ওয়ানডে এবং টি ২০-তে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে অবশেষে বোলারদের কিছুটা স্বস্তি দিল আইসিসি। বার্বাডোজে আইসিসির বৈঠকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে, প্রথম ১০ ওভারে ৩০ গজের বাইরে থাকা ফিল্ডারদের সংখ্যা এবং নো বলের নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। আর এই পরিবর্তনগুলির ফলে ব্যাটসম্যানদের একচেটিয়া দাপটে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন বোলাররা।

টি ২০-র যুগে পঞ্চাশ ওভারের ওয়ান ডে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিল বলে দাবি করছিল সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যান। ওয়ানডে দর্শককে আরও মাঠমুখি করতে আগেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। শুরু হয় ব্যাটিং পাওয়ারপ্লে থেকে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে ফিল্ডার সংখ্যা কমানোর বিভিন্ন নিয়ম। এই সব সিদ্ধান্তই ছিল ব্যাটসম্যানদের পক্ষে। এ বার সেই নিয়মগুলি কিছুটা বদলানোর সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি।

মাস খানেক আগে মুম্বইতে অনিল কুম্বলের নেতৃত্বে বৈঠকে বসেছিল আইসিসি ক্রিকেট কমিটি। সেই বৈঠকে যে সুপারিশগুলি করা হয়, শনিবার বার্বাডোজে আইসিসির সভায় সে গুলিকেই মেনে নেওয়ার কথা জানালেন চিফ এক্সিকিউটিভ ডেভ রিচার্ডসন।

ঠিক কী পরিবর্তন করা হল?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওয়ানডের প্রথম দশ ওভারে ৩০ গজের বৃত্তের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিল্ডার রাখতে হবে না। পাশাপাশি ১৫ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে কোনও ব্যাটিং পাওয়ার প্লে থাকছে না। ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে থাকতে পারবেন পাঁচ ফিল্ডার। একই সঙ্গে নো বলের নিয়মেও আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। এত দিন পর্যন্ত শুধুমাত্র ওভারস্টেপিংয়ের জন্য নো বলেই ফ্রি হিট পেতেন ব্যাটসম্যানরা। এ বার থেকে যে কোনও ধরনের নো বলেই ফ্রি হিট পাবেন তাঁরা। এবং এই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে ওয়ানডে এবং টি ২০ দুই ফর্ম্যাটেই। প্রথম তিনটি সিদ্ধান্ত বোলারদের পক্ষে গেলেও শেষটি একেবারেই ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে কার।

বৈঠক শেষে রিচার্ডসন বলেন, “ক্রিকেটকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে পরীক্ষা করছি আমরা। ২০১৯ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ওয়ানডের নিয়মে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। নিয়মগুলি ৫ জুলাই বা তার পর থেকে শুরু হওয়া সিরিজ থেকে চালু হবে।”

বৈঠকে সরকার মনোনিত শ্রীলঙ্কার নতুন বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আইসিসির তরফে। পাশাপাশি খারিজ করা হয়েছে আমেরিকার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে।