ও তাওহিদ হৃদয়।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : হাসান মাহমুদ ও আফিফ হোসেন।

শ্রীলঙ্কা স্কোয়াড : ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (অধিনায়ক), চারিত আসালাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, পাতুম নিশাঙ্কা, কামিন্দু মেন্ডিস, সাদিরা সামারাবিক্রমা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, দাসুন শানাকা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, মহীশ তিকশানা, দুনিত ভেল্লালাগে, দুষ্মন্ত চামিরা, নুয়ান তুষারা, মাতিশা পাতিরানা ও দিলশান মাদুশঙ্কা।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : আসিতা ফার্নান্ডো, বিজয়কান্ত ব্যাসকান্ত, ভানুকা রাজাপক্ষে ও জানিত লিয়ানাগে।

দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড : এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ওটনিল বার্টম্যান, জেরাল্ড কোয়েটজি, কুইন্টন ডি কক, বিওর্ন ফরটুইন, রিজা হেনড্রিকস, মার্কো ইয়ানসেন, হাইনরিখ ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, ডেভিড মিলার, আনরিখ নর্কিয়া, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, তাব্রেইজ শামসি, ট্রিস্টান স্টাবস।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : নান্দ্রে বার্গার ও লুঙ্গি এনগিডি।

নেদারল্যান্ডস স্কোয়াড : স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), আরিয়ান দত্ত, বাস ডি লিডি, ড্যানিয়েল ডোরাম, ফ্রেড ক্লাসেন, লোগান ফন বিক, ম্যাক্স ও’ডাউড, মাইকেল লেভিট, পল ফন মিকেরেন, সিব্রান্ড এঙ্গেলব্রেখট, তেয়া নিদামানুরু, টিম প্রিঙ্গল, বিক্রম সিং, ভিভ কিংমা, ওয়েসলি বারেসি।

রিজার্ভ খেলোয়াড় : কাইল ক্লাইন।

নেপাল স্কোয়াড : রোহিত পৌডেল (অধিনায়ক), আসিফ শেখ, অনিল কুমার শাহ, কুশল ভুরতেল, কুশল মাল্লা, দীপেন্দ্র সিং ঐরী, ললিত রাজবংশী, করণ কেসি, গুলশান ঝা, সম্পাল কামি, প্রতিস জিসি, সন্দীপ জোরা, অবিনাশ বোহারা, সাগর ঢকাল ও কমল সিং ঐরী।

Please follow and like us:
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে ওবায়দুল কাদের

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিম বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে উপস্থিত আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাঁপা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও বৈঠকে উপস্থিত আছেন।
এর আগে, গত ৪ জুলাই এ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। এর কারণ হিসেবে তখন ওবায়দুল কাদেরের রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানা যায়।

উল্লেখ্য, প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শিক্ষকেরা মূলত ‘প্রত্যয়’ স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে (জ্যেষ্ঠ সচিবরা যে ধাপে বেতন পান) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো প্রবর্তন- এই তিন দাবিতে আন্দোলন করছেন।

Please follow and like us:

নাইজেরিয়ায় ধসে পড়ল স্কুলভবন, ২২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নাইজেরিয়ার মধ্য প্লাটিউ রাজ্যের একটি স্কুল ভবন ধসে ২২ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ১৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। স্থানীয় সময় শুক্রবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার সকালে পাঠদান চলার সময় রাজ্যটির রাজধানী জসে সেইন্ট অ্যাকাডেমি নামের ওই স্কুলের ভবন ধসে পড়লে চাপা পড়ে শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উদ্ধারকর্মীরা। এক্সক্যাভেটর ও হাতুড়ি দিয়ে ধসে পড়া বড় বড় কংক্রিটের স্তুপ গুঁড়িয়ে দিয়ে চাপাপড়াদের উদ্ধারে হাত লাগান তাঁরা।

স্থানীয় পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অনেককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, স্কুলটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি।

দুর্ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে অ্যাবেল ফুয়ানদাই নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, স্কুলভবন ধসে তার বন্ধুর ছেলেও মারা গেছে।

স্কুলভবনটি ধসে পড়ার কারণ জানা না গেলেও স্থানীয়রা বলছেন, প্লাটিউ রাজ্যে টানা তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টির পরই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

উইলিয়া ইব্রাহ্রিম নামের আহত এক শিক্ষার্থী বলে, ‘ ক্লাসে আমরা অনেকেই ছিলাম, আমরা পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ায় ভবন ধসের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা এজন্য নির্মাণকাজ ও নির্মাণসামগ্রীর নিম্নমান এবং দুর্নীতিকে দায়ী করেন। ২০২১ সালে লাগোসের অভিজাত এলাকার একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।

Please follow and like us:

কলকাতায় গুটিয়ে গেল ‘তুফান’

