১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঝড়ের কবলে সারাদেশে ২০ জনের মৃত্যু

ঝড়ের কবলে পড়ে চট্টগ্রাম, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বিভিন্ন জেলার শতাধিক ঘরবাড়ি। ঘর ও গাছের নিচে চাপাপড়ে আহত হয়েছেন কয়েকশত লোক।

এ প্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত ভোলা, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলায় নিহতদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা গেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায় জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নে জঙ্গল ছলিমপুর গ্রামে ঝড়ে গাছের চাপায় ঘরের চাল ভেঙে মা ও শিশু নিহত হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাত তিনটার দিকে ওই গ্রামের লোকমানিয়াঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঘড়ে ঘর ভেঙে চাপা পড়ে ভোলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার দিকে তজুমদ্দিন উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন তজুমদ্দিন এলাকার নয়নের স্ত্রী রেখা বেগম(৩৫) এবং একই এলাকার মফিজের ছেলে মো. আকরাম হোসেন (১২)।

আহত ব্যক্তিদের তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ঘর ও গাছের নিচে চাপা পড়ে অনেক লোক আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছে।

ডিসি আরো জানান, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পরে প্রয়োজনে নিহতের পরিবারকে আরো আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি।

তবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভোলার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান এ জেলা প্রশাসন কর্মককর্তা ।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, দশমিনা উপজেলায় গতকাল রাতে ঝড়ে ঘর চাপা পড়ে নয়া বিবি (৫০) নামের এক নারী মারা গেছেন। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘর। নয়া বিবির বাড়ি উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুরের নিজারাবাদ গোপালদি গ্রামে।

দশমিনার মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সিকদার নজরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে উপকূলীয় এই উপজেলার গাছপালাসহ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

উপজেলা ঝড়ে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করা হচ্ছে।”

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিহত মায়ের নাম কাজল বেগম (৪৮)। ছেলের নাম মো. বেলাল হোসেন (১০)। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে কেউ যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়ার ভাষ্য, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানুর’ কারণে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই এলাকার সব বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়। রাত একটার দিকে কয়েকটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে চলে যায়। ঝড়ে কাজল বেগমের টিনশেড ঘরের ওপর বড় একটি গাছ আছড়ে পড়ে। এতে ঘরের চাল ভেঙে পড়ে তিনি ও তার ছেলে মারা যান।

নাজমুল বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথটি পাহাড়ি ও পিচ্ছিল হওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছতে দেরি হচ্ছে। তবে তারা ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ সংবাদ