বিশ্বজুড়ে চলছে ‘তুফান’র নানা তাণ্ডব। তবে ভারতে সুবিধা করতে পারল না শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্রটি। মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতার সব হল থেকে নেমে গেছে সিনেমাটি।
শহর কলকাতার কাছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি হলে কেবল চলছে সিনেমাটি।

জানা যায়, প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ ভারতের ৪৫টিরও বেশি সিনেমা হলে মুক্তি দেয় চলচ্চিত্রটি। এর প্রায়ই সবই ছিল কলকাতার হল। এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি সিনেমা হলে চলতি সপ্তাহে দেখা যাবে ছবিটি।

পশ্চিমবঙ্গের বিশ্লেষকদের মতে, উৎসব ছাড়া সেখানকার সুপারস্টারই বেশ ধাক্কা খান কলকাতায়। কারণ সেখানে দক্ষিণী ও হিন্দি ছবির দাপট। তাই বাংলাদেশে শাকিব খানের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হলেও কলকাতায় এটি খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ছবিটি সব মিলিয়ে আয় ১০ লাখের গন্ডিও পেরোতে পারেনি। এদিকে শুরু থেকেই তুফান নিয়ে আশার পারদ ক্রমশ বাড়িয়েছিলেন ছবির পরিচালক ও প্রযোজকরা। বাংলাদেশে এখন বেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিনেমা।

প্রসঙ্গত, একজন গ্যাংস্টারের গল্পে নির্মিত হয়েছে তুফান। ফিকশনধর্মী এ সিনেমার পটভূমি নব্বই দশকের। দ্বৈত চরিত্রে রয়েছেন শাকিব খান। তাঁর বিপরীতে জুটি বেঁধেছেন টলিউডের মিমি চক্রবর্তী ও ঢালিউডের মাসুমা রহমান নাবিলা। আরও রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রজত গাঙ্গুলিসহ গাজী রাকায়েত, ফজলুর রহমান বাবু, মিশা সওদাগর প্রমুখ। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে আলফা-আই স্টুডিওস লিমিটেড, চরকি ও ভারতের এসভিএফ।

Please follow and like us:

১৬ প্রজাতির পোকামাকড় খাওয়ার অনুমোদন দিল সিঙ্গাপুর

অনুমোদন পাওয়া পোকামাকড়ের মধ্যে রয়েছে ঝিঁঝিপোকা, ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল, রেশম পোকা, গ্রাউন্ড মেলওয়ার্ম, নানা ধরনের মথ ও লার্ভা, এক প্রজাতির মৌমাছিসহ ১৬ প্রজাতির পোকামাকড়।

থাইল্যান্ডে বিক্রি হওয়া রেশম পোকার পিউপা দেখা যাচ্ছে যেটি সিংগাপুরেও খাওয়া ও বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে ১৬ প্রজাতির পোকামাকড় মানুষের খাওয়ার জন্য নিরাপদ বলে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি (এসএফএ) খাওয়ার জন্য ঝিঁঝিঁ পোকা, মথ লার্ভা এবং এক প্রজাতির মৌমাছির মতো পোকামাকড় খাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

এসএফএ থেকে জানানো হয়েছে, ইনসেক্ট ইন্ডাস্ট্রি (পোকামাকড় শিল্প) ‘ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং পোকামাকড় নতুন খাদ্য আইটেম হিসেবে’ বিবেচিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হয়েছে যেটি কোন কোন পোকামাকড়কে খাদ্য হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবে।

এসএফএর অনুমোদন পাওয়া পোকামাকড়ের মধ্যে রয়েছে ঝিঁঝিপোকা, ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল, রেশম পোকা, গ্রাউন্ড মেলওয়ার্ম, নানা ধরনের মথ ও লার্ভা, এক প্রজাতির মৌমাছিসহ ১৬ প্রজাতির পোকামাকড়।

দীর্ঘ গবেষণার পর এসব পোকামাকড় মানুষের খাদ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এসএফএ। এসব পোকামাকড় মানবদেহের জন্য নিরাপদ হওয়ায়, প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এ সিদ্ধান্ত বেশ কাজ আসতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদন পাওয়া পোকামাকড় খাওয়ার জন্য উৎপাদন এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা যাবে। তবে বন-জঙ্গল থেকে কোনোভাবেই ধরে আনা যাবে না।

উৎপাদন করা পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পোকা আমদানির ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই সিঙ্গাপুরের মানদণ্ড মানতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার কীট ও খাদ্য বিজ্ঞানী স্কাই ব্ল্যাকবার্ন পোকামাকড়কে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার সমর্থন করেন। তিনি সিঙ্গাপুরের মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত পোকামাকড় প্রজাতির বিস্তৃত তালিকা দেখে অভিভূত হয়ে বলেন, ‘এসব খাবার-যোগ্য পোকামাকড়ের প্রতি সিঙ্গাপুর যে উদারতা প্রদর্শন করেছে তা সাধারণ প্রত্যাশার থেকেও বেশি ছিল।’

এদিকে এ ঘোষণায় সিঙ্গাপুরের রেস্তোরাঁ মালিক এবং খাদ্য আমদানিকারকরা বেশ খুশি হয়েছেন। হাউজ অব সিফুড নামে দেশটির একটি রেস্তোরাঁ চেইন ইতোমধ্যেই পোকামাকড় দিয়ে বানানো ৩০ ধরনের খাবার রেস্তোরাঁয় চালু করার পরিকল্পনা করে ফেলেছে ।

খাবারের তালিকায় রয়েছে: রেশম পোকা এবং ঝিঁঝিঁ পোকা দিয়ে সজ্জিত সুশি, সুপার-ওয়ার্ম ও লবণ-যুক্ত ডিমে দিয়ে প্রস্তুতকৃত কাঁকড়া এবং ওয়ার্ম দিয়ে তৈরি করা “মিন্টি মিটবল মেইহ্যাম”।

সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ পোকামাকড় ব্যবহার করে তৈরি করা পণ্য আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে: পোকার তেল, পোকামাকড় দিয়ে রান্না না করা পাস্তা, চকলেট এবং অন্যান্য মিষ্টি যার মধ্যে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পোকামাকড় রয়েছে। এছাড়া মৌমাছির লার্ভাসহ বিটল গ্রাব ও সিল্ক-ওয়ার্ম-এর পিউপা আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

যেহেতু জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মানুষ এবং গবাদি পশুর জন্য প্রোটিন সরবরাহ করতে এবং পরিবেশগত সুবিধার জন্য পোকামাকড় ব্যবহারকে উৎসাহিত করে, সিঙ্গাপুর খাদ্য হিসেবে এসব পোকামাকড় ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছে।

জাতিসংঘ থেকে উন্নয়নশীল দেশে মানুষ ও পশুর প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এসব পোকামাকড় উৎপাদন ও সেগুলো খাদ্যসামগ্রীতে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Please follow and like us:

সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি দেবেন কোটা আন্দোলনকারীরা

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে এক দফা আন্দোলনে আজ দেশের সব জেলা এবং ক্যাম্পাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জনসংযোগ করবেন আন্দোলনকারীরা।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।

ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আবারও রাজপথের আন্দোলন কর্মসূচি দেবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা পড়ার টেবিলে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে শাহবাগে এসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা তারা রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি অবরোধ করে রাখেন। এতে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা জানান, শনিবার (১৩ জুলাই) দেশের সব জেলা এবং ক্যাম্পাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জনসংযোগ করা হবে। একই সঙ্গে পূর্বে ঘোষিত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও চলমান থাকবে।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যারা কখনোই চাকরি করবে না, তারা প্রশ্ন তুলছে আমাদের আন্দোলন নিয়ে। যতগুলো প্রতিষ্ঠানে রক্ত ঝরছে তার তীব্র নিন্দা আমরা জানাই। যেখানেই হামলা হবে আমরা দাঁতভাঙা জবাব দেব। আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমাদের একমাত্র চাওয়া একটি মেধা।

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমরা এসেছিলাম দেশের হাল ধরতে। আমাদের এক দফা মেনে নিন। আমাদের পড়ার টেবিলে ফেরত যেতে দিন৷’

আরেক সমন্বয়ক আবু বকর মজুমদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ক্যাম্পাস এবং জেলায় যাদের পুলিশ নির্যাতন করেছে তার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি আজকের শাহবাগ অবরোধ থেকে। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি হলো আগামীকাল দেশের সব জেলা এবং ক্যাম্পাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জনসংযোগ ও ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রেস ব্রিফিং হবে।’

২০১৮ সালের অক্টোবরে কোটাবিরোধী আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে সরকার পরিপত্র জারি করে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করে দেয়। ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুন পরিপত্রটি বাতিল করে দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

এই রায়ের পর ফুঁসে উঠেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। গত ১ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

Please follow and like us:

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ক্যাডার, নন-ক্যাডার পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সৈয়দ আবেদ আলী। তার নেতৃত্বে ছিলেন প্রশ্নফাঁসের একটি বড় চক্র। রাজধানীসহ দেশব্যাপী রয়েছে এই চক্রের বিস্তার। ফাঁস হয়েছে মেডিকেল ও নার্সিংয়ের প্রশ্নপত্রও। আবেদ আলীর সঙ্গে প্রশ্নফাঁসে জড়িত একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে ১০ কোটি টাকার চেকসহ মঙ্গলবার আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সব প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই চক্রের আরও আটজন শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সৈয়দ আবেদ আলী জড়িত ছিলেন নগদ লেনদেন ও চাকরি প্রার্থী সংগ্রহের কাজে। পিএসসির সাবেক মেম্বার মাহফুজুর রহমান ছিলেন গাড়ি চালক আবেদ আলী গুরু। পিএসসির কোনো নিয়োগ পরীক্ষা এলেই এই চক্রের সদস্যরা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন তারা। চক্রের সদস্যরা ওই পরীক্ষার আগের রাতে তাদের চুক্তি করা শিক্ষার্থীদের বাসায় রেখে ওই প্রশ্নপত্র ও তার উত্তর দিয়ে দেন। তদন্তে এখন পর্যন্ত আরও অনেকের নাম সামনে এসেছে। হাইপ্রফাইল কিছু নামও পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

একই সঙ্গে সৈয়দ আবেদ আলীর হাত ধরে যারা বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন, তাদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ২০১০ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে আবেদ আলীর সম্পৃক্ততা পায় একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়, তিনি স্বীকারও করেছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসে কারা জড়িত, অন্যান্য প্রশ্নপত্র কিভাবে ফাঁস করা হয় সেই তথ্যও তিনি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেন। ওই সময় এই ঘটনায় আবেদ আলীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন বিষয়টি পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। তখন আবেদ আলী পিএসসির চেয়ারম্যানের কাছে অঙ্গীকার করেন যে, আর কখনো প্রশ্নফাঁসের কাজটি করবেন না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই সময়ের চেয়ারম্যান পিএসসির আবেদ আলীসহ যে কয়জন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তাদের চাকরিচ্যুত করেন। ২০১১ সালে শেরে বাংলা নগর থানায় আবেদ আলীসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় বিজি প্রেসেরও দুইজন কর্মকর্তা আসামি ছিলেন। ২০১৪ সালে বিচার কার্যক্রম শুরু হলে তখন মাত্র দুই জন সাক্ষীর জবানবন্দির গ্রহণ করা হয়। বর্তমান মামলাটি বিচারাধীন।
অর্থাৎ আবেদ আলীর হাত যে অনেক বড় সেটা সবাই বুঝতে পারছেন, যেখানে মামলাও চলছে ধীর গতিতে। চাকরিচ্যুত হওয়ার পর আবেদ আলী প্রশ্নফাঁসের কাজটি পুরাদমে শুরু করেন। কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। তার সঙ্গে বড় একটি গ্রুপ জড়িত। ওই সময় ভর্তি পরীক্ষার এই প্রশ্নগুলো বিজিপ্রেসের যারা টাইপ করতো, সেখানে ছিল আবেদ আলীর লোক। তারা প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে ফেলতো। তারা সবাই মিলে প্রশ্নফাঁস করতো। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পাঠাতো। সেই কোচিং সেন্টারগুলোও শনাক্ত করে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এদের পেছনে নেপথ্যের শক্তি এতো শক্তিশালী ছিল যে, তাদের কিছুই করা যায়নি। বিজিপ্রেসের পক্ষ থেকে ওই সময় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রশ্নফাঁস বন্ধের উপায় কি? তখন এ থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, যেহেতু বিজি প্রেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এখানে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬১ জন পুলিশ সদস্য রাখা যেতে পারে। তারা নিরাপত্তার কাজটি করবে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রস্তাব আর বাস্তবায়ন হয়নি।

ওই সময় বিজি প্রেসের একজন উপ-পরিচালকও প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতা ছিলেন। তার সঙ্গে সম্পর্ক আবেদ আলীর। আবেদ আলী পারেনি এমন অপকর্ম নেই। তার দেওয়া ফাঁস হওয়া প্রশ্নে যারা বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার হয়েছেন, তাদেরকে অনেকেই ‘আবেদ ক্যাডার’ হিসেবে ডাকছেন। আর এই আবেদ ক্যাডাররা আবেদ আলীকে রক্ষা করতে মরিয়া। তারা আবেদ আলী রক্ষা কমিটির মতো কাজ করছে। এমন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। কারণ আবেদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, কারা কারা প্রশ্নফাঁসে উত্তীর্ণ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, তাদের নাম বলে দেবে। এই আশংকা অনেকে করছেন। সকল বিসিএস ক্যাডারে আবেদ আলীর লোক রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে তাকে সেভ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আবেদ আলীর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে অনেকে বিব্রত বোধ করছেন। তারা বলেন, এমন একজন প্রশ্নফাঁসের হোতার সঙ্গে কিভাবে তাদের ছবি থাকে? আবেদ আলীর গ্রামের বাড়ির বাসিন্দারা বলেন, আবেদ আলী ছিলো দিনমজুর। তারপর ড্রাইভার হলো। এরপর শত শত কোটি টাকার মালিক। এদিকে আবেদ আলীর প্রশ্নফাঁসে যারা প্রশাসনে ঢুকেছে তারা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় লিপ্ত। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও কাজ চলছে। পিএসসির সাবেক মেম্বর মাহফুজুর রহমান পিএসসিকে ধ্বংস করে দিয়ে যান। রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন তিনি। প্রশ্নপত্রের মেইন হোতা মাহফুজুর রহমান। মক্কেল যোগাড় করেছে নিজের গাড়ির চালক আবেদ আলীকে দিয়ে। পুর্বে পিএসসির দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক চেয়ারম্যান  বলেন, আবেদ আলীকে সবাই সমীহ করে চলতো এবং ভয়ও পেত।

পিএসসির মাধ্যমে মেধাসম্পন্ন অফিসার চাকরিতে প্রবেশ করে। মেধাবিরা উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসনে যাবে। কিন্তু ফাঁস হওয়া প্রশ্নে কেউ ডাক্তার হলে, সে কি ধরনের ডাক্তার হবে, তা বলার উপেক্ষা রাখে না। প্রশাসনে গেলে ভালো প্রশাসক হবে না। যে শিক্ষকতায় গেছে, সে ভালো শিক্ষক হবে না। স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মূলে থাকা মাহফুজুরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে দুই অপরাধ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন। তাদের মতে, কত হাজার নিয়োগ পেয়েছে, সেটা যাচাই করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তালিকা করে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে দেওয়া হবে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

Please follow and like us:

ঢাকাই সিনেমার হাল ধরবে কে?

একটা সময় একসঙ্গে একাধিক নায়ক নতুন সিনেমা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হতেন। কাজ দিয়ে চলত একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিষ্টি লড়াই। দর্শকরাও প্রায় প্রতিটি সিনেমা উত্সাহ নিয়ে দেখতেন। নির্মাতা-প্রযোজকরা চোখ বন্ধ করে তাদের নিয়ে বাজি ধরতেন। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই দৃশ্য এখন অনেকটা রূপকথার মতো হয়ে গেছে। ভালো সিনেমার অভাবে প্রতিনিয়ত বন্ধ হচ্ছে সিনেমাহল। হাতেগোনা যে ক’টি হল এখনো জীবিত আছে—সেখানেও দর্শক চোখে পড়ার মতো। যদিও নতুন প্রজন্মের অনেক নায়কই চলচ্চিত্রের হাল ধরার চেষ্টা করছেন। তবে কতটা তারা কতটা সফল বা ধারাবাহিক তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিগত কয়েক বছর ধরে সুপারস্টার শাকিব খান ছাড়া দু-একজন হিরোর সিনেমা সফলতার মুখ দেখতে পেরেছে। সেটাও আবার ঈদ উৎসবে। বাকি সময়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর বেশিরভাগই ব্যর্থ সিনেমার তকমা নিজের করে নিয়েছে। অনেকে এমন অবস্থার জন্য মানসম্পন্ন সিনেমার অভাবকে দায়ী করছেন। আবার অনেক তারকা সিনেমা হল কমে যাওয়া এবং কোনো প্রচারণা ছাড়াই চলচ্চিত্র মুক্তিকে দায়ী করছেন। তবে ব্যর্থতার কারণ যা-ই হোক, এ প্রজন্মের নায়করা যে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না এটা বলার অবকাশ রাখে না।

চলচ্চিত্র যাত্রার পর থেকে নিয়মিতই সিনেপর্দায় দেখা দিতেন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। অর্জনের ঝুলিতেও জমা করেছেন বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। এমনকি ঢালিউড সুলতান খেতাব নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে হঠাৎ করেই সিনেমা থেকে দূরে সরে গেছেন এই নায়ক। গত বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পায় তার ‘শত্রু’ সিনেমাটি। এরপর আর নতুন কোনো সিনেমা মুক্তির খবরে পাওয়া যায়নি তাকে। যদিও মায়ের অসুস্থতার কারণে এই বিরতি ছিল বলে জানান বাপ্পী।

এদিকে ক্যারিয়ারে কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেই আলোচনায় চলে আসেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। নিজের লুক-অভিনয় দিয়ে নজর কাড়েন নির্মাতা-প্রযোজক থেকে শুরু করে ভক্তদের। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্র রূপায়ণ করে প্রশংসিত হন সর্বমহলে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও তার পরিচিতি বেড়ে যায়। তারপর প্রায় দু-বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন সিনেমা নিয়ে পর্দায় আসেননি শুভ। যদিও একাধিক সিনেমা মুক্তির মিছিলে রয়েছে তার।

এছাড়া চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। বর্তমানে তার হাতেও বেশ কয়েকটি সিনেমার কাজ রয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায়ও রয়েছে একাধিক সিনেমা। কিন্তু সিনেমা মুক্তির ধারাবাহিকতা এই নায়কও ধরে রাখতে পেরেছেন তা বলা যাবে না। অনেকটা বিরতির পর চলতি বছর মুক্তি পায় ‘শেষ বাজি’। কিন্তু সিনেমাটি ফ্লপের খাতায় নাম লেখায়। যদিও তড়িঘড়ি করে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন এই অভিনেতা। শুধু বাপ্পী, শুভ, সাইমন নন, দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করছেন চিত্রনায়ক নিরব হোসেন ও ইমন। কিন্তু এখন অবধি উল্লেখযোগ্য কোনো সিনেমা ক্যারিয়ারের ঝুলিতে জমা করতে পারেননি তারা। এমনকি নিয়মিত নতুন সিনেমায় যুক্ত হওয়ার খবরে এলেও মুক্তিতে ধারাবাহিক তা বলা যায় না। তবে বর্তমানে তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং শোরুম উদ্বোধনের সাথে রয়েছেন। অন্যদিকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন একাধিক সিনেমার খবরে থাকতেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান।

তবে পদ হারানোর পর থেকে সেই খবরও পর্দার আড়ালে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডিগবাজি দিয়েই নায়ক তকমা ধরে রাখছেন এই অভিনেতা। অনেকেই অভিযোগ করেন, দেশের চলচ্চিত্র নায়ক সংকটে ভুগছে। কিন্তু ‘নায়ক’ তালিকায় চোখ রাখলে এই সংখ্যাকে নেহায়েত কম মনে হবে না। কিন্তু কাজ নিয়ে নিয়মিত পর্দায় হাজির এবং একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বা ধারাবাহিকতা রক্ষা কতটা করতে পারছেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যদিও এ সকল নায়ক এরইমধ্যে চলচ্চিত্রে এক-দেড় দশক পার করে দিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে তারা ধুঁকে ধুঁকে চলা চলচ্চিত্রের হাল ধরবেন, ভালো ভালো সিনেমা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মুক্তির মিছিলে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা তাদের ভক্তরা করতেই পারেন।

Please follow and like us:

আবারও বাংলা ব্লকেড

সরকারি চাকরির সব পদে কোটা সংস্কারের দাবি করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাঁরা মনে করছেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে দাবি ছিল মূলত ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি) কোটা সংস্কার করা। এবার আন্দোলনকারীরা সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবি করছেন।

শিক্ষার্থীদের অবরোধে গতকাল বুধবার সারা দেশে কার্যত অচল হয়ে পড়ে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ। সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্লকেড চলে। সারা দেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ঢাকা।

দাবি আদায়ে আজ বৃহস্পতিবার আবারও সারা দেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

দেশে সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড আছে। নিয়োগ হয় মূলত ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। ওই বছর ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের সব কোটা বাতিল করা হয়। তবে ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডে কোটা আগেও ছিল, এখনো আছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাভেদে এসব পদের কোটায় কিছু ভিন্নতা আছে।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে দাবি ছিল মূলত ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি) কোটা সংস্কার করা। এবার আন্দোলনকারীরা সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবি করছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন, তা ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডকে নিয়েই। ফলে এসব গ্রেডে কোটা আপাতত থাকছে না, যা হাইকোর্টের এক রায়ে বহাল হয়েছিল।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম গতকাল বুধবার ঢাকার শাহবাগে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের বিষয়টি তাঁদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটাবৈষম্য আরও বেশি।

সারজিস আরও বলেন, তাঁদের দাবি সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রাখা। সেটিকে সামনে রেখে সরকার একটি পরিপত্র জারি করতে পারে। শুধু প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ন্যূনতম কোটাকে তাঁরা সমর্থন করেন। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সুবিধা দিলেও এসব কোটা ৫ শতাংশের বেশি রাখার প্রয়োজন হয় না।

সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের বিষয়টি তাঁদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটাবৈষম্য আরও বেশি।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম
কোটার আদ্যোপান্ত

সরকারি তথ্য বলছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরির ২০ শতাংশ পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতো। বাকি ৮০ শতাংশ পদে নিয়োগ হতো কোটায়। ১৯৭৬ সালে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৪০ শতাংশে বাড়ানো হয়। ১৯৮৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করা হয়। বাকি ৫৫ শতাংশ অগ্রাধিকার কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ যোগ করে মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ। মানে হলো, প্রতি ১০০ পদে নিয়োগে ৫৬ জনকে নেওয়া হতো কোটা থেকে। যদিও তাঁদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করতে হয়। তারপর হতো কোটার বিবেচনা।

৫৬ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ জেলা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা। শুরু থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে কোটা ছিল, তাতে পরে তাঁদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের যুক্ত করা হয়।

কোটার বিপরীতে থাকা অনেক পদ শূন্য থাকত। পরে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে।

বিষয়টি এখন উচ্চ আদালতের বিচারাধীন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে দেখা যায় নিচের পদগুলোতে পোষ্য কোটাসহ আরও কিছু কোটা আছে। তাই কোটার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে ন্যায্যতা ও সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে সংস্কার করা দরকার।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার
কোটার ভিন্নতা

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটায় ভিন্নতা আছে। একটি হলো, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ। সেখানে নিয়োগ হয় আলাদা নিয়োগবিধি অনুযায়ী।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ হয়। সহকারী শিক্ষকের পদ ১৩তম গ্রেডের। আর প্রধান শিক্ষকের পদ ১১তম গ্রেডের। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ৬০ শতাংশ নারী প্রার্থীদের দিয়ে, ২০ শতাংশ পোষ্য (শিক্ষকদের সন্তান, বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী) প্রার্থীদের দিয়ে এবং ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করতে হয়। দেশে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি।
আরও পড়ুন
আপিল বিভাগের আদেশের পরও চলছে ‘বাংলা ব্লকেড’, যান চলাচল বন্ধ
২১ ঘণ্টা আগে
আপিল বিভাগের আদেশের পরও চলছে ‘বাংলা ব্লকেড’, যান চলাচল বন্ধ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বাংলাদেশ রেলওয়েসহ সরকারের কিছু কিছু সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা কিছু কোটা রয়েছে।
কত পদ

সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান-২০২৩ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে এখন মোট অনুমোদিত পদ ১৯ লাখ ১৬ হাজারের মতো। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার পদ শূন্য।

অনুমোদিত পদের মধ্যে ১ম থেকে ৮ম গ্রেডে পদ রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৯৯টি। এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এসব উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ শুরু হয় ৯ম গ্রেড থেকে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীন বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ হয়। সরকারি হিসাবে নবম গ্রেডের অনুমোদিত পদ আছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৭টি।
আরও পড়ুন
আপিল বিভাগের আদেশের পর কী দাঁড়াল: কোটা আছে কি নেই
১৯ ঘণ্টা আগে
আপিল বিভাগের আদেশের পর কী দাঁড়াল: কোটা আছে কি নেই

১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদগুলো একসময় দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত চাকরি ছিল। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে শ্রেণি বাতিল করে সব পদের পরিচয় নির্ধারণ করা হয় গ্রেডভিত্তিক। এসব গ্রেডে পদ রয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজারের মতো।

১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডে বিভিন্ন হারে কোটা বহাল আছে। সেখানে মোট পদ ৮ লাখ ৮২ হাজারের কিছু বেশি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা নির্বাহী বিভাগের কাছে সব চাকরির কোটার সংস্কার চাইছেন। তাই তাঁদের আন্দোলন চলবে।

ন্যায্যতার আলোকে ‘সংস্কার দরকার’

২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের যে আন্দোলন হয়েছিল, তা করেছিলেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা সাধারণত সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগ পেতে চেষ্টা করেন। ফলে তাঁদের দাবিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের চাকরিতে কোটা সংস্কারের বিষয়টি এসেছিল। সরকার তখন ওই সব পদে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে।

এই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। হাইকোর্ট ওই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। গতকাল আপিল বিভাগ বিষয়টিতে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। আদালতে এসেছে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের চাকরির কোটার বিষয়টি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা নির্বাহী বিভাগের কাছে সব চাকরির কোটার সংস্কার চাইছেন। তাই তাঁদের আন্দোলন চলবে।

এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি এখন উচ্চ আদালতের বিচারাধীন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে দেখা যায় নিচের পদগুলোতে পোষ্য কোটাসহ আরও কিছু কোটা আছে। তাই কোটার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে ন্যায্যতা ও সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে সংস্কার করা দরকার।

Please follow and like us:

চমেক হাসপাতাল থেকে ৩ দালাল আটক

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ৩ জন দালাল আটক করেছে হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, শাহাদাত হোসেন (২৪), সুজন সিংহ (২৮), গোলাম কিবরিয়া (২৬)। তিন জনই বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাজ করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, আটককৃতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করেন। হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের ভুল বুঝিয়ে তাদের নির্ধারিত ল্যাবে নিয়ে রোগী হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন। আনসার সদস্যরা তাদের হাতানাতে মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে।

Please follow and like us:

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে খেতে পারেন সহজলভ্য এই খাবারগুলো

মানবদেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের নাম চোখ। বর্তমান সময়ে প্রায় মানুষকেই দেখা যায় চশমা পড়তে। বিশেষ করে আমাদের দেশে শিশু বয়সেই চোখে চশমা পরার হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে পরিচালিত সিচুয়েশন অ্যানালাইসিস অব ভিশন-২০২০ অনুসারে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ অন্ধ এবং ২১ দশমিক ৬ শতাংশ স্বল্প দৃষ্টিসম্পন্ন। এ ছাড়া প্রায় ১৫ লাখ শিশু চোখের নানা সমস্যায় ভুগছে।

তবে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সব উপাদানই আমাদের আশপাশে রয়েছে। আমরা যদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারি, তাহলে কিন্তু চোখের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে। আজকে আমরা এমন কিছু খাবার নিয়ে জানবো; যা আমাদের খুবই পরিচিত এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে অনেক বেশি সহায়ক। পাশাপাশি চোখের সৌন্দর্য বজায় রাখতেও এ খাবারগুলো ভূমিকা রাখে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহজলভ্য কয়েকটি খাবার

মাছ
স্ট্রং ও থিক আইল্যাশ প্রতিটা মেয়েই চায়, তাই না? ওমেগা-থ্রি ও প্রোটিন আমাদের চোখের ল্যাশের গ্রোথের জন্য একটি বেস্ট উপাদান। মাছ এমন একটি খাবার যা ওমেগা থ্রি ও প্রোটিনের একটি অন্যতম উৎস। তাছাড়া মাছে রয়েছে হাই প্রোটিন; যা আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই যদি চোখের সুস্থতা ও ঘন আইল্যাশের সুন্দর চোখ পেতে চান অবশ্যই আপনার খাদ্যতালিকায় মাছ রাখুন।

গাজর

নিশ্চয়ই ভাবছেন, গাজর খেয়ে চোখের জন্য কী এমন বেনিফিট পাবেন? ধরুন কোনো এক রাতের বেলা কারেন্ট নেই, আপনার বাসায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে যদি আপনি চোখের উপর খুব একটা চাপ না দিয়েই মোমবাতিটা খুঁজে পান, কেমন হয় তাহলে!! শুনতে একটু বোকা বোকা মনে হলেও এরকমটা কিন্তু আপনি সম্ভবত করতেই পারেন প্রতিদিন গাজর খাওয়ার মাধ্যমে। কেননা গাজরে আছে উচ্চ মাত্রার বেটা-ক্যারোটিন, যা মূলত একটি বিশেষ ধরনের ভিটামিন এ। এই ভিটামিন আমাদের চোখের অন্ধকারে দেখতে পাওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই অন্ধকারে দেখতে পাওয়ার মত সুপারপাওয়ার পেতে হলে প্রতিদিনের খাবারে গাজর রাখতেই হবে।

বাদাম

হাই প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবার সমৃদ্ধ বাদামকে পাওয়ার হাউস বললে খুব একটা ভুল হবে না! বাদামে রয়েছে বিভিন্ন হেলথ বেনিফিটস্। অলরাউন্ডার এই খাবারটিতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই; যা আমাদের আইল্যাশ ঝরে পড়া রোধ করে এবং ল্যাশ হেলথ মেনটেইন করে। এছাড়াও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে বাদামের জুড়ি মেলা ভার। নিয়মিত বাদাম খেলে আমাদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা আমরা সহজেই এড়িয়ে যেতে পারবো। তাই হুটহাট খিদে পেলেই অন্য কোনো খাবারের দিকে না ঝুঁকে বাদাম হতে পারে আমাদের কুইক স্ন্যাকস!

ডিম

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য বেস্ট ফুড নিয়ে বলতে গেলে নির্দ্বিধায় ডিমকে প্রথম সারির একটি খাবার বলা যায়। ডিমে রয়েছে ভিটামিন সি, ই ও লুটেইন নামক একটি রিচ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা আমাদের আইসাইটের জন্য ভীষণ উপকারী। ডিমে থাকা প্রোটিন আমাদের চোখের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; যা আমাদের আইল্যাশ লেন্থ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও ডিম ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স, জিংক, ফসফরাস ও সেলেনিয়ামের দারুণ একটি উৎস যা আমাদের আইল্যাশ স্ট্রং করে এবং নতুন আইল্যাশ গ্রো করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে আমাদের এক থেকে দুইটি ডিম খাওয়া উচিত।

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলুতে রয়েছে এমন সব পুষ্টি উপাদান; যা আমাদের চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। এতে আছে বিভিন্ন ধরনের উপকারী সব খনিজ উপাদান ও ভিটামিন। এই সমস্ত খনিজ উপাদান ও ভিটামিন আমাদের চোখের জন্য খুব উপকারী। মিষ্টি আলুতে রয়েছে ভিটামিন এ; যা আমাদের চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নাইট ব্লাইন্ড বা রাতকানা রোগ থেকে আমাদের চোখকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়াও এতে আছে পটাসিয়াম, সেলেনিয়াম, সালফার, কপার ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো কিছু খনিজ উপাদান, যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি যেমন বাড়ায়, একই সাথে আমাদের চোখের বিভিন্ন অ্যালার্জি-জনিত সমস্যার সমাধান করে।

Please follow and like us:

পাঠক প্রিয